ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

স্বাস্থ্য

ডায়াবেটিক মায়ের নবজাতক সন্তান

প্রকাশের সময় : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

গর্ভবতী মায়ের যদি ডায়াবেটিস থাকে তবে বাচ্চার উপর কিছু ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। এই মায়েদের রক্তের গ্লুকোজ ঠিক রাখা খুবই জরুরি। মায়ের নিজের সমস্যার মধ্যে রয়েছে গর্ভাশয়ে অতিরিক্ত পানি আসা, প্রাক-এক্লাম্পসিয়া, কিডনিতে পুঁজ জমা, উচ্চ রক্তচাপ প্রভৃতি। আর গর্ভের বাচ্চার মৃত্যু আশঙ্কা বেড়ে যায় কয়েকগুণ, কিংবা জন্মগ্রহণ করতে পারে বিভিন্ন বিকলঙ্গতা নিয়ে।
আমরা যারা শিশু চিকিৎসক, একটু বড় কিংবা বেশি ওজনের সদ্যভূমিষ্ঠ বাচ্চা দেখলেই মায়ের ডায়াবেটিস আছে কিনা সন্দেহ করি। যদিও কোন বাচ্চার ওজন কম বা বেশি বলার আগে নির্দিষ্ট কিছু মাত্রা অনুসরণ করা লাগে। অবশ্য স্বাভাবিক বা কম ওজন নিয়েও এসব বাচ্চা জন্মগ্রহণ করতে পারে। এদের মুখ একটু ফোলা ধরনের, আর চামড়া একটু পুরু থাকতে পারে। কোন কোন বাচ্চা খুব কম্পমান, অস্থির কিংবা ছটফটে হয়, আবার নেতানো, দুর্বল বাচ্চাও হতে পারে।
প্রথম দুএকদিন ডায়াবেটিক মায়ের বাচ্চারা শ্বাসকষ্ট নিয়েও আসতে পারে। রক্তের গ্লুুকোজ কমে যাওয়া, সারা শরীর ঠা-া হয়ে যাওয়া, রক্তের কোষাধিক্য, হার্ট ফেইলার, মস্তিষ্কে পানি জমা এসবও থাকতে পারে। আমরা সাধারণত একটা কথা বলে থাকি যে, ডায়াবেটিক মায়ের বাচ্চার মাথা থেকে পা পর্যন্ত যেকোনো অঙ্গে ত্রুটি থাকতে পারে। মাথা বড় থাকার জন্য জন্মের সময় আঘাতজনিত সমস্যাও এর সাথে যুক্ত হয়। হৃৎপি-ে সমস্যার মধ্যে ছিদ্র, ভাল্বে ত্রুটি কিংবা ভিতরের পর্দা পুরু কিংবা স্থানান্তর হয়ে যাওয়ার মত সমস্যা পাওয়া যায়। এই বাচ্চাদের জন্ডিসের মাত্রা আশঙ্কাজনক মাত্রায় বেড়ে যায়। কিডনির রক্তের নালী সঙ্কুচিত হয় এবং মুত্রের সাথে রক্তও দেখা যায়। কিডনিতে পানিও জমতে পারে। এমনকি কিডনি নাও থাকতে পারে। এছাড়া মেরুদ-ে অপূর্ণ বৃদ্ধি হয়ে প্রচ- সমস্যা হতে পারে। একটি স্নায়ু নালী আমাদের মস্তিষ্কের বৃদ্ধি এবং পরিপূর্ণতায় ভূমিকা রাখে। এই বাচ্চাদের স্নায়ু নালী বিকাশে প্রচ- বিচ্যুতি ঘটে, যার পরিণতিতে স্নায়ুতন্ত্রে জীবনঘাতী সমস্যার সৃষ্টি হয়। পরিপাকতন্ত্রে সমস্যার মধ্যে অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে অপূর্ণ গঠন, বিলম্বিত গঠন কিংবা আদৌ অনুপস্থিতিও থাকতে পারে।
গর্ভবতী কোন মায়ের ডায়াবেটিস হলে কিংবা আশঙ্কা থাকলেও তাদের নিয়মিত চেক-আপ, গ্লুকোজ নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখতে একটু বেশি যতœ নেওয়া, বিশেষ কিছু পরীক্ষা করে মা এবং গর্ভের বাচ্চা দুজনের পর্যবেক্ষণ খুবই জরুরি। জন্মের পরই যেকোনো ডায়াবেটিক মায়ের নিবিড় পরিচর্যা করা উচিত। কিন্তু আমাদের দেশে সবার ক্ষেত্রে এটা সম্ভব না হলেও একটু নির্দিষ্ট সময়ে সময়ে রক্তের গ্লুকোজ পরিমাপে কোনভাবেই ভুল হওয়া উচিত নয়।
পরবর্তী জীবনে এই বাচ্চাগুলোর ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া স্থূলতাও একটি সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। তাই কোনভাবেই গর্ভবতী মায়ের ডায়াবেটিস নিয়ে অবহেলার সুযোগ নেই।

ডাঃ আহাদ আদনান, সহকারী রেজিস্ট্রার, আইসিএমএইচ, মাতুয়াইল, ঢাকা। ০১৯১২২৪২১৬৮।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন