শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩ আশ্বিন ১৪২৮, ১০ সফর ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

সিলেটে না মরলে খালি হয় না আইসিইউ বেড ! করোনা রোগীদের হাহাকার

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩১ জুলাই, ২০২১, ৩:৩৩ পিএম

অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে সিলেটে করোনা পরিস্থিতি। শনাক্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে উঠানামা করছে। গত শুক্রবারও ১৭ জন মারা গেছেন সিলেটে। শনাক্ত হয়েছে ৮০২ জনের করোনা। একদিনে এখন পর্যন্ত মৃত্যু ও শনাক্তের সর্বোচ্চ সংখ্যা তা। আজ মৃত্যুর সংখ্যা ৯ জন, সেই সাথে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩৪০ জনের। তবে শনাক্তের বাইরেও মৃত্যুর খবর কম নয়। প্রতিদিন গ্রামগঞ্জে মৃত্যুর ঘোষনা আসছে মাইকে। কেউ না কেউ মরছেন করোনার ছোবলে। এদিকে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে শয্যা সঙ্কট। সবগুলো হাসপাতাল পূর্ণ হয়ে গেছে রোগীতে। ফলে নতুন রোগী ভর্তি করতে পারছে না কোনো হাসপাতাল। এ অবস্থা চলতে থাকলে চিকিৎসা না পেয়েই দেখা দিয়েছে মৃত্যুর শঙ্কা। আর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখন কার্যত সোনার হরিন। এরপরও একটি আইসিইউ বেডের জন্য তদবির, তোড়জোড়। কিন্তু তারপরও কপালে জোটছে না অনেকের। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে করোনা চিকিৎসার জন্য সরকারি আইসোলেশন ওয়ার্ডে আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে ২৪টি। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ মিলিয়ে করোনা চিকিৎসায় জেলায় আইসিইউ শয্যা রয়েছে আরও ৮০-৯০টি। নগরীতে সরকারি দুই প্রতিষ্ঠান শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮৪টি ও সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে সাধারণ শয্যা রয়েছে ২০০টি। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজগুলোর আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলোতে আরও সাধারণ শয্যা রয়েছে প্রায় ২০০টি। এরপরও সম্প্রতি করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ও আইসিইউ শয্যা পেতে ধর্ণা দিতে হচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতালে। চলতি মাসের ৩০ দিনে সিলেটে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ২৯৩ জনের। এই মাসে মারা গেছেন ১৬০ জন করোনায়। জেলায় এক মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু ঘটে ওই মাসে। করোনা উপসর্গ নিয়ে সম্প্রতি নগরের সোবহানীঘাট এলাকার বেসরকারি হাসপাতাল ইবেন সিনায় ভর্তি হন আবু তালেব (৫৮)। বুধবার সকালে তার নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন করোনা পজিটিভ আসে। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া দুপুরের দিক থেকে তাঁর জন্য আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা করতে ছোটাছুটি শুরু করেন স্বজনেরা। তার স্বজন ইউনুস আহমদ বেলা আড়াইটার দিকে ছিলেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের সামনে। তিনি জানান, শামসুদ্দিন আহমদ এবং ওসমানী হাসপাতালের পাশাপাশি তিনটি বেসরকারি হাসপাতাল খোঁজ নিয়েছেন তিনি। কোথাও খালি পাওয়া যায়নি আইসিইউ শয্যা। তাই আপাতত সিলিন্ডার অক্সিজেন দিয়ে রোগীকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। দ্রুত আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা না করতে পারলে খারাপ হয়ে যেতে পাওে রোগীর অবস্থা।

আখালিয়া এলাকার মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের বিপণন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, তাদের হাসপাতালে ৯টি আইসিইউ শয্যাসহ মোট ৬৪টি শয্যা রয়েছে। সবগুলোই রোগীতে পরিপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘গত সোমবার আমার স্ত্রীকেও আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। পরে তার আইসিইউ শয্যার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু শয্যা খালি পাননি। পরে মারা যান একজন রোগী। এরপর মঙ্গলবার রাতে আমার স্ত্রীকে আইসিইউ শয্যায় স্থানান্তর করতে পেরেছি।’

দক্ষিণ সুরমায় নর্থ ইস্ট হাসপাতালের বিপণন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে করোনা চিকিৎসায় ৩২টি আইসিইউ শয্যা এবং ৬৮টি সাধারণ শয্যা রয়েছে। সবগুলোই এখন রোগীতে পরিপূর্ণ। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা অনেককে পাঠাতে হচ্ছে ফেরত।

শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে শয্যা আছে ১০০টি। এখানে ৯৬ জন রোগী ভর্তি আছেন। হাসপাতালের ১৬টি আইসিইউ শয্যাতেই রয়েছেন রোগী। রোগীর অবস্থার উন্নতি না হলে আইসিইউ থেকে স্থানান্তর করা হয় না। এর বাইরে কোনো রোগীর মৃত্যু হলে আইসিইউ শয্যা খালি হয়। অপেক্ষমাণ থাকা রোগীদের গুরুতর অবস্থা বিবেচনায় বরাদ্দ হয় আইসিইউ শয্যা। এদিকে ওসমানী মেডিকেলের আটটি আইসিইউ শয্যাও রোগীতে পরিপূর্ণ। আর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২০০টি আসনের বিপরীতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৩০ জন রোগী। সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন জন্মেজয় দত্ত বলেন, মুলত সচেতনতার অভাবে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনার। স্বাস্থ্যবিধিতে তোয়াক্কা করছেন না মানুষ। গণটিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে শুরু হতে যাচ্ছে টিকাদানের কার্যক্রম। এই কার্যক্রম সফল হলে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চললে অনেকটা কমবে সংক্রমণের হার।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন