ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

কেরানীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর আমিন হত্যার রহস্য উদঘাটন আটক ৪

প্রকাশের সময় : ২৭ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

কেরানীগঞ্জ উপজেলা সংবাদদাতা
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার ব্যক্তিগত অফিসের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম আমিন হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে বলে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে পুলিশ দাবি করেছেন। হত্যাকা-র ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ ঘাতককে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলো- মোঃ শফিকুল ইসলাম ওরফে অরন্য (২৫), মৌসুমী ইসলাম জোস্না (৪০), শিউলি বেগম (২৮) ও মেহজাবীন ইসলাম মুন (১৮)।
গতকাল (শুক্রবার) সকাল ১১টায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিস কক্ষে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম সাংবাদিক সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর আমিন হত্যার রহস্য উদঘাটনের বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে জানান, নিহত আমিনুল ইসলাম আসামী শফিকুল ইসলাম অরন্যের স্ত্রী মেহজাবীন ইসলাম মুনের বিয়ের পূর্বে তার গৃহ শিক্ষক থাকার সময়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ঘটনাটি তিনি ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে জিম্মি করে অরন্যের স্ত্রী মুনকে অনেকবার ধর্ষণ করে। ঘটনাটি মুনের মা জোস্না জানতে পেরে আমিনকে তা করতে নিষেধ করে। কিন্তু আমিন একইভাবে জোস্নাকেও জিম্মি করে ধর্ষণ করে। আসামী অরন্য এ সব ঘটনা জেনেশুনেই মুনকে বিয়ে করে। বিয়ের পরেও আমিন মুনের আগের ভিডিও ইন্টারনেটে প্রচার করার হুমকি দিয়ে মুন ও মুনের বোনকে অনৈতিক দৈহিক মেলামেশার প্রস্তাব দেয়। এ অবস্থা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য অরন্য, স্ত্রী মুন ,শাশুড়ি জোস্না, খালা শাশুড়ি শিউলি একত্রে জোস্নার ভাড়া বাসায় বসে আমিনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। গত ১৯ আগস্ট রাত ৯টায় জোস্না ও শিউলি বেগম কদমতলী থানার মুরাদপুর আমিনের বাসায় গিয়ে মুনের সাথে দেখা করানোর কথা বলে আমিনকে ধোলাইপাড় সরকার পাম্পের সামনে ডেকে আনে। পরে রাত সাড়ে দশটায় তারা আমিনকে একটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মুজাহিদ নগরের দিকে নিয়ে আসে। এ সময় আসামী অরন্য একটি মোটরসাইকেলযোগে পিছন দিক থেকে তাদের অনুসরণ করতে থাকে। জোস্না ও শিউলি বেগম আমিনকে সাথে নিয়ে বাবুপাড়ায় মুজাহিদ নগরের পাকা রাস্তা দিয়ে হাঁটতে থাকে। একপর্যায়ে অরন্য পিছন দিক থেকে আমিনের ঘারে চাকু দিয়ে আঘাত করে। এতে আমিন দৌড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তারা সবাইমিলে তাকে ধরে ফেলে এবং গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায় ।
তবে নিহতের স্বজনদের দাবি অর্থের লেনদেনের বিষয় নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে আমিনকে হত্যা করা হয়েছে। গত ২০ আগস্ট শনিবর দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মুজাহিদ নগর এলাকা থেকে আমিনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন