ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৮ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ধর্মান্তকরণের চেয়ে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কার্যকর

চীনের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় আফগানিস্তান-শেষ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৪ জুন, ২০২১, ১২:০০ এএম

আফগানিস্তানে আমেরিকানদের দীর্ঘায়িত ও ব্যর্থ রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ার চেয়ে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান এবং ইরানের জোট বা কোয়ার্টেট আরো কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে। চীনা বিশ্লেষকরা ইতোমধ্যে মত দিয়েছেন যে, আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা আরো কার্যকর সুরক্ষা বলয় তৈরি করবে।

জোটটি তালেবানদের দেশ পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে। তবে, যেখানে প্রয়োজন সেখানে তাদের নিয়ন্ত্রণে কাজও করতে পারে। তারা তালেবানদের আচরণকে পুনর্র্নির্মাণ এবং প্রভাবিত করতে পারে যাতে চরমপন্থী গোষ্ঠীটি চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান এবং ইরানের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাতে খাপ খেতে পারে।

দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিচালনা ব্যবস্থায় অনাসক্তি চীনের বিশ্ব দর্শনের একটি বৈশিষ্ট্য। এর অনুসারে, উদারপন্থী ধর্মান্তকরণের (বা অন্য কোনো ধরনের) চেয়ে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাই প্রাথমিকভাবে কার্যকরী, যা করতে আমেরিকা ব্যর্থ হয়েছে। আফগানিস্তানের সরকারে যেই বসবে, তার সাথে সহযোগিতার ক্ষেত্রে চীনের এ দর্শন এই নিরেট ভিত্তি হতে পারে।

আফগান সমস্যায় চীনের একক বা এই কোয়ার্টেটের নেতৃত্বাধীন সামরিক সমাধান ততটাই অকার্যকর প্রমাণিত হবে, যতোটা আমেরিকা ব্যর্থ হয়েছে। চীন একটি অভিনব পদক্ষেপ হিসেবে সাংহাই সিকিউরিটি অর্গানাইজেশন (এসসিও)কে আফগানিস্তানে আরো সক্রিয় নিরাপত্তায় ভূমিকা নিতে সহায়তা করতে পারে। এসসিও’র ভবিষ্যতের অনুরূপ কার্যক্রমগুলোর জন্য বিষয়টি একটি মডেল হিসাবে কাজ করবে। আরো সূক্ষ্ম কৌশল হবে, চীনের এবং কোয়ার্টেট শক্তিগুলোর অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা স্বার্থের ভিত্তিতে তালেবানদের সহযোগিতা করতে সম্মত করার পন্থা বের করা। আফগানিস্তানকে তার নিজস্ব ধারাতে ছেড়ে রাখার সম্ভাবনা চীনের খুব কম। যদিও ২০১৭ সালের শেষ নাগাদ আফগানিস্তানে বেইজিংয়ের অল্প বিনিয়োগ ছিল (৪শ’ মিলিয়ন ডলার), তবে, আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক হাতছানিকে এড়িয়ে থাকা যায় না। দেশটির খনিজ সম্পদের মূল্য ১ থেকে ২ ট্রিলিয়ন ডলার।

মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান ছাড়ার পর চীন মধ্য এশিয়া এবং শিনজিয়াংয়ে সম্ভাব্য নিরাপত্তা সমস্যার মুখোমুখি হবে। তবে চীনের কাছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা এবং আফগানিস্তান সমস্যা সমাধানের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা স্থাপনের ব্যবস্থাও রয়েছে। চীন রাশিয়া, পাকিস্তান এবং ইরানের সাথে ঘনিষ্ঠ ও নিবিড় কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপন করেছে এবং সমস্যাটি মোকাবেলার জন্য তারা একটি জোট তৈরি করতে পারে।

দেশটি তালেবানদের কাছ থেকে আরো মৌলিক সহযোগিতা চাইতে পারে। তবে তা কেবল অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার অবকাঠামোতে এ কোয়ার্টেটকে এবং বিশেষত চীনকে উপকৃত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। পাকিস্তান এ অঞ্চলে আরো একটি আগ্রহী শক্তি ভারতের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করবে। তাই চীন এবং কোয়ার্টেট নিশ্চিতভাবে দিল্লিকে বাদ দেবে।

অবশেষে, এবং পশ্চিমাদের বিস্মিত করে দিয়ে কৌশলটি কার্যকরী প্রমাণিত হতে পারে। নিদেনপক্ষে, এটি আফগানিস্তানে পশ্চিমাদের ভূমিকা হ্রাস করবে এবং উদার রাষ্ট্রগুলোর পরিচালিত বিকল্প বিশ্ব ব্যবস্থার দর্শনে আরো একটি রাষ্ট্রকে যুক্ত করবে। সূত্র : ইউরেশিয়া রিভিউ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (12)
Taka ২৪ জুন, ২০২১, ৬:১৩ পিএম says : 1
চাইনিজরা কোন যোদ্ধা জাতি না।অরা সব সময় বিদেশিদের হাতে পরাজিত হইসে।আমেরিকা চাইতাসে চাইনা তালেবানদের সাথে যুদ্ধ করে ফতুর হক।আশা করি চাইনিজরা এত বেকুব হবেনা।ওরা জিবনেও আফগানিস্থানে জয়ি হবে না উলটা নিজেদের ভুমি হারাবে।চাইনায় ভিতরে ভিতরে অনেক গেঞ্জাম চলতাসে।সব খবর প্রকাশ পায় না।
Total Reply(0)
To star Videos ২৫ জুন, ২০২১, ১:২২ এএম says : 0
১৯৬২ সালের যুদ্ধের সময়ের প্রেক্ষাপট ছিল একেবারেই অন্যরকম। ১৯৪৭ সালে ভারত সরকার মার্কিন বিমানবাহিনীকে ৬টি বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিয়েছিল। এই ঘাঁটিগুলো থেকে মার্কিন বাহিনী চীনের ভেতর কমিউনিস্ট বাহিনির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। এর পাশাপাশি ১৯৫০ সালে যখন চীনা কমিউনিস্ট পার্টি বা গণপ্রজাতন্ত্রী চীন তিব্বত পুর্নদখল করে, তখন সেখানে একটি গেরিলা গোষ্ঠী চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালায়। এই গেরিলা গোষ্ঠীকে গোপনে ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র মদত যুগিয়েছিল। সেই সংঘাতের প্রেক্ষাপটেই কিন্তু ১৯৬২ সালের যুদ্ধ হয়েছিল।
Total Reply(0)
মোঃ নাজমুল ইসলাম ২৪ জুন, ২০২১, ৫:১৯ এএম says : 0
আশা করি চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান এবং ইরানের সাথে সুসম্পর্ক রেখেই এবার তালেবান রাষ্ট্র গঠন করবে।
Total Reply(0)
সাইফ আহমেদ ২৪ জুন, ২০২১, ৫:২০ এএম says : 0
আমেরিকা যে ভুল করেছে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান এবং ইরান যেন সে ভুল আর না করে। তালেবানকে সহযোগিতা করে, তবেই আঞ্চলিক শান্তি ফিরে আসবে।
Total Reply(0)
তানিম আশরাফ ২৪ জুন, ২০২১, ৫:২১ এএম says : 0
তালেবানরা আবারও আফগান শাসন করবে এটাই এখন চরম বাস্তবতা। অ্তএব তালেবানের বিরোধিতা না করে তাদের সাথে ভালো সম্পর্কক করা উচিত।
Total Reply(0)
সাইফুল ইসলাম ২৪ জুন, ২০২১, ৫:২৩ এএম says : 0
স্বাভাবিক কারণেই চীন চাইবে না একটা খাটি মুসলিম গ্রুপ আফগান শাসন করুক। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তা মেনে নেয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। আমেরিকা ইতোমধ্যে লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে। অতএব তালেবান আর কাউকে গোনায় ধরে বলে মনে হয় না।
Total Reply(0)
সোয়েব আহমেদ ২৪ জুন, ২০২১, ৫:২৩ এএম says : 0
তালেবানের বর্তমান যে পররাষ্ট্রনীতি দেখা যাচ্ছে তাতে প্রতিবেশীদের সাথে খুব একটা সমস্যা থাকবে বলে মনে হয় না।
Total Reply(0)
মিনহাজ ২৪ জুন, ২০২১, ৯:৪০ এএম says : 0
তালেবানদের দেশ পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না
Total Reply(0)
সবুজ ২৪ জুন, ২০২১, ৯:৪২ এএম says : 0
আফগানিস্তান একমাত্র তালেবানরাই সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারবে
Total Reply(0)
রোমান ২৪ জুন, ২০২১, ৯:৪৩ এএম says : 0
আফগানিস্তানে তালেবানদের বিরোধীতা করে কেউ কিছু করতে পারবে না। তাই তাদের বিরোধীতা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
Total Reply(0)
Mominul+Hoque ২৪ জুন, ২০২১, ৯:৫৩ এএম says : 0
আফগানিস্তানে তালেবান ছাড়া বিকল্প কোন পথ নাই, তারাই আবার আফগানিস্তানে শাসন ক্ষমতায় অধিষ্টিত হবে।
Total Reply(0)
Dadhack ২৪ জুন, ২০২১, ১২:৪৮ পিএম says : 0
একমাত্র তালেবানরা কোরআন দিয়ে দেশ চালালে আবার আগের মতোই আফগানিস্থানে মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে এই পাকিস্তান চায়না রাশিয়া-ইরান এরা হচ্ছে শয়তান এরা আল্লাহর আইন চাই না সেজন্য হয়তোবা আবার ওরা আক্রমণ করবে একসাথে আল্লাহ ওদেরকে ধ্বংস করে দিও যদি ওরা আক্রমণ করে তালেবানদের পরে
Total Reply(1)
Taka ২৪ জুন, ২০২১, ৬:১০ পিএম says : 0
ঠিক বলসেন।অনেকে চাইনা,ইরান আর পাকিস্থানের চামচামি করে না বুইঝা।আসল কথা হইলো পাকিস্থানের নাস্তিক সরকার,ইরানের শিয়া সরকার আর চাইনার নাস্তিক সরকার আমেরিকা আর রাশিয়ার মতই খারাপ।এরা কেউই চায়না আফগানিস্থানে ইসলামি শাসন আসুক।

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন