ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

সারা বাংলার খবর

কলারোয়ার উন্নয়নে বরাদ্দ অর্থের সিংহভাগ লোপাট

প্রকাশের সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব রিপোর্ট : সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার উন্নয়নে ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে টিআর কাবিখা কাবিটা প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থের সিংহভাগ লুটপাট করা হয়েছে। কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ দেখায়ে, প্রকল্পের কাজ না করে টিআর বা কাবিখা বা কাবিটা বরাদ্দ উত্তোলন করে আত্মসাত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বরাদ্দ প্রকল্পগুলোর কাজ ৩০ জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা। বরাদ্দ প্রকল্পগুলো যথাসময়ে অর্থাৎ ৩০ জুনের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি মাস্টার রোল জমা দান করেছে। প্রকল্পগুলো সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার প্রতি স্বাক্ষরে উপজেলা জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে মাস্টার রোলগুলো জমা দান করা হয়েছে। কিন্তু চলতি অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরের ৪র্থ সপ্তাহে সরেজমিনে যেয়ে বহু প্রকল্পের কাজের অস্বিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। উপজেলার কোথাও কাবিখা কাবিটা প্রকল্পের নাম, বরাদ্দের পরিমাণ, কাজের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, মজুরীর পরিমাণ সম্বলিত কোন সাইন বোর্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। অথচ প্রতি সাইন বোর্ড স্থাপনে বরাদ্দ দেড় হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। কলারোয়ার দেয়াড়া ইউনিয়নের পাকুড়িয়া মাঠপাড়ায় এলাকাবাসি জানায়, বিশেষ কাবিটা প্রকল্পে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৪ টাকা ব্যয়ে ৩৬ বাড়িতে বাস্তবায়িত সৌর বিদ্যুতের একটার কোন অস্বিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এদিকে কর্মসৃজনের শ্রমিক দিয়ে কাজ করায়ে দেয়াড়া মাঠপাড়া কাদেরের দোকানের মোড় হতে খা পাড়া অভিমুখে রাস্তা সংস্কারে বিশেষ টিআর প্রকল্পে বরাদ্দ ৬০ হাজার টাকা তুলে আত্মসাত করা হয়েছে। পুরানো প্রাচীরে রং এর কাজ করে দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদের পিছনে প্রাচীর নির্মাণ, মঞ্চ সংস্কার ও ২ সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনে সাধারণ টিআর প্রকল্পে বরাদ্ধ ৭ টন চাল তুলে নয়ছয় করা হয়েছে বলে ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়। যুগিখালী ইউনিয়নের পাচনল সরদার পাড়ায় বিশেষ টিআর প্রকল্পে ২০ দুস্থ পরিবারে সোলার প্যানেল স্থাপনে বরাদ্দ ৩ লাখ টাকার কোন কাজ করা হয়নি বলে স্থানীয়রা জানায়। চন্দনপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর নূরুল মাস্টারের বাড়ি হতে কাটাখালি অভিমুখে হাফিজুলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় ইটের সোলিং এ বিশেষ টিআর প্রকল্পে বরাদ্দ ৬০ হাজার টাকার কোন কাজ না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং নাম মাত্র কাজ করে চন্দনপুর নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংস্কার ও মাটি ভরাটে বিশেষ কাবিটা প্রকল্পে বরাদ্দ ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে এলাকাবাসি জানায়। সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নে বিশেষ টিআর প্রকল্পে পূর্ব ভাদিয়ালী ঈদগাহ ময়দানে মাটি ভরাটে বরাদ্দ ৩০ হাজার টাকার কোন কাজ হয়নি বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী ফারুক জানায়। বিধিবর্হিভূতভাবে কেড়াগাছি ইউনিয়নের পাচপোতা গ্রামের ঈদগাহ সংস্কারে একই অর্থবছরে দুইবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে সাধারণ টিআর প্রকল্পে বরাদ্ধ ১ টনের কাজ হলেও এই ঈদগাহের নামে বিশেষ টিআর প্রকল্পে বরাদ্ধ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে স্থানীয় ইউপি মেম্বর জানায়। বোয়ালিয়া শহীদ স্মৃতি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাটি ভরাটে বরাদ্দ ৬০ হাজার টাকার কোন কাজ হয়নি বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানায়। এদিকে হেলাতলা ইউনিয়নে আঃ গফ্ফারের বাড়ি হতে কাজিরহাট ব্রাক অফিস পর্যন্ত কাচা রাস্তা সংস্কারে বিশেষ টিআর প্রকল্পে বরাদ্দ ৬০ হাজার টাকা কোন কাজ না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ীরা জানায়। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় অধিকাংশ টিআর কাবিখা কাবিটার বরাদ্দ কোন কাজ না করে আত্মসাত করা হয়েছে বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। এনিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এব্যাপারে কথা বলার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মোবাইলে রিং দিয়ে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন