সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ৩০ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ডাক বিভাগের ফ্রাঙ্কেনস্টাইন

সাঈদ আহমেদ | প্রকাশের সময় : ১৭ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০১ এএম

আছেন সরকারি চাকরিতে। পাশাপাশি বেনামী ব্যবসা। চাকরিটা নামমাত্র। কোটি কোটি টাকার ব্যবসা চলছে তিনি যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই। নিয়োগ-বাণিজ্য, ভবন নির্মাণ, সংস্কার, সরবরাহ, পরিবহন-সর্বক্ষেত্রে তার লোভের থাবা। হালে মিলছে তার সংশ্লিষ্টতায় ভুয়া সঞ্চয় অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ডাক বিভাগের কোটি কোটি টাকা সরানোর মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যও। মর্যাদায় তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। গড়ে তুলেছেন নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড়। গাড়ি হাঁকাচ্ছেন একাধিক। উঠ-বস করেন চট্টগ্রাম এলাকার এমপি আর ভিআইপিদের সঙ্গে।

ডাক বিভাগে শুধু একচ্ছত্র আধিপত্যই কায়েম করেননি, তার সর্বগ্রাসী তৎপরতার মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ডাক বিভাগের দৈত্য’ বা ‘ফ্রাঙ্কেস্টাইন’ হিসেবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয় একটি তদন্ত চালাচ্ছে। তিনিসহ সংশ্লিষ্ট আরও কয়েজনের বিরুদ্ধে একটি অনুসন্ধানও শুরু হয়েছে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে। আলোচিত এই ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ আর কেউ নন- ‘বাংলাদেশ পোস্টম্যান ও ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন কাউন্সিল’র সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।

কে এই সাইফুল? : চট্টগ্রাম জিপিও’র পোস্টম্যান ওমর সুলতান চৌধুরীর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম জিপিও থেকে অবসর নেন। তৎকালিন সিনিয়র পোস্ট মাস্টার আব্দুল মোমেন চৌধুরীর মাধ্যমে ১৯৮৯ সালে সাইফুল চাকরি নেন। এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়ে যোগদান করেন পোস্টাল অপারেটর হিসেবে। নিজে ‘ডাক পরিবারের সন্তান’ এই সেøাগান মুখে নিয়ে দ্রুতই কাছে টানেন অন্যান্য কর্মচারীদের। এভাবে তিনি চট্টগ্রাম জিপিও’র স্বঘোষিত নেতা বনে যান। এর মধ্যে তিনি নিজেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেন। সর্বশেষ তিনি ‘বাংলাদেশ পোস্টম্যান ও ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন’র সভাপতি। পদপদবি ব্যবহার করে তিনি ফুলে-ফেঁপে উঠতে থাকেন ২০১০ সাল থেকে। এখন তিনি অন্তত: দেড়শ’ কোটি টাকার মালিক বলে জানা যায়।

একই অফিসে চাকরি-ব্যবসা : চাকরিটিকে তিনি ব্যবহার করেন ইউনিয়ন করার স্বার্থে। সংগঠনের পদ-পদবি ব্যবহার করেন ডাক বিভাগে প্রভাব বিস্তারের প্রয়োজনে। ডাক বিভাগের পূর্বাঞ্চলে এখন সাইফুল ইসলাম চৌধুরীর একচ্ছত্র আধিপত্য। পোস্ট অফিস ভবন নির্মাণ, সাব-পোস্ট অফিস ভবন নির্মাণ, মেরামত এবং ‘তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর গ্রামীণ ডাকঘর নির্মাণ প্রকল্প’র আওতায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের ডাক ভবনের সংস্কারের কার্যাদেশগুলো তিনি একাই পান। অনেক ক্ষেত্রে কাজ না করেই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার প্রতিষ্ঠানের নাম ‘মেসার্স ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন’। এটির লাইসেন্স (নং-১৬০৩১৪) স্ত্রী সৈয়দা আয়েশা ইয়াসমিনের নামে। এছাড়া ‘মেসার্স ছাবের এন্টারপ্রাইজ’ নামে তার আরেকটি বেনামী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

গতবছর ৯ জুন অনাবাসিক ভবন মেরামত খাতের আওতায় চট্টগ্রাম জিপিওস্থ ৬ষ্ঠ তলা ভবনের কমিটি রুম মেরামত ও সংস্কার বাবদ (সংশোধিত কার্যাদেশ) ‘ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন’কে ৬ লাখ ৮০ হাজার ৬২৭ টাকার কার্যাদেশ দেয়া হয়। অতিরিক্ত পোস্ট মাস্টার জেনারেল কাজী মামুনুর রশিদের স্বাক্ষরে [নথি নং-বিজেড-১১১৬/জিপিও কমিটি রুম (২য় তলা)/৬ষ্ঠ তলা ভবন/২০২০)] সাইফুলের প্রতিষ্ঠান এই কাজ পায়। ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা ৬৮৭ টাকায় লামাবাজার টিএসও ডাকঘর মেরামতের কাজটি দেয়া হয় (নথি নং-বিজেড-মিস/নির্মাণ/ মেরামত/দরপত্র-১/২০১৮-২০১৯) ‘মেসার্স ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন’কে। অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারেল আল মাহবুব এ কার্যাদেশ দেন।

‘তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর গ্রামীণ ডাকঘর নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের জালালাবাদ ছালেহ বাজার টিএসও ডাকঘর ভবন সংস্কার কাজ করে সাইফুলের বেনামী প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ছাবের এন্ট্রারপ্রাইজ’। এ কাজের গুণগত মান নিয়ে সিটি উপ-বিভাগ, চট্টগ্রামের পোস্ট অফিস পরিদর্শক অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডারে উল্লেখিত কাজ না করেই অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন সাইফুল। চট্টগ্রাম সার্কেল পোস্ট মাস্টারের সঙ্গে আঁতাত করে বিনা টেন্ডারে কার্যাদেশ বাগিয়ে নেয়ার অভিযোগও আছে। কখনও বা কোনো কাজ না করেই ভুয়া পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সমুদয় বিল উঠিয়ে নেন।

এভাবে গত কয়েক বছরে সাইফুল ইসলাম চৌধুরী অন্তত: ২৫টি গ্রামীণ ডাকঘর নির্মাণের কার্যাদেশ পান। রাউজান উপজেলা ডাকঘর, হাটহাজারি উপজেলা ডাকঘর, বায়েজীদ উপজেলা এবং চকবাজার এলএসজি টিএসও ডাকঘরের সংস্কার কাজ করে সাইফুলের প্রতিষ্ঠান। চান্দগাঁও অফিসার্স কলোনি সংস্কার কাজ, চট্টগ্রাম জিপিওর গ্রাউন্ড ফ্লোর ঢালাই, একই ভবনের কারপার্কিং শেড নির্মাণ, অডিটরিয়াম পুনঃসংস্কার, লামাবাজার এসও সংস্কার কাজ করে তার প্রতিষ্ঠান। ইস্ট জোয়ারা উপজেলা ডাকঘর সংস্কার, বরমা এসও ডাকঘর সংস্কার, পোস্টাল অফিসার্স কলোনি গেইট নির্মাণ এবং লোহাগাড়া উপজেলা ডাকঘর সংস্কারের কার্যাদেশ পায় সাইফুলের ‘ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন’।

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্প উপজেলাভিত্তিক ‘ই-পোস্ট সেন্টার প্রকল্প’। সরকারদলীয় এক এমপি’কে হাত করে সাইফুল এই প্রকল্পের আওতায় মহেশখালি, কুতুবদিয়া, উখিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া, বরইতলি, বান্দরবান, চন্দনাইশ, হাটহাজারি, ফটিকছড়ি, পটিয়ার অন্তত: ৪৫টি পোস্ট ই-সেন্টারের নতুন ভবন যেনতেনভাবে নির্মাণ করে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

‘ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন’ তিনি শুধু নির্মাণ-সংস্কারের ঠিকাদারিই করেন না। করছেন পরিবহন ব্যবসাও। ডাক অধিদফতর, পূর্বাঞ্চলের ডাক পরিবহন (মেল সার্ভিস) ব্যবস্থাটি নিয়ে নিয়েছেন নিজ দখলে। শুধুমাত্র সাইফুলের পরিবহন ব্যবসার স্বার্থে ডাক অধিদফতর ওই অঞ্চলে নিজস্ব মেইল সার্ভিসটি বন্ধ করে রেখেছে। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতাসহ নানা অজুহাতে ওই এলাকার মেইল পরিবহনের দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে সাইফুলের ‘ফ্রেন্ডস কমিউকেশন’ কে। ডাক অধিদফতরের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তির আওতায় সাইফুল মেইল সার্ভিস চালাচ্ছেন।

ডাকের স্টিকারে মাদক বহনের অভিযোগ: দুদক সূত্র জানায়, সংস্থাটি যে অভিযোগের ভিত্তিতে সাইফুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০৩.২৬.০৪০.২১-২০৮৪৭) চালাচ্ছে তাতে রয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেই অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জিপিও’র পোস্টাল অপারেটর মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী পোস্টমাস্টার চট্টগ্রাম সার্কেলের সঙ্গে আঁতাত করে ডাক বিভাগের ৩টি ডাক চলাচলের লাইনের সরকারি গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখেন। ডাক বিভাগের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার লাইনে মেইল মটর সার্ভিস এখন সম্পূর্ণরূপে সাইফুলের মালিকানাধীন ‘ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন’র ওপর নির্ভরশীল। নিজের প্রাইভেট গাড়ি দিয়ে ডাক পরিবহন পরিচালনা করছেন। লাইনগুলো হচ্ছেÑ চট্টগ্রাম টু কক্সবাজার, চট্টগ্রাম টু রাঙ্গামাটি এবং চট্টগ্রাম টু কাপ্তাই।

‘ডাক পরিবহন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প’র ১১৮টি আধুনিক গাড়ি কেনা হয়। চট্টগ্রাম সার্কেলকে দেয়া হয় ২০টি অত্যাধুনিক গাড়ি। সাইফুল ইসলাম চৌধুরী নিজের প্রাইভেট গাড়িগুলোকে ডাক বিভাগের গাড়ির মতো রং করে দেন। স্টিকার লাগিয়ে নেন ডাক বিভাগের। আর এই স্টিকারের আড়ালে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবা পরিবহন করেন। বিশেষত: ‘চট্ট-মেট্টো-০২-০১২৬’ নম্বরের গাড়িটিতে করে পাচার হয় ইয়াবা। ২০০৯ সালে চন্দনাইশে টহল পুলিশ ইয়াবাসহ সাইফুলের একটি গাড়ি আটক করে। পরে সাইফুলের ছোট ভাই সাংবাদিক পরিচয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গাড়ি ছাড়িয়ে নেন। এছাড়া দোহাজারী ব্রিজ এলাকায় একাধিকবার টহল পুলিশ সাইফুলের ইয়াবা চালানসহ গাড়ি আটক করে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে একইভাবে এখান থেকেও গাড়ি ছাড়িয়ে নেয়া হয়।

নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় : তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হলেও নিজে হাঁকান দু’টি প্রাইভেটকার (নং-চট্ট-মেট্টো-গ-১২-৫৯৬২) এবং (চট্ট-মেট্টো-গ-১১৫৬৩২)। এ ছাড়া নোয়াহ গাড়ি চট্টমেট্টো-চ-৫১-০৭২৫, চট্ট-মেট্টো-অ-০২-০১২৬, ট্রাক চট্ট-মেট্টো-ট-১১-৯১৬৭, প্রাইভেটকার চট্ট-মেট্টো-চ-১১-২৭২২ নম্বরের গাড়িগুলো ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। তার বেনামী সম্পদের মধ্যে রয়েছে ২টি ব্রিক ফিল্ড। এর আনুমানিক মূল্য ৭ কোটি টাকা। তার বন্ধু বিদেশ-ফেরত মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানকে দিয়ে ব্রিকফিল্ড দু’টি পরিচালনা করেন।

স্ত্রী সৈয়দা আয়েশা ইয়াসমিনের নামে রয়েছে ‘ফ্রেন্ডস ফিশ কর্ণার’। ১০ নং সমবায় মার্কেট, ইকবাল রোড, ফিশারী ঘাট চট্টগ্রামের ঠিকানায় অবিস্থত এই প্রতিষ্ঠানের আওতায় রয়েছে ৩টি ফিশিং ট্রলার। যার আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি টাকা। এ প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন দেশে মাছ রফতানি করা হয়। পাইরোল নিজ গ্রামে বাড়ির আশপাশে রয়েছে ৫টি পুকুর। এসবের মূল্য অন্তত ১০ কোটি টাকা।
৮০ কোটি টাকা আত্মসাৎ : প্রশ্ন হচ্ছে, সাধারণ একজন ডাক কর্মচারী কিভাবে হলেন এত অর্থ-বিত্তের মালিক? সম্প্রতি চট্টগ্রাম জিপিও সঞ্চয় ব্যাংকে উদ্ঘাটিত ৩০ কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের ঘটনায় এর জবাব খুঁজছে দুদক।

ওই ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পোস্ট মাস্টার নূর মোহাম্মদ এবং পোস্টাল অপারেটর সারওয়ার আলমকে আসামি করে মামলা করে চট্টগ্রাম জিপিও। মামলাটি তদন্ত করছেন দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম মোড়ল। এদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ সাইফুলের ফুফাতো ভাই। সারওয়ার আলমকেও চাকরি দিয়েছেন সাইফুল। তা অতিঘনিষ্ট দু’জন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট খুলে ভুয়া জমা দেখিয়ে সেটি কয়েকশত গুণ বাড়িয়ে উত্তোলন করছেন টাকা। এভাবে গত কয়েক বছরে চট্টগ্রাম জিপিও থেকে ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

দুদক সূত্র জানায়, মামলার তদন্তে ১২ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা চট্টগ্রাম জিপিওতে ‘সাইফুলের লোক’ হিসেবে পরিচিত। সাইফুল ইসলামের তদবিরে নূর মোহাম্মদকে সঞ্চয় শাখায় পোস্টিং দেয়া হয়। দায়িত্বে বসার এক বছরের মাথায় জালিয়াতির মাধ্যমে ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ধরা পড়ে। গ্রাহকদের মধ্যে রায়ফা হোসেনের ১৬ লাখ, লাকী আক্তারের ১৪ লাখ এবং সাকী আক্তারের ১৫ লাখ টাকা ডাক বিভাগের নথিতে না তুলে আত্মসাৎ করেন নূর মোহাম্মদ ও অপারেটর সরওয়ার আলম খান।

এর আগেও চট্টগ্রাম জিপিও’র সঞ্চয় শাখা থেকে আরো অন্তত: ৫০ কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়। ওই সময় টিআই (টাউন ইন্সপেক্টর) ছিলেন সাইফুল। তার অধীনস্থ আকতার আলী (এসবি-৭০০২২৪), লাকি আকতার (এসবি-৬৮৬৬৩৫), নূর মোহাম্মদ (এসবি-৬৬৮৭৪৬), আয়েশা বেগম (এসবি-৬৪২৫৭৫), রিহাবউদ্দিন (এসবি-৬৯০৪০৬), মুক্তা বেগম (এসবি-৬৮৯৭৩১), মুক্তা বেগম (এসবি-৭০০২৪৭), আরবার সালেনূর (এসবি-৬৬৬০১৩), লাকি আকতার (এসবি-৬৯৬২৫১), রায়ফা হোসেন (এসবি-৬৯৯৩৫০) এবং মো. খোকনের (এসবি-২৫৪৭৪৭) অ্যাকাউন্টের বিপরীতে জালিয়াতির মাধ্যমে এই অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়। সাইফুলের চাকরিচ্যুত ড্রাইভারের নাম খোকন। আগে তার নামে একটি ফিক্সড ডিপোজিট (এফডি-২৫৪৭৪৭) করা হয়। ২০১২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এই অ্যাকাউন্টে জমা দেখানো হয় ১০০০ টাকা। ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ জমা দেখানো হয় ৫,০০,০০০ লাখ টাকা। ২০২০সালের ২৩ মার্চ এই অ্যাকাউন্ট থেকে মুনাফাসহ উত্তোলন করা হয় ৬ লাখ ৬৯ হাজার ২শ’ টাকা।

ড্রাইভারসহ বিভিন্ন জনের নামে অ্যাকাউন্ট খুলে ভুয়া জমা দেখিয়ে তিনি এভাবে অর্থ তুলে নেন। ওই সময় অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি হলেও সাইফুল থেকে গেছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। সর্বশেষ ৩০ কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের ঘটনা ধরা পড়ার পরও একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি হয়। রহস্যজনক কারণে এ কমিটিও প্রতিবেদন দাখিলে কালক্ষেপণ করছে।

তবে ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. সিরাজউদ্দিন অভ্যন্তরীণ তদন্ত সম্পর্কে বলেন, আমরা এখনও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাইনি। কমিটি এখনও কাজ করছে। তিনি বলেন, ডাক বিভাগের কোনো ফ্রড দু’জন কিংবা তিনজন মিলে সম্পাদন করতে পারে না। এটি একটি চেইন। প্রত্যক্ষভাবে দু’য়েকজন থাকলেও নেপথ্যে অনেকের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। দু’জন গ্রেফতার হলেও এর সঙ্গে পরোক্ষভাবে আর কে কে জড়িত আছে- সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এবং দুদকের তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম চৌধুরী গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ইনকিলাবকে বলেন, আমি এখন গাড়িতে আছি। আপনার সঙ্গে পরে কথা বলব।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
বেলায়েত হোসেন ১৮ অক্টোবর, ২০২১, ১২:২১ এএম says : 0
রবি ঠাকুরের পোস্ট মাস্টার গল্পের পাঠক নিশ্চয়ই বিশ্বাস করবেন ডাক কর্মচারি চোর জোচ্চোর গুন্ডা ডাকাত পয়দা করতে পারেন না। তার ডিএনএ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তদন্তের নামে বাণিজ্য বা দীর্ঘসূত্রতা না হয় এমন প্রত্যাশা আমার নাগরিক অধিকার। টাকার উত্তাপ ছড়িয়ে কোনো দলীয় প্রতীক গলায় ঝুলিয়ে বিজয়ের ঢোল বাজিয়ে রাজকৃষ্ণ রোডের ভবনে ঢুকে সাহসী প্রতিবেদক সাঈদ আহমেদ এবং আপসহীন সম্পাদক বাহাউদ্দীন সাহেবকে ধমক দেন কি-না সে অপেক্ষা করতেই হবে।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন