শুক্রবার, ০৬ আগস্ট ২০২১, ২২ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৬ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

ফটিকছড়িতে যুবকের জবাই করা লাশ উদ্ধার

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৮ জুন, ২০২১, ১০:১৫ পিএম

ফটিকছড়িতে এক যুবকের জবাই করা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৭ জুন) রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ কাঞ্চননগর ইউপির ১নং ওয়ার্ডের ঝরঝরি এলাকার বাহাদুর সর্দারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলমগীর (৩৫) পাইন্দং ইউপির ৮নং ওয়ার্ডের লুলু চৌধুরী বাড়ির ইদ্রিস মিয়া বাহাদুর পুত্র।

জানা যায়, আলমগীরের বাড়ি পাইন্দং হলেও ঝরঝরি এলাকায় রয়েছে তাদের একটি খামার বাড়ি। এ খামার বাড়িতে একমাত্র স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করে সে। স্ত্রী বাপের বাড়ি বেড়াতে যাওয়ায় সোমবার ঘরে একাই ছিল আলমগীর। এরিমধ্যে হঠাৎ করে রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজেদের বাগানের খোঁজ-খবর জানতে খামারে যায় ছোট ভাই রাসেল। সে ঘরে ঢুকে দেখতে পায় বড় ভাই আলমগীর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এ অবস্থা দেখে রাসেল চিৎকার দিলে পার্শ্ববর্তীরা এগিয়ে এসে আলমগীরকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নিহত আলমগীরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক জখম রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আলমগীরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার সময় ঘরের সিঁড়িতে একটি রক্ত মাখা কুড়াল দেখা গেলেও কিছুক্ষণ পর সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় নিহতের পিতা ইদ্রিস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দায়ের করেছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘর থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। কী কারণে এ হত্যাকান্ড হয়েছে, তা জানবার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

ঘটনার ব্যাপারে পরিবার ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পাইন্দংয়ে পৈত্রিক বাড়ি হলেও দীর্ঘকাল ধরে সপরিবারে খামার বাড়িতে বসবাস করে আসছিল ইদ্রিস মিয়া বাহাদুর। চার বছর পূর্বে কাঞ্চননগর ইউপির খান মুহাম্মদ বাড়ির জানে আলমের মেয়েকে বিয়ে করে তার মেঝ ছেলে আলমগীর। বিগত দু'বছর পূর্বে বড় ও মেঝ ছেলেকে খামার বাড়িতে রেখে নিজ গ্রাম পাইন্দং ইউপির বেড়াজালীতে চলে যায় পিতা ইদ্রিস। সেখানে দু'পুত্রবধূর মধ্যে ঝগড়া হলে বড় বউকে বাপের বাড়ি সুন্দরপুরে থাকতে বলে ইদ্রিস। এরপর থেকে ওই খামার বাড়িতে একমাত্র স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করে আসছিল নিহত আলমগীর। পার্শ্ববর্তী টিলায় থাকে আলমগীরের বোন ও ভগ্নীপতি। এরমধ্যে বিগত আটমাস পূর্বে ছাগলে জমির ধান খাওয়া নিয়ে ভগ্নীপতির সাথে আলমগীরের কথা কাটাকাটি হয়।

জানা গেছে, বাগানের দখলদারিত্ব ও গাছের ফলমূল নিয়ে প্রায় সময় বাপ-ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটি হতো। ৪ জুন শুক্রবার পিতা ইদ্রিস স্থানীয় নয়াবাজারে আলমগীরকে ত্যাজ্যপুত্র করবেন বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর কয়েকদিনের মাথায় নৃশংসভাবে খুনের স্বীকার হন আলমগীর।

এদিকে, আলমগীর সহজ-সরল প্রকৃতির ছেলে হওয়ায় স্ত্রী সজিনা তাকে অপছন্দ করতো বলে দাবী করছে আলমগীরের পরিবার। অন্যদিকে, আলমগীর শান্ত প্রকৃতির হওয়ায় পিতা-মাতাসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘৃণা ও অবহেলার চোখে দেখত- এমন অভিযোগ স্ত্রী সজিনার। তবে সহজ সরল আলমগীরকে কে বা কারা খুন করেছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও পিতা-পুত্রের দ্বন্দ্ব, বোন-ভগ্নীপতির সাথে ঝগড়া কিংবা দাম্পত্য কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে এলাকাবাসী।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন