ঢাকা, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮, ০২ যিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

রূপগঞ্জে তাবিজ তৈরিতে নির্ভরশীল ৫শ’ পরিবার

মো. খলিল সিকদার, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) থেকে : | প্রকাশের সময় : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১২:০০ এএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুশুরী, দক্ষিণবাগ ও ভিংরাবো গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই তাবিজ তৈরির কাজের সঙ্গে জড়িত। প্রাচীন কালের পেশাটি এখনো ধরে রেখেছেন তারা। বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও এখনো তারা পুরনো সেই পেশায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। এ তিনটি গ্রামের প্রায় ৫শ’ পরিবার এ পেশার সঙ্গে জড়িত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। তাবিজ তৈরির কাজে নারী-পুরুষদের পাশাপাশি শিশু-কিশোররাও জড়িত। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশু-কিশোররা এ কাজে ব্যস্ত সময় কাটায়। নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয় এ তাবিজ। তাবিজ সাধারণত বিভিন্ন ঝাড়-ফুঁসহ বিভিন্ন কাজে লেগে থাকে।
জানা যায়, তাবিজ সাধারণত ঝাড়-ফুকসহ বিভিন্ন কাজে লেগে থাকে। প্রতি মাসে এক একটি পরিবার প্রায় ৬ থেকে ৮ হাজার তাবিজ তৈরি করেন। সে হিসেবে ওই তিনটি গ্রামে তাবিজ তৈরি হয় প্রায় ৩০ লাখ। এ সকল তাবিজের আবার বিভিন্ন প্রকার আঞ্চলিক নামও রয়েছে যেমন-সাম্বু, বাম্বু, পাই, বড় মাজলা, ছোট মাজলা, মস্তুলসহ প্রায় অর্ধশত নাম। সরেজমিনে গিয়ে তাবিজ তৈরির কারিগরদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
বিভিন্ন প্রকার ও বিভিন্ন ধরনের তাবিজ রয়েছে। এর মধ্যে লোহার তাবিজের মূল্য সবচেয়ে কম। এ ছাড়া পিতল, রুপা ও স্ব^র্ণের তাবিজ আলাদা অর্ডারের মাধ্যমে তৈরি করেন তারা। তাদের তৈরি তাবিজ বিক্রি করা হয় হাজার অথবা শতক হিসেবে। এ পরিবারগুলো প্রতিমাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকার তাবিজ তৈরি করেন। তাবিজ সাধারণত দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাসহ বিদেশে রফতানি করা হয়ে থাকে।
তাবিজ তৈরির কারিগর শহিদুল ইসলাম জানান, যুগ যুগ ধরে তাদের বাপ-দাদারা এ পেশায় জড়িত ছিল। তাই তারাও এ পেশাটি ধরে রেখেছেন। তাবিজ তৈরি করে কারিগররা অনেকটা লাভের মুখে রয়েছেন। তবে পুজির অভাবে তারা তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারছে না। সরকারিভাবে সহজ শর্তে ঋণ পেলে এ পেশাটাকে আরো লাভজনক অবস্থায় নিয়ে যেতে সম্ভব হবে।
নুরুল হক নামে এক তাবিজ কারিগর জানান, আমাদের তৈরি তাবিজ কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, ব্রা²ণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে তাবিজ কিনে নিয়ে যায়। পাইকাররা প্রতি মাসের শেষের দিকে এসে তাবিজ কিনে নিয়ে যায়। কখনো কখনো আমরাও নরসিংদী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন হাঁটে গিয়ে তাবিজ বিক্রি করে আসি। গৃহবধূ শিরিনা বেগম জানান, তিনি ঘরের কাজের পাশাপাশি অবসর সময়ে তাবিজ তৈরি করেন। এতে করে তার সংসারে বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা হচ্ছে। তাবিজ তৈরিতে ভালো আয় হওয়ায় তিনি তার স্বামীর পাশাপাশি সংসার চালাতে অবদান রাখছেন। তার অর্জিত বাড়তি আয় দিয়ে স্বপ্ন দেখছে একমাত্র ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার।
ফোনে কথা হয় তাবিজের পাইকার অভিলাস দাসের সঙ্গে তিনি বলেন, আমরা এ গ্রামগুলো থেকে মাসের শেষে এসে তাবিজ কিনে নিয়ে যাই। এ তাবিজ ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে বিক্রি হয়ে থাকে। এ ছাড়া ভারত ও পাকিস্তানে তাবিজের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বিদেশেও রফতানি করা হচ্ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। তাবিজ কেনার জন্য কখনো কখনো কারিগরদের মাসের শুরুতে আগাম টাকা দিয়ে দিতে হয়। সরকারি সুযোগ সুবিধা পেলে তাবিজ শিল্প আরো এগিয়ে যাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ নূসরাত জাহান জানান, এ তিনটি গ্রামের অনেকেই তাবিজ তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন শুনেছি। এখন তাবিজ তৈরির শিল্পটা টিকিয়ে রাখতে কারিগরদের সঙ্গে কথা বলা হবে। এ ছাড়া কথা বলে তাদের কি কি সুযোগ-সুবিধা দেয়া যায় সে ব্যপারেও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন