নিউ ইয়র্ক সিটিতে পাকিস্তানি এক অভিবাসী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন কোরেশি। তবে বেড়ে ওঠেন নিউ জার্সিতে। তিনি রাটগার্স ল স্কুলে পড়াশোনা করেন। তবে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর তিনি সামরিক প্রসিকিউটর হিসেবে সামরিক সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরে তিনি ২০০৪ ও ২০০৬ সালে ইরাকে নিযুক্ত হন।
পরে তিনি সরকারি দুর্নীতি, সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধ ও আর্থিক প্রতারণাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এটর্নি হিসেবে হোমল্যাননড সিকিউরিটি বিভাগে যোগ দেন।
পাকিস্তানি-আমেরিকান জাহিদ কোরেশি এবার আমেরিকার ফেডারেল বেঞ্চের প্রথম মুসলিম বিচারপতি হতে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের মাত্র এক ধাপ নিচে এই ফেডারেল বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার ৮১-১৬ ভোটে মার্কিন সিনেটে কোরেশির নিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে।
কোরেশি নিউ জার্সির মার্কিন ফেডারেল ডিস্ট্রিক্টে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি একই রাজ্যের ম্যাজেস্ট্রেট বিচারক হিসেবে কাজ করছিলেন।
তিনি উভয় দলের কাছ থেকেই এই নিয়োগের ব্যাপারে সমর্থন লাভ করেন। তবে ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে বেশি সমর্থন লাভ করেন।
নিউ জার্সির সিনেটর বব মেনেনদেজ বলেন, বিচারপতি কোরেশি আমাদের দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। তার কাহিনীতে আমেরিকায় সবকিছু সম্ভব বলে যে কথা রয়েছে, তারই প্রতিফলন ঘটেছে।
নিউ জার্সির সিনেটর কোরে বুকার ৪৬ বছর বয়স্ক কোরেশির নিয়োগের সুপারিশ করেছেন। তিনি কোরেশিকে দৃঢ়বিশ্বাসী লোক হিসেবে অভিহিত করে তার দেশপ্রেমেরও প্রশংসা করেন। সেইসাথে তিনি বলেন, তিনি একইসাথে মুসলিমও।
কোরেশির নিয়োগে মুসলিম সংগঠনগুলোতে উল্লাস দেখা দিয়েছে।
মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি সালাম আল-মারায়াতি নিউ জার্সি নিউজ আউটলেট নর্থজার্সিডটকমকে বলেন, কোরেশি আমেরিকান বিচার বিভাগে মুসলিমদের ভবিষ্যত পথচলার সূচনা করেছেন।
তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, হোয়াইট হাউস আরো বেশি বিচারক নিয়োগ করবে, সিনেট তা অনুমোদন করবে। আমরা আরো আশা করছি, সিনেট নমিনিদের ধর্মীয় লিটমাসে পরীক্ষা করার বাধাগুলো দূর করবে।
সূত্র : ডেইলি সাবাহ
মন্তব্য করুন