শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ১৫ মাঘ ১৪২৮, ২৫ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

সম্পাদকীয়

শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক আইন মেনে চলা জরুরি

| প্রকাশের সময় : ১৪ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০৪ এএম

আমাদের সড়ক-মহাসকগুলোতে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ঘটনা কমছে না। প্রায় প্রতিদিনই সড়ক-মহাসড়কে গাড়ী দুর্ঘটনায় হতাহত হচ্ছে মানুষ। বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বুধবার গণভবন থেকে ভার্চুয়াল ফর্মে সড়ক ও জনপথ বিভাগের চারটি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলা উন্নয়নের বিষয়ে কথা বলেন তিনি। আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনার নানামুখী বাস্তবতা বিদ্যমান রয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে চালক-হেল্পারদের ধরে গণপিটুনি দেয়া ও হত্যা করার মত ঘটনাও ঘটে থাকে কখনো কখনো। কোনো সভ্য সমাজে এটি কাম্য নয়। দুর্ঘটনার সাথে জড়িতদের অবশ্যই আইনের হাতে তুলে দিতে হবে এবং সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা জানি সড়ক দুর্ঘটনার জন্য অদক্ষ, অযোগ্য ও লাইসেন্সবিহিন ও বেপরোয়া চালকরাই বহুলাংশে দায়ী। সেইসাথে অসচেতন যাত্রী ও পথচারিদেরও দায় রয়েছে। বিশেষত স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে প্রায়শ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে এবং এসব দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও হতাহত হন। এ কারণেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশের রাস্তায় ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদেরও ভ’মিকা পালনের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেইসাথে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ট্রাফিক আইন ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা বিষয়ে আইন ও নিয়মকানুন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না।

দু বছর আগে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী বেপরোয়া গাড়ীর প্রতিযোগিতায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ফুটপাতে পিষ্ট হয়ে মারা যায়। সে ঘটনায় সারাদেশের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে। তারই প্রেক্ষিতে দেশের ট্রাফিক আইনে পরিবর্তন আনা হয়। সেইসাথে সারাদেশে সড়ক-মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ স্পটগুলোকে চিহ্নিত করে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়। বুধবার উদ্বোধন হওয়া স’ও জ’র চারটি প্রকল্পের মধ্যে রমিজউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের রাস্তায় পথচারি আন্ডারপাস তারই একটি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এটি নির্মিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় সেই দুই শিক্ষার্থীর কথাও স্মরণ করে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জ্ঞান ও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রনালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এটি নি:সন্দেহে একচি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনা ও নির্দেশনা প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। গণপরিবহন ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন ও বিধিবিধানসমুহ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দেশের সব রাজনৈতিকদল ও সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক সমর্থন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীও শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। রোড সেইফটি ফাউন্ডেশন নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের চেয়ে ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ ভাগ, প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে ৪.২২ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা বেড়েছে ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। গত বছর জানুয়ারিতে প্রকাশিত সেই প্রতিবেদন অনুসারে ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫হাজার ৪৩১জন নিহত এবং আহতের সংখ্যা ৭ হাজারের বেশি। এ থেকে স্পষ্টতই বোঝা যায়, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের নানামুখী উদ্যোগগুলো এখনো কার্যকর সুফল বয়ে আনতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ও দুর্বলতাগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। চিহ্নিত ব্ল্যাক স্পট বা দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারি এবং ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস নির্মান, রাস্তা প্রশস্তকরণসহ প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে এ ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক ফলাফল আশা করা যায়। তবে ট্রাফিক আইনের যথেচ্ছ লঙ্ঘন, বেপরোয়া গাড়ী চালনা এবং ভুয়া লাইসেন্সে অদক্ষ-অযোগ্য চালকদের গাড়ী চালনা বন্ধ করতে হবে সবার্গ্রে। সেইসাথে যাত্রি, পথচারি এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপার ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা মেনে চলার জন্য প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। পাঠ্য বিষয়ের কারিকুলামেও এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন