ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

এশিয়ার অসুখে পরিণত হয়েছে ভারত

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০০ এএম

ভারতের অর্থনীতি, করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা, বিদেশনীতি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং গণতন্ত্র, সবকিছুই বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে একটি স্থিতিশীল শক্তি হিসাবে দেশটির বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীন হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ভারতীয় অর্থনীতি একটি ঐতিহাসিক পতনের মধ্য দিয়ে চলছে যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর এবং দীর্ঘতম লকডাউন চাপিয়ে দেয়ার পরেও নয়াদিল্লি কাক্সিক্ষত ফলাফল পেতে ব্যর্থ হয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে লাখ লাখ জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং খুব শিগগিরই সেখানে বিশ্বের সর্বোচ্চ করোনা সংক্রমণের রেকর্ড ঘটতে চলেছে।

পাশাপাশি, ভারতের হিমালয় সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। লাদাখ অঞ্চল নিয়ে চীনের সাথে ৫ মাসেরও বেশি সময়ের সঙ্ঘাত ভারতের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। এ জটিলতা মোদি সরকারের কৌশলগত জ্ঞানকেও তীব্রভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশটি প্রতিবেশীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও খুব একটা সন্তোষজনক নয়। দেশটির সামাজিক ও ধর্মীয় বিভেদ সর্বকালের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছে। এর সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি কাশ্মীরকে একঘরে করে দিয়েছে এবং ভারতের সংখ্যালঘু এবং উদারপন্থীরা নিপীড়িত বোধ করছে। সরকার বিরোধী আওয়াজ এবং রাজনৈতিক বিরোধী এবং গণমাধ্যমের ওপর প্রকাশ্য আক্রমণ ভারতের গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করে দিয়েছে।

আজ ভারত এমন পরিবেশ বিরাজ করছে, যেখানে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বৈচিত্র্যকে প্রকাশ্যে খর্ব করা হয় এবং ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে আপত্তি তোলা হয়। ভারতের এ বহুবিধ সঙ্কট দেশটির টেলিভিশন বিতর্ক এবং গণমাধ্যমের আলোচনাগুলি থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। বরং, গণমাধ্যমের একটি সরব অংশ জনগণকে বিষয়গুলো থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে এবং মোদি সরকারের তথাকথিত ভাবমর্যাদা রক্ষার জন্য দেশটিকে এমন সঙ্কটময় অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। ভারতের ক্ষমতাসীনদের আদর্শিক ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা মিডিয়ার একটি অংশ বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যা নিয়ে ষড়যন্ত্র করে প্রতিদিন তার মৃত্যু নিয়ে নতুন তত্ত¡ তৈরি করে জনগণের কল্পনাশক্তিতে এক নতুন ভিলেন রোপণ করছে এবং জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করে ভারতের মূল সঙ্কটগুলি থেকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে রাখছে।

রাজপুতের মৃত্যু বৈচিত্র্যের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রবক্তা বলিউডকে আক্রমণ করার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির কট্টর হিন্দুবাদী চিন্তাধারার সাথে তাল মিলিয়ে চলচ্চিত্র জগতকেও প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা চলছে। পরিস্থিতির বিশ্লেষণ বলেছে যে, ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুজাতিক ডিএনএ ভেঙে ফেলার জন্য একটি বিশাল যজ্ঞ চলছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, জনপ্রিয় জুয়েলারী ব্র্যান্ড তানিশ্ককে আন্তঃসাম্প্রদায়িক বিবাহের ওপর চিত্রিত একটি বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়েছে। বিজ্ঞাপনটির বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রতিক্রিয়া এতটাই প্রবল হয়েছিল যে, ব্র্যান্ডটি কেবল ৪৫ সেকেন্ড দীর্ঘ শর্ট ফিল্মটি প্রত্যাহার করেই পার পায়নি, ক্ষমাও চেয়েছে। এসব ঘটনা দেখায় যে, বিজেপির তৈরি করা রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যবস্থা ভারতের বৈচিত্র্যময়তার ওপর এমন একটি প্রকাশ্য আক্রমণকে একটি সাধারণ ব্যাপারে পরিণত করেছে।

মোদি সরকার স্বতন্ত্র এনজিগুলিরও স্বাধীন মতামত ও সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রম পরিচালনার পথ পুরোপুরি রুদ্ধ করে দিয়েছে। অতি সম্প্রতি, বিজেপি সরকার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করে দিয়ে ভারতে সংস্থাটির কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য করে। অধিকন্তু, সমালোচক ও বিজেপি বিরোধীদের গ্রেফতার এবং আটক রাখা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিরোধের সঙ্কোচনে প্রতীয়মান হয় যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার করোনা মহামারি মোকাবেলায় পুরোপুরি মনোনিবেশ করছে না, বা ভারতের অর্থনৈতিক ভাগ্য পুনরুদ্ধারে আগ্রহী নয়। উল্টো, মোদি তার রাজনৈতিক কর্মসূচি আরও এগিয়ে নেয়ার অজুহাত হিসাবে করোনা মহামারিকে ব্যবহার করে চলেছেন।

বিষয়গুলো এতটাই মারাত্মক আকার ধারণ করেছে যে, বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের সংস্থা অস্ট্রিয়াভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউট (আইপিআই) এবং বেলজিয়ামভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ জার্নালিস্ট্স (আইএফজে) প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ভারতে সাংবাদিকদের হুমকি দেয়া এবং চুপ করিয়ে দেয়ার জন্য কঠোর রাষ্ট্রদ্রোহ আইন এবং অন্যান্য আইনি ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করে প্রবীণ ভারতীয় সাংবাদিক হরিশ খারে সম্প্রতি লিখেছেন যে, ভারতীয় রাজনীতি ৭০ দশকের মাঝামাঝি সময়ের তৃতীয় বিশ্বের একটি কট্টর স্বৈরাচারে পরিণত হচ্ছে। দেশটির বর্তমান শাসকের এ ভান করা বন্ধ করা উচিত যে, দেশটি একটি উচ্চাভিলাষী বিশ্বনেতা হতে পারে। সূত্র : ডন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (13)
Md Sador Uddin ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ২:১২ এএম says : 0
ধর্মীয় বিদ্ধেষের কারণেই আজ ভারতের এই করুণ অবস্থা
Total Reply(0)
হেদায়েতুর রহমান ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ২:২৫ এএম says : 0
শুধু এশিয়ার নয়, সারা বিশ্বের অসুখে পরিণত হয়েছে ভারত
Total Reply(0)
পারভেজ ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ২:২৬ এএম says : 0
অচিরেই ভারত ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে।
Total Reply(0)
নাজিম ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ২:২৭ এএম says : 0
বিজেপি সরকার সরকার আরও কিছু দিন থাকলে ভারতের পতনের জন্য আর কাউকে দরকার হবে না
Total Reply(0)
জসিম ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ২:২৯ এএম says : 0
সরকার বিরোধী আওয়াজ এবং রাজনৈতিক বিরোধী এবং গণমাধ্যমের ওপর প্রকাশ্য আক্রমণ ভারতের গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করে দিয়েছে।
Total Reply(0)
salman ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ৫:৩১ এএম says : 0
Allah'r ZAMIN a Allah'r Ghor MOSJID Vanga & Nireho Muslim vai, Bon der Hottar Bodla Mohan Allah (SWT) Niben na?? Of Course Niben. Cow Gu+MUT khor raa akta NESTY Jati. Ara DHONGSHO hok.
Total Reply(0)
মুহাম্মদ ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ৫:৫৫ এএম says : 0
শাইখুল আরবে ওয়াল আযম আওলাদে রসুল হুসাইন আহমদ মাদানী রহ ৭০ বছর আগে বলেছিলেন পাকিস্তান ‌দুই ভাগে আর ভারত সাত ভাগে বিভক্ত হবে ।
Total Reply(0)
habib ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ১২:৫১ পিএম says : 0
India is a common enemy of Muslim world
Total Reply(0)
mujib ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ৭:৩৪ এএম says : 0
India is the enemy of peace and prosperity of Asia.
Total Reply(0)
আবদুল নাইম ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ৭:৫৩ এএম says : 0
নিজেকে দাদা মনে করে। অন্যকে সম্মান দিতে কুণ্ঠাবোধ করে।
Total Reply(0)
maraz ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০৫ পিএম says : 0
শয়তান মুূদি ধংষ হোক
Total Reply(0)
md. Abu Raihan ২৯ অক্টোবর, ২০২০, ২:৪৭ পিএম says : 0
ইন্ডিয়াএশিয়ার এসুখ এ পরিনত হয়েছে।
Total Reply(0)
Mosharaf Mojumder ২ নভেম্বর, ২০২০, ১২:৪১ এএম says : 0
কট্টর হিন্দুত্ববাদ আর সাম্প্রদায়িক চেতনার কারনেই আমাদের প্রতিবেশী ও তথাকথিত বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের এই অবস্থা।এই দেশটির সাথে আমাদের কোন দিকেই মিল নেই।সমাজ,সংস্কৃতি,আদর্শ,নৈতিকতা...কোনো কিছুতেই মিল নেই।তবুও এরা নাকি আমাদের বন্ধ!শত বছরের বাবরি মসজিদ ওরা ভেঙ্গে দিলো,সেই স্থানে নির্মিত হচ্ছে রাম মন্দির????।কাশ্মীরি মুসলিমদের অধিকার হনন করা হয়েছে।'গুজরাটের কসাই'খ্যাত মুদি এই সবের নাটের গুরু..।আল্লাহর কাছে প্রার্থনা,ধ্বংস হোক মুদি।হে পৃথিবীর সকল মুসলমানদের আপনি হেফাজত করুন,আমিন।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন