বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৪ কার্তিক ১৪২৮, ১২ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

মাদরাসা শিক্ষক আটক হলেও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকা নয় কেন? প্রশ্ন সামাজিক মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন

আব্দুল মোমিন | প্রকাশের সময় : ৯ অক্টোবর, ২০২১, ৫:০৯ পিএম

শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়ার মতো একই ধরনের ‘অপরাধে’ এক মাদরাসা শিক্ষককে আটক করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকাকে কেন আটক করা হয়নি?- সেই প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। প্রশাসনের এই বৈষম্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে। ফেসবুকে অনেকেই ক্ষোভ জানিয়ে মাদরাসার প্রতি এই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈষম্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সামাজিক মাধ্যমে অধিকাংশের প্রশ্ন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চুল কেটে দেওয়া শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন করার পরও কেন ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়নি। অথচ এক মাদরাসা শিক্ষকের শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার একদিনের মধ্যেই তাকে গ্রেফতার করা হলো, যেখানে শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের কোন অভিযোগও ছিল না। মাদরাসার প্রতি কেন এই বৈষম্য?-জানতে চান তারা।

ফেসবুকে জৈষ্ঠ্য সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক মেহেদী হাসান পলাশ প্রশ্ন তুলে লিখেছেন, ‘‘লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার হামছাদী কাজির দিঘীর পাড় আলিম মাদরাসার দশম শ্রেণীর ছয় ছাত্রের চুল কেটে দেয়ায় সিনিয়র শিক্ষক মঞ্জুরুল কবিরকে আটক করেছে পুলিশ। কিন্তু রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের (রবি) সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের তীব্র আন্দোলনের পরও তাকে আটক করা হয়নি। এই বৈষম্যের কারণ কী?’’


অত্যন্ত আক্ষেপ করে মুহাম্মাদ নিজাম উদ্দিন ফরিদ লিখেছেন, ‘‘ছাত্রের চুল কেটে দেওয়ায় শিক্ষককে আটকের প্রতিবাদ করছি। মাদরাসা দ্বীনী প্রতিষ্ঠান। এখানে সুন্নতের চর্চা শেখানো শিক্ষকের দায়িত্ব। বখাটে টাইপের চুল কাটার নির্দেশ দিতে হবে, নিজেরা না কাটলে অবশ্যই কেটে দিতে হবে। কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতের খবর কি প্রশাসন জানে না?
স্কুলে বোরকা নিষিদ্ধ করা, ওড়না খুলে ফেলা শিক্ষকদের কি এত দ্রুত আটক করতে পেরেছিল প্রশাসন? সামান্য চুল কাটার কারণে শিক্ষককে হয়রানি করা মানেই কিশোরগ্যংয়ে উস্কে দেওয়া।প্রয়োজন ছিল এ শিক্ষককে পুরস্কৃত করা। যে দেশে সামান্য শাসনের কারণে, বখাটে টাইপের চুল কাটার কারণে শিক্ষককে আটক হতে সেদেশে শিক্ষক-অভিভাকদের ওই ছেলেরা পেটাবে, শিক্ষকের সামনে ছাত্ররা সিগারেট খাবে, পলিটেকনিকের ছাত্র অধ্যক্ষকে ধরে পুকুরে ফেলে দেবে এটাই তো স্বাভাবিক।
জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান স্যার দুঃখ করে বলেছিলেন, ছাত্ররা এখন সালামও দেয় না...!’’

তাইমুম বাপ্পির প্রশ্ন, ‘‘একই অপরাধে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনেরও গ্রেফতার হওয়া উচিত ছিল। একই অপরাধে দ্বিমুখী আচরন কেন?’’

ফেসবুকে ক্ষোভ জানিয়ে মনির লিখেছেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও একই কাজ করলেন, অথচ তাকে আটক করা হল না।এদিকে সভাপতি ঘুষি মেরে প্রধান শিক্ষকের দাত ফেলে দিলো তাকেও গ্রেফতার করা হল না। অথচ বোবাধন মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করে পুলিশ বসে আছে। এজন্যই গ্রামে একটি কথার প্রচলন আছে,,,,ল্যাংরার মাউগ(স্ত্রী) হগলডির ভাউজ।..’’

তাইফুর রহমনা তাইফ লিখেছেন, ‘‘ঠিক আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাস্যময়ী হাতাকাটা ব্লাউজ পরুয়া শিক্ষিকা চুল কাটলে বহিষ্কার, মাদ্রাসার দাঁড়িওয়ালা শিক্ষক কাটলে গ্রেফতার। ন্যায়বিচারের এক স্বর্গভূমে আছি।’’

এস.এম হুমাউন কবির লিখেছেন, ‘‘লক্ষ্মীপুরে ৬ ছাত্রের চুল কেটে দেয়ার অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।অন্যদিকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে চুল কাটার ‘প্রমাণ পেয়েছে’ তদন্ত কমিটি কিন্তু এখনো শাস্তি পায়নি সেই শিক্ষিকা।ফ্যাক্ট মাদ্রাসার শিক্ষক বলে কথা।’’

মামুন চৌধুরী লিখেছেন, ‘‘হীরক রাজার দেশ! এ ঘটনায় কারো তেমন অভিযোগ নাই, নাই কোন আন্দোলন। তবু ও আজ মাদ্রাসার শিক্ষক বলে পুলিশ স্বপ্রনোদিত হয়ে গ্রেপ্তার করে।অথচ রবীদ্র বিশ্ব বিদ্যালয়ের সে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নাই।মাদ্রাসার শিক্ষক বলে আজ তোরা যা ইচ্ছা তাই করতেছোস। আল্লাহর লানত তোদের উপর।’’

প্রিন্স মোহাম্মাদ লিটন লিখেছেন, ‘‘চুলকানি সব মাদরাসা আর দীনদারদের নিয়ে যেটা শয়তান করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে গ্রেফতার করে না আর মাদরাসার শিক্ষককে কেনো গ্রেফতার করা হবে -এতেই বুঝা যায় শয়তানের অনুসারী কারা।অবিলম্বে মুক্তিদিন।’’

মোঃ নাইম লিখেছেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই শিক্ষিকাকে আটক করা হয়েছিল???একই দেশে বিশ্ববিদ্যালয় আর মাদ্রাসা শিক্ষকের প্রতি ভিন্ন আইন কেন?আজ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক বিপদে পরত অন্যায়ভাবে তাহলে আমি তার পক্ষই করতাম।এখানে বিশ্ববিদ্যালয় আর মাদ্রাসা বলে কথা না।’’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (13)
Noman Khalovi ৯ অক্টোবর, ২০২১, ৯:৩০ পিএম says : 0
সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি একই মানসিক রাখতে হবে।ভিন্ন মানসিক বাদ পজেটিভ বাসনা লালন করি ।তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে।
Total Reply(0)
জিয়াউল্লাহ তাহের সাঈদী ৯ অক্টোবর, ২০২১, ৯:০৭ পিএম says : 0
শিক্ষকের দায়িত্বশীল আচরণের কারণে পুরস্কৃত করার পরিবর্তে উল্টো গ্রেপ্তার করা হয়েছে!! সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার যোরদাবী তুলোন
Total Reply(0)
Md Abu Sayed ৯ অক্টোবর, ২০২১, ১১:০৪ পিএম says : 0
ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে এটা কোন ভাবেই কাম্য নয়
Total Reply(0)
Nayeemul ১০ অক্টোবর, ২০২১, ৭:৪৩ এএম says : 0
As a man he failed to cut 14 students hair where a woman can cut 14 students hair. He should cut 14 or more students Hair to avoid the arrest.
Total Reply(0)
Md Helal Karim ১০ অক্টোবর, ২০২১, ২:৫৮ পিএম says : 0
বর্তমানে প্রসাশনের সব জায়গায় ইসলাম বিরোধী লোক। বেশির ভাগই হিন্দু। তারা টুপি দাড়িওয়ালাদের নির্যাতন করে বুঝিয়ে দেয় যে দেখ তোরা মুসলমানরা সংখ্যা গরিষ্ঠ হলেও আমরা সংখ্যালুঘুরা তোদের চেয়ে শক্তিশালী।
Total Reply(0)
মো: আব্দুল খালেক ১২ অক্টোবর, ২০২১, ৯:৩১ এএম says : 0
হায় রে মুসলমান আপনারা বুঝতেছেন না এখনোও ! তোরা স্বমূলে যে দিন ধ্বংস হবেন সে দিন শুধু বলবেন ভুল হয়েছে কিন্তু আর শোধরানোর সময় পাবেন না। আর বলতেই হয় যে, শয়তানি কার্যক্রমে মুসলমানরাই বেশী আকৃষ্ট হচ্ছে। সবার কাছে আমার প্রশ্ন কেউ কি আমাকে বুঝাবেন বর্তমানে ভারত আর বিডি এর মধ্যে পার্থক্য কি ? তারা যে একই লক্ষ্যে ধাপমান তা আর কবে বুঝবেন ?!?!
Total Reply(0)
শফিকুল ইসলাম ৯ অক্টোবর, ২০২১, ৭:২৮ পিএম says : 1
মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করা প্রশাসনের স্ব- প্রণোদিত হয়ে আটক করা মোটেই ভালো হয়নি এতে হিতে বিপরীত হতে পারে বলে আমার বিশ্বাস। এখানে মাদ্রাসা শিক্ষক ও বিশ্ব-বিদ্যালয় শিক্ষিকা একই পর্যায়ের কাজ সম্পাদন করেছে যদি অপরাধ হয় দূজনের সমান তাহলে কেন এই বৈষম্য???
Total Reply(0)
শফিকুল ইসলাম ৯ অক্টোবর, ২০২১, ৭:২৮ পিএম says : 0
মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করা প্রশাসনের স্ব- প্রণোদিত হয়ে আটক করা মোটেই ভালো হয়নি এতে হিতে বিপরীত হতে পারে বলে আমার বিশ্বাস। এখানে মাদ্রাসা শিক্ষক ও বিশ্ব-বিদ্যালয় শিক্ষিকা একই পর্যায়ের কাজ সম্পাদন করেছে যদি অপরাধ হয় দূজনের সমান তাহলে কেন এই বৈষম্য???
Total Reply(0)
মাহমুদুর রহমান ৯ অক্টোবর, ২০২১, ৭:৩৯ পিএম says : 0
মাদ্রাসা শিক্ষক ৬ জনের চুল কাটার অপরাধে গ্রেফতার হলেন, কিন্তু মেডাম চুল কাটলো ১৪ জনের, তাতে সমস্যা নেই, এখানে কে বেশী অপরাধী?
Total Reply(0)
আবদুল আজিজ-Abdul Aziz ৯ অক্টোবর, ২০২১, ৭:৩৯ পিএম says : 0
এই দেশে ইসলামি শিক্ষা ও ইসলাম নিয়ে বন্ধু রাষ্ট্রের গভীর ষড়যন্ত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে
Total Reply(0)
Sohel Bhuiyan ৯ অক্টোবর, ২০২১, ৭:৩৯ পিএম says : 0
পুলিশ বখাটেদের চুল কাটলে প্রশংসা পায়।আর শিক্ষক বখাটে ছাত্রদের চুল কাটলে জেলে যেতে হয়ে।
Total Reply(0)
Arifur Rahman Arif ৯ অক্টোবর, ২০২১, ৭:৩৯ পিএম says : 0
এতটুকু অধিকার শিক্ষকবৃন্দ না পেলে জাতির চরিত্র গঠনে বিরুপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করি।
Total Reply(0)
শফিকুল ইসলাম ৯ অক্টোবর, ২০২১, ৭:২৮ পিএম says : 0
মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করা প্রশাসনের স্ব- প্রণোদিত হয়ে আটক করা মোটেই ভালো হয়নি এতে হিতে বিপরীত হতে পারে বলে আমার বিশ্বাস। এখানে মাদ্রাসা শিক্ষক ও বিশ্ব-বিদ্যালয় শিক্ষিকা একই পর্যায়ের কাজ সম্পাদন করেছে যদি অপরাধ হয় দূজনের সমান তাহলে কেন এই বৈষম্য???
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন