শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৬ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

সীমাহীন ভোগান্তিতে যাত্রীরা

আলুরবাজার ঘাটে ড্রেজিংয়ে ধীরগতি এক মাস ধরে ঘাটে ভিড়তে পারছে না লঞ্চ

মো. হাবিবুর রহমান হাবীব, শরীয়তপুর থেকে : | প্রকাশের সময় : ৯ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০৩ এএম

নরসিংহপুর আলুরবাজার লঞ্চ ঘাটের অদূরে পদ্মার শাখা নদীতে ডুবোচর জেগে ঘাট এলাকায় নাব্যতা সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ড্রেজিং চলছে ধীর গতিতে। এতে শরীয়তপুর-চাঁদপুর, শরীয়তপুর-ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, বরিশালের সাথে নৌরুটে লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিঘ্নিত হচ্ছে শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরি চলাচল।
গতকাল শনিবার আলুর বাজার ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নাব্যতা না থাকার কারণে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে লঞ্চঘাটের মুখে নদীতে ড্রেজারের পাইপ ফেলে রাখায় দীর্ঘদিন ধরে ঘাটে লঞ্চ ভিড়তে পারছে না। ফলে এ অঞ্চলের যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় মোকতার দিদার জানান, প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার লোক যাতায়াত করে থাকে এ ঘাট দিয়ে। ড্রেজিং চলায় এ ঘাটে লঞ্চ ভিড়তে না পারায় মালামাল লোড-আনলোডেও সমস্যা হচ্ছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যেও ব্যাঘাত ঘটছে এবং চরম বিপাকে পড়েছে বালারহাট, মোল্যারহাট, সখিপুর ও ডিএমখালি বাজারের ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় বালাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা লোকমান হোসেন বলেন, দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে আলুবাজার ঘাটে লঞ্চ ভিড়ছে না। এ ঘাটের যাত্রীদের মাঝ নদীতে চরে ট্রলারে করে নিয়ে লঞ্চে তুলে দেয়। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। শিশু, বয়স্ক ও নারী যাত্রীদের ভোগান্তি সীমাহীন। এ ব্যাপারে ঘাটের লোকজনদের বলে কোন সমাধান হচ্ছে না। তারা ড্রেজিংয়ের জন্য সমস্যা হচ্ছে বলে এড়িয়ে যাচ্ছে।
পাশের ফেরি ঘাট ব্যবহারকারী দিদার পরিবহনের চালক মো. বাদশা মিয়া বলেন, শীতকালে নদীর পানি কমে যাওয়ার সাথে নাব্যতা সঙ্কটে ঠিকমত ফেরি চলে না। এছাড়া একটি ড্রেজার দিয়ে নদীতে থেমে থেমে ড্রেজিং করায় ঘাটটি প্রায়ই বন্ধ থাকে। ফলে প্রায় প্রতিদিনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। যশোর থেকে আসা ট্রাকচালক আনোয়ারুল বলেন, নদীর পানি কমে যাওয়া ও নাব্যতা সঙ্কটে এ পথে ফেরি চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। ঘাটের সামনে ড্রেজিং করায় প্রায় দিনই ঘাটে সমস্যা হয়। এতে যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমনকি দিনের পর দিন বসে থাকতে হয়।
শরীয়তপুর জেলা পুলিশের টিআই মো. খোরশেদ বলেন, নাব্যতার জন্য ড্রেজিং করা হচ্ছে। যা দীর্ঘদিন বিলম্বিত হওয়ায় লঞ্চ ঘাটটিতে এখন আর লঞ্চ ভিড়ছে না। অপরদিকে ফেরি পারাপার ও ঘাটে সমস্যা দেখা দেয়ায় এ পথে যাত্রী ও গাড়ি সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশলী (ড্রেজিং) সফিক আহমেদ বলেন, নরসিংহপুর ঘাটের নাব্যতা বজায় রাখার জন্য একটি ড্রেজার প্রায় ৩৫ দিন যাবৎ কাজ করছে। লঞ্চঘাট বন্ধের বিষয়ে আমার জানা নেই।
নরসিংহপুর ফেরি ঘাটের ইজারদার মো. জিতু মিয়া বলেন, নাব্যতার জন্য ড্রেজিং চলছে। যা প্রধানমন্ত্রী যাত্রীদের সুবিধার জন্য করাচ্ছেন। তা যাত্রীদের উপকারে না এসে ক্ষতি হচ্ছে। লঞ্চ ঘাটটি দীর্ঘদিন বন্ধ। এতে যে সমস্যা হচ্ছে তা সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি। বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক কাউসার আহমেদ বলেন, ফেরি ঘাটে ড্রেজিং চলছে। নদীটি সরু হওয়ায় আমরা লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছি। ড্রেজিং কতদিন চলবে তা আমি বলতে পারবো না।
এ বিষয়ে ড্রেজিং বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ওই খানের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু বক্করের সাথে কথা বলতে বলেন। আলুরবাজার ফেরিঘাটের ড্রেজিং কাজ তদারককারী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, প্রতিবছর আলুর বাজার ঘাটের নদী থেকে ৪ লাখ ঘনমিটার মাটি অপসারণ করে থাকি। ৩৫ দিন যাবৎ ড্রেজিং করছি। আর ১০-১২ দিনের মধ্যে ড্রেজিং শেষ হলে লঞ্চ চলাচল শুরু করা যাবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন