ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৮ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

কৃষি উৎপাদন ধসের আশঙ্কা

হুমকির মুখে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বরগুনায় যত্রতত্র ইটভাটা

জাহাঙ্গীর কবীর মৃধা, বরগুনা থেকে : | প্রকাশের সময় : ১৬ জুন, ২০২১, ১২:০১ এএম

সরকারি নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বরগুনায় চলছে ইটভাটা ব্যবসা। পরিবেশ অধিদফতরের পরিবেশ ও অবস্থানগত ছাড়পত্র না নিয়েই ফসলি জমিতে ইট ভাটাগুলো স্থাপন করা হয়েছে। অধিকাংশ ইটভাটায় নামেমাত্র কয়লার অস্তিত্ব খুঁজে পেলেও কাঠ পোড়ানো হচ্ছে ইটভাটায়। কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি না থাকায় যত্রতত্র ইটভাটা স্থাপিত হওয়ায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি ইটভাটা সংলগ্ন এলাকার ফসল উৎপাদনে ধস নেমেছে। ফসলি জমিতে ইটভাটা গড়ে তোলায় পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছে সংশ্লিষ্ট এলাকার অধিকাংশ কৃষক।

ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইনের তোয়াক্কা না করে বরগুনায় রয়েছে একাধিক ইটভাটা। আইনে ড্রাম চিমনী ব্যবহার করে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষেধ থাকলেও বছরের পর বছর এসব ভাটা বহাল তবিয়তে ইট তৈরি অব্যাহত রেখেছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসন সাময়িক জরিমানা করলে বা চিমনী ভেঙে দিলেও কয়েকদিনের মধ্যেই আবারও ভাটা প্রস্তত হয়ে যায়। ইট ভাটার ধোয়ায় নষ্ট করছে পরিবেশের ভারসাম্য। ভাটাগুলো ঘন বসতি এলাকার মধ্যে হওয়ায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে হাজার হাজার পরিবার। এক সূত্রে জানা গেছে, বরগুনায় মাত্র ২৮টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে পরিবেশ অধিদফতর থেকে অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়ে। এর বাইরে জেলায় আরও শতাধিক ইটভাটা রয়েছে, যাদের কোনও ধরনের অনুমতি নেই। বরগুনায় এসব ইটভাটা সরকারি নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে চলছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার মনসাতলী, কুমড়াখালী, পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া, বামনা উপজেলার ল²ীপুরা, তালতলী উপজেলার বেতিপাড়া, নলবুনিয়া, সোনাকাটা, নিউপাড়া ও কড়ইবাড়িয়া, আমতলী উপজেলার চাউলা বাজার, ছুরিকাটা, মহিষডাঙ্গা, তালুকদার বাজার, শাখারিয়া বাজার এলাকায় ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার পরও এসব ইটভাটার অধিকাংশে বনভ‚মি উজার করে কাঠ পোড়ানো হয়। ইট পোড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হয় ফসলি জমির মাটি কেটে। মাটি কাটা, ইট পোড়ানোর জন্য বন উজাড় এবং লোকালয়ের পাশে ইটভাটা স্থাপন করায় হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য।
বরগুনার আমতলী রায়বালা গ্রামের এম এম বি ব্রিকস নামের একটি ভাটায় কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরির কাজ চলছে। কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই এ ইট ভাটাটি নিয়মিত চলছে। পাশেই করাত কল, স্তপ করে রাখা হয়েছে আস্ত গাছের গুড়ি ও চেড়াই কাঠ। জমি দখল করে ইট পোড়ানো শুরু হলে ক্ষতিকর কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয় গোটা এলাকা। ইট পোড়াতে ব্যবহার করছে বনাঞ্চলের কাঠ। এলাকাবাসীর দাবি ভাটার ধোঁয়ার কারণে এ এলাকায় হচ্ছে না কোনো ফসল। পুড়ে গেছে ফলের বাগানসহ সকল ধরনের গাছ। এই ইট ভাটার কারণে বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। বরগুনা জেলা পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মুশফিক আরিফ বলেন, ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে কঠিন আইন থাকার পরও কিছুই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দায়িত্ব শেষ করেন।
বরগুনা পলিটেকনিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল মো. আনোয়ারুল কবীর বলেন, লোকালয়ে ইট পোড়ানোর কারণে মানুষ শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়। একইসঙ্গে মানুষ অক্সিজেন স্বল্পতায় ভোগে। নিয়মনীতি না মেনে ইট পোড়ালে জলবায়ুর ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। এতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে নিম্নচাপ হয়ে সমুদ্র উপক‚ল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আবদুর রশিদ বলেন, সরকারি নিয়মনীতি না মেনে ইটভাটা গড়ে উঠলে অবশ্যই কৃষি ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। একইসঙ্গে কমে যায় ফসলি জমি। জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা নিয়মিতই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন