ঢাকা রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের বয়স্ক ভাতা পাইয়ে দিলেন সমাজকর্মী

গোপালগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৫ অক্টোবর, ২০২০, ১১:৩১ এএম

গোপালগঞ্জে সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজকর্মী সরকারী নীতি মালা লংঘন করে পরিবারের অসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের বয়স্কভাতা পাইয়ে দিয়েছে। কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট ও মাহমুদপুর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজকর্মী ও ভাতা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব চঞ্চলা রানী বণিকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী মাহদী হাসান গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, চঞ্চলা রানী বণিক তার শ^শুর ৬৪ নং মাহমুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রিয়নাথ দাস, চাচা শ^শুর রামদিয়া সরকারি এস. কে কলেজের দর্শন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর সুশীল কুমার দাস ও নিকটাত্মীয় অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য পরিদর্শক অখিল বিশ^াসকে বয়স্ক ভাতার কার্ড পাইয়ে দিয়েছেন। ভাতাপ্রাপ্ত তিনজনই একই বাড়ির বাসিন্দা। তারা আর্থিকভাবে অত্যন্ত স্বচ্ছল। ভাতাপাপ্তদের স্ত্রী ও ছেলেরা সরকারি চাকরি করেন। ২০১৮ সালের জুলাই মাস থেকে তারা সরকারি ভাতার টাকা পাচ্ছেন। চঞ্চলা রানী বণিক তথ্য গোপন করে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার অবসরপ্রাপ্ত সরকারী চাকরিজীবী আত্মীয়-স্বজনদের নামে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিয়েছেন। এতে ওই ইউনিয়নের প্রকৃত প্রবীণরা ভাতা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকরা অভিযোগ করে বলেন, ‘চঞ্চলা রানী বণিক স্বজনপ্রীতি ও ভাতার সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অবসরপ্রাপ্ত সরকারী চাকরিজীবীদের ভাতা প্রদান করেছেন। এখন এ দায় তিনি নিতে চাইছেন না। তারা এ ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।’
এ ব্যাপারে চঞ্চলা রানী বণিকের সাথে কথা হলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, ভাতার কার্ড দেয়ার দায়িত্ব ইউপি চেয়ারম্যানের। কিভাবে এ কার্ড ইস্যু হয়েছে, তা আমি জানিনা। এতে সরকারি নীতিমালা লংঘন করা হয়েছে। আমার স্বজনরা স্বচ্ছল ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী। তারা ভাতা পাওয়ার উপযুক্ত নয় মন্তব্য করে ইউনিয়ন ভাতা প্রদান কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে চঞ্চলা রানী বণিক তার দায় দায়িত্ব এড়িয়ে ইউপি চেয়োরম্যানের ওপর দোয়ারোপ করেন।
মাহামুদ ইউপি চেয়ারম্যান ও ভাতা কমিটির সভাপতি মো: মাসুদ রানা বলেন,‘আমরা যাচাই-বাছাইয়ের সময় ইউনিয়নব্যাপী সমাজসেবা অধিদপ্তর মাইকিং করেছিলো । নামেমাত্র ইউনিয়নে যাচাই বাছাই কমিটি আছে। এতে গত ২ বছর ধরে আমাদের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। কোন সমন্বয় নেই। কাগজপত্র তারাই নেয়। সব কাজ সমজসেবা অফিস করে। যাচাই বাছাই কমিটির সদস্য সচিব চঞ্চলা রানী বণিক সমাজসেবা অফিসেই চাকরি করেন। তিনি এ দায়িত্ব এড়াতে পারেননা। সব কিছু ছ’ড়ান্ত হওয়ার পর সমাজসেবা অফিস আমাকে স্বাক্ষর করতে অনুরোধ করে আমরা স্বাক্ষর করে দেই । আগে সমাজসেবা অফিস আমাদের নিয়ে এ কাজ করতো। এখন তারা আমদের পাশ কাটিয়ে কাজ করে। ’
কাশিয়ানী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এম এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন,‘এ ঘটনায় ভাতার টাকা ফেরত দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। কোন প্রেক্ষাপটে ওই ৩ জনকে ভাতা দেয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে পারবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। ’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন