বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৫ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

নাটোরে শিশু বাবলী হত্যার রহস্য উন্মোচন

ধর্ষণের পর হত্যা, মৃতদেহ গুমে খুনির বাবাও জড়িত

নাটোর জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৪ অক্টোবর, ২০২১, ৩:৪৭ পিএম

নাটোরে শিশু বাবলী হত্যার রহস্য উন্মোচন, ধর্ষণের পর হত্যা, মৃতদেহ গুমে খুনির বাবাও জড়িত। ঘটনাটি ঘটেছিল জেলার লালপুর উপজেলার চংধুপইল ইউনিয়নের আব্দুলপুর মধ্যপাড়া গ্রামে। সেখানে ১৯ শে অক্টোবর শিশু নুসরাত জাহান বাবলীকে (৭) নিজ বাড়িতে একা পেয়ে প্রথমে ধর্ষণ করে কিশোর ইলিয়াস হোসেন ইমন (১৫)। তার পরে হাঁসুয়ার আঘাতে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিতের পর মৃতদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তায় ভরে টয়লেটের টাংকিতে রাখে ইমন। একদিন পর বাবলীর মৃতদেহ আবার টাংকি থেকে বাবলীর বাড়ির অদূরে একটি ধানক্ষেতে ফেলে রাখে। নিখোঁজের পূর্বে বাবলী ইমনদের বাড়িতে আসার কথা জানাজানি হলে বাবা ফাইজুল ইসলাম জিজ্ঞাসা করলে ইমন হত্যার কথা স্বীকার করে। তখন নিজ বাবা ফাইজুল ইসলামের (৪০) সহায়তায় বস্তাবন্দি মৃতদেহটি দূরের আরেকটি ধানক্ষেতে ফেলে আসে। রবিবার জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করেন জেলা পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।
এর আগে শনিবার রাতে কিশোর ইমন ও তার বাবা ফাইজুল ইসলামকে গ্রেফতার করে লালপুর থানা পুলিশ। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত হাঁসুয়াটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাবলী ওই গ্রামের বাবু হোসেনের মেয়ে।
পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, গত ১৯ শে অক্টোবর নিহত বাবলী ও হত্যাকারী ইমনসহ বেশ কয়েকজন শিশু পিকনিকের জন্য প্রতিবেশি আরশেদ আলীর বাড়িতে যায়। রান্না শেষে গোসলের জন্য সবাই বাড়ির বাইরে গেলে ইমনও তার বাড়িতে চলে আসে। ইমন তার বাড়িতে একাকী টিভি দেখা অবস্থায় শিশু বাবলী তার বাড়িতে গেলে বাবলীকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে ইমন। বাবলী কান্নাকাটি করলে ইমন তার গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বাবলী নিস্তেজ হয়ে পড়লে ধারালো হাঁসুয়ার উল্টোদিক দিয়ে বাবলীর ঘাড়ে আঘাত করলে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, বাবলীকে হত্যার পর তাৎক্ষণিক মৃতদেহ বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটে ফেলে দেয় কিশোর ইমন। পরদিন ২০ অক্টোবর রাতে টয়লেট থেকে মৃতদেহ তুলে বাবলীর বাড়ির ৫০০ মিটার দূরে জিয়া মেম্বারের আম বাগানের পাশের ধানক্ষেতে ফেলে রাখে। পরদিন বাবা ফাইজুল ইমনের কাছে জানতে চান তাদের বাড়িতে বাবলীর আসার ঘটনা সত্য কি না। এসময় বাবার কাছে হত্যা ও মৃতদেহ রেখে আসার স্থান বলে দেয় ইমন। তখন বাবা ফাইজুল ছেলেকে বাঁচাতে ধানক্ষেত থেকে বস্তাটি সরিয়ে আরেকটু দূরে মাসুদ রানার ধানক্ষেতে ফেলে আসে।
লিটন কুমার সাহা আরও বলেন, হত্যার দিন দুপুরে আরশেদ আলীর বাড়িতে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে বাবা বাবু হোসেন আত্মীয়স্বজনদের জানানোর পাশাপাশি আব্দুলপুর এলাকায় মাইকিং ও রেলস্টেশনে পোস্টারিংও করেন। নিখোঁজের ৪দিন পরে বাবলীর বাবা বাবু জানতে পারেন তার বাড়ির ৭০০ মিটার দূরে একটি জমিতে বস্তাবন্দি অবস্থায় একটি মৃতদেহ পড়ে আছে ৷ এসময় বাবু সেখানে গিয়ে মেয়ের অর্ধগলিত মৃতদেহ সনাক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক জোবায়ের, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফজলুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ জালাল উদ্দীনসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন