শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৮ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

অনিশ্চয়তার দোলাচলে ঝুলছে

বরিশালে পর্যটন মোটেল প্রকল্প বরিশাল-খুলনায় নেই জাতীয় পর্যটন প্রতিষ্ঠানের কোনো স্থাপনা

নাছিম উল আলম : | প্রকাশের সময় : ৩ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০৩ এএম

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সাথে পর্যটন করপোরেশন প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর অতিক্রম করলেও দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুটি বিভাগীয় সদরে সংস্থাটির হোটল-মোটেলসহ কোন স্থাপনা গড়ে ওঠেনি। অথচ দেশের অনেক গুরুত্বহীন স্থানেও শুধু রাজনৈতিক তদবিরে পর্যটন করপোরেশনের এমন সব স্থাপনা গড়ে উঠেছে, যা ন্যূনতম পরিচালন মুনাফাও করতে পারছে না। কিন্তু সাগর সৈকত কুয়াকাটায় পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে বরিশালে একটি মোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা ঝুলে আছে পাঁচ বছর যাবত।
অথচ এ লক্ষ্যে বরিশালে কির্তনখোলা নদীর পাড়ে বিআইডব্লিউটিএ’র অধুনালুপ্ত মেরিন ওয়ার্কসপের পরিত্যক্ত প্রায় এক একর জমি ৩০ বছরের জন্য পর্যটন করপোরেশনকে ইজারা প্রদান করা হয়েছে। এজন্য গত ৫ বছরে পর্যটন করপোরেশন ইজারা মূল্য বাবদ বিআইডব্লিউটিএকে ১০ লক্ষাধিক টাকা পরিশোধ করলেও সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে মূল প্রকল্পটি এখন চরম অনিশ্চয়তায়। অথচ ডিপিপি অনুযায়ী চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও তার বাস্তবায়নের কোন লক্ষণ নেই এখনো।
১৫৩ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ ‘বরিশাল পর্যটন মোটেল ও ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন প্রকল্প’ নামের একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা-ডিপিপি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পরে বছর দুয়েক আগে পরিকল্পনা কমিশনে দাখিল করা হলে সেখান থেকে তা অনুমোদনের আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি গ্রহণের কথা বলা হয়। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় আশ্চর্যজনকভাবে এ প্রকল্পটির জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্ধের পরিবর্তে ৬৬.৬৬ ভাগ অর্থ সরকারি অনুদান এবং অবশিষ্ট ৩৩.৩৪% শতকরা পাঁচ ভাগ সুদে ১৫ বছরে পরিশোধ করার শর্তে ঋণ গ্রহণের কথা বলেছে। এরপর থেকেই বিষয়টি অনিশ্চয়তার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। ইতোপূর্বে সংস্থাটির কোন প্রকল্পে এ ধরনের শর্ত জুড়ে দেয়নি সরকার।
বিষয়টি নিয়ে পর্যটন করপোরেশনের জিএম ও পরিচালক পর্যায়ে যোগাযোগ করা হলে এর বাইরে কোন কথা বলতে রাজি হননি কেউ। গত মাসেই পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান অবসরে চলে গেছেন। একজন অতিরিক্ত সচিব পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকলেও তিনি নিয়মিত কাজের বাইরে কোন নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন না। ফলে বরিশালে পর্যটন মোটেল ও ট্রেনিং সেন্টারটির ভবিষ্যত কবে আলোর মুখ দেখবে তা বলতে পারছেন না কেউ।
বরিশালে প্রস্তাবিত ৮তলা মোটেল ভবনটিতে ৮০টি কক্ষ থাকার কথা। একাধিক লিফট সম্বলিত এ ভবনে দুটি এক্সিকিউটিভ স্যুট, ৩৮টি দ্বৈত শয্যার কক্ষ ও ৪০টি তিন শয্যার কক্ষ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়। এছাড়াও অত্যাধুনিক মানসম্মত রেস্টুরেন্ট, পুল ক্যাফে, সুইমিং পুল, জিম ও স্প্যা সুবিধারও প্রস্তাব করা হয়েছে প্রকল্প প্রস্তাবনায়। মোটেলটির পাশের কির্তনখোলা নদীতে ভবিষ্যতে রিভার ক্রুজের ব্যবস্থা সম্বলিত আরো একটি প্রকল্প বাস্তবায়নেরও কথা ছিল।
বরিশালের এ পর্যটন মোটেল সংযুক্ত ট্রেনিং সেন্টারটিতে প্রতি ব্যাচে ৪০ জন করে হোটেল ম্যানেজমেন্ট ও ট্যুরিজমের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রস্তাব ছিল। সাড়ে ৩ মাসের এ প্রশিক্ষণ শেষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সার্টিফিকেট প্রদানের কথা। ঢাকার বাইরে বরিশালে একটি হোটেল ম্যানেজমেন্ট ও ট্যুরিজম ট্রেনিং সেন্টার স্থাপিত হলে দক্ষ কর্মী গড়ে তোলাও সম্ভব হত। উপকৃত হতে পারত এ অঞ্চলের শিক্ষিত বেকার তরুণ সমাজ। এসব তরুণদের বেশিরভাগই ঢাকায় গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সামর্থ্য নেই। পাশাপাশি ঢাকায় দেশের একমাত্র ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়াও বেশিরভাগ বেকার যুবকের পক্ষে ভাগ্যের ব্যাপার।
খুলনায় পর্যটন করপোরেশনের নিজস্ব প্রায় ৬ একর জমি থাকলেও সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পরেও সেখানে কোন হোটল বা মোটেল নির্মিত হয়নি। এমনকি বরিশাল ও খুলনায় একমাত্র বিভাগীয় সদর যেখানে এখন পর্যন্ত জাতীয় পর্যটন প্রতিষ্ঠানের কোন স্থাপনা গড়ে ওঠেনি। অথচ এ দুটি বিভাগীয় সদরে এ ধরনের আবাসন সুবিধা গড়ে উঠলে শুধু মহানগরী নয় সমগ্র দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পর্যটন সুবিধাই সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এমনকি এসব পর্যটন মোটেল কুয়াকাটা ও সুন্দরবনসহ এ অঞ্চলে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও পর্যটনবান্ধব ট্রানজিট স্পট হিসেবেও কাজ করত বলে মনে করছেন ট্যুর অপারেটররা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন