ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮, ২৮ রমজান ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

আক্রান্ত বেশি যুবক, মৃত্যু বেশি বৃদ্ধ

দেশের করোনার চালচিত্র

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৮ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০২ এএম

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৭ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় চার লাখই যুবক। করোনায় আক্রান্ত এই যুবকদের বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। আর এ পর্যন্ত যে ১০ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় রোগে মারা গেছেন, তাদের ৮ হাজারের বেশির বয়স পঞ্চাশের উপরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুবকরা বাইরে বের হচ্ছে বেশি, তাই সংক্রমিতও বেশি হচ্ছে। আর নানা শারীরিক জটিলতার কারণে বয়স্কদের মৃত্যুর হার বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে ২০২০ সালের মার্চে প্রাদুর্ভাবের পর ২০২১ সালের গত গত শুক্রবার পর্যন্ত করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছেন ৭ লাখ ১১ হাজার ৭৭৯ জন। আর গতকালের মারা যাওয়া ১০১ জনসহ মোট মারা গেছেন ১০ হাজার ১৮২ জন।

জানতে চাইলে আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, সারাবিশ্বেই বয়স্কদের মৃত্যুর হার বেশি। যাদের কোমর্বিডিটি থাকে, তারা করোনাভাইরাসে বেশি সাফার করে এবং তাদের মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি। বাংলাদেশে বয়স্কদের অনেকেই জানেই না তার ডায়াবেটিস আছে, হাইপারটেনশন আছে। এ কারণে আক্রান্ত হওয়ার পর বাসায়ই জটিলতা তৈরি হয়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর আসলে কিছু করার থাকে না।

সরকারের রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্তদের সবচেয়ে বেশি ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশের বয়স ২১ থেকে ৪০ বছর। সংখ্যার হিসাবে তা ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৪ জন। এদের মধ্যে ২৭ দশমিক ৬ শতাংশের (১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫) বয়স ২১ থেকে ৩০ বছর। ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ২৭ দশমিক ১ শতাংশ বা ১ লাখ ৯০ হাজার ৫৫৯ জন।
শনাক্ত রোগীদের ২ দশমিক ৯ শতাংশের বয়স ১০ বছরের কম। ১১ থেকে ২০ বছর বয়সের ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সের ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সের ১১ দশমিক ২ শতাংশ এবং ষাটোর্ধ্ব ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষই ৮০ দশমিক ৮৯ শতাংশ (৮ হাজার ১৫৫ জন)। মোট মৃত্যুর ৫৬ দশমিক ২৯ শতাংশ (৫ হাজার ৬৭৫ জন) বয়স ৬০ বছরের বেশি।
বয়স্কদের বেশি মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের এই পরিচালক ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, যারা মারা যাচ্ছেন, তাদের অধিকাংশের বয়স যেমন ৬০ এর বেশি, ঠিক তেমনি অধিকাংশের কিন্তু একাধিক রোগ রয়েছে। ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের কথা না বলে আমরা যদি বলতাম, যেসব মানুষের শরীরে প্রতিরোধী ব্যবস্থা কমে গেছে এবং অন্যান্য রোগ যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, ব্রঙ্কিওল অ্যাজমা রয়েছে এবং একইসাথে শরীরের প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কিছুটা কমে গেছে, সেই মানুষগুলোই বেশি মারা যাচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টা ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, কম বয়সে শরীর চর্চার মতো অভ্যাসগুলো না থাকায় বয়স্করা বেশি মারা যাচ্ছেন করোনাভাইরাসে। আমরা শরীর চর্চা করি না। শরীরচর্চা করলে শক্তিমত্তা বেড়ে যায়, অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো ভালো থাকে। সেটা আমাদের দেশে খুব কম হয়। অনেক দেশ আছে যেখানে ৬০ বা তার বেশি বয়সে জটিল রোগ হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে দেখা যায়, ৩০ বছরের পরেই বহু মানুষই উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসে ভুগছে। অনেকে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে অপেক্ষাকৃত কম বয়সে। তিনি আরো বলেন, দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে অপেক্ষাকৃত তরুণরা যে বেশি সংক্রমিত হচ্ছে। তরুণদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বেশি। তার মানে তারা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে তাদের মৃত্যুহার কম।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন