শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৮ মাঘ ১৪২৮, ১৮ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশ্বসেরা হবে বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০০ এএম

করোনা মহামারির প্রভাবে কমেছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের ফলে আগামী দিনে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধি আরও কমবে। তবে এই সময়ে প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ হবে বিশ্বসেরা। বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও অগ্রগতি ধরে রাখবে বাংলাদেশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। পরবর্তী (২০২২-২৩) অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার হবে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে শুধু ভারত বাংলাদেশকে পেছনে ফেললেও ২০২২-২৩ অর্থবছরে গোটা বিশ্বকে পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ।

গতকাল ওয়াশিংটন থেকে গ্লোবাল আউটলুক প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। এতে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রকাশিত আউটলুকে নতুন বছরের প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকির কথাও বলেছে বিশ্বব্যাংক।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, করোনা সংকটের কারণেই এমন বৈশ্বিক মন্দা। করোনার প্রকোপ কমাতে লকডাউন দেওয়া হয়, ফলে সাপ্লাই চেইন ঠিক থাকে না। এতে করে শিল্প কারখানায় ব্যাপক ক্ষতিসহ অনেক মানুষ চাকরি হারাচ্ছেন। উদীয়মান বাজার এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতি বাধার সম্মুখীন হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল এবং আরও ভঙ্গুর হচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। অনেক দেশে ভ্যাকসিনেশন অগ্রগতির মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। এসবের ফলে বাড়ছে করোনা সংকট। যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।

উন্নত দেশেও প্রবৃদ্ধি অর্জনে মন্দা : ২০২১-২২ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। পরবর্তী অর্থবছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ সময়ে প্রবৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৬ শতাংশ হবে। ইউরোপেও বিপর্যয় হবে প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিক থেকে। চলতি অর্থবছরে ইউরোপের দেশগুলো প্রবৃদ্ধির হার হবে ৩ শতাংশ। এর পরের অর্থবছরে হবে মাত্র ২ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির হার কমবে জাপানেও। মূলত ওমিক্রনের কারণেই এমন শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে গ্লোবাল আউটলুকে। ২০২১-২২ অর্থবছরে জাপানের প্রবৃদ্ধি হবে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। পরবর্তী অর্থবছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ সময়ে প্রবৃদ্ধির হার হবে ১ দশমিক ২ শতাংশ।

প্রবৃদ্ধি অর্জনে উন্নয়নশীল দেশেও বিপর্যয় : ওমিক্রনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে। এই বৈশ্বিক মন্দার মধ্যে বাংলাদেশের আশেপাশে ভারত ছাড়া কোনো দেশ নেই। প্রবৃদ্ধি অর্জনে চীন, পাকিস্তান, সউদী আরবসহ নানা দেশকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ।

পূর্ব এশিয়ায় সেরা চীন : তবে করোনা সংকটেও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখবে পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধি সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে হবে ৫ দশমিক ২ শতাংশ, ২০২২ সালে যা প্রাক্কলন করা হয় ৫ দশমিক ১ শতাংশ। তবে এই অঞ্চলে চীন সেরা প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। চলতি অর্থবছরে ইন্দোনেশিয়া ৫ দশমিক ২ ও পরের বছর ৫ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্দি অর্জন করবে। চলতি অর্থবছরে থাইল্যান্ড ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং পরের বছর ৪ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।
ইউরোপের সেরা পোল্যান্ড : চলতি অর্থবছরে ইউরোপের দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির হার হবে ৩ শতাংশ, এর পরের অর্থবছরে হবে মাত্র ২ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে প্রবৃদ্ধি অর্জনে ইউরোপের সেরা হবে পোল্যান্ড। চলতি অর্থবছরে পোল্যান্ডের প্রবৃদ্ধির হার হবে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ, এর পরের অর্থবছরে হবে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে রাশিয়ার প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৪ শতাংশ, এর পরের অর্থবছরে হবে মাত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে তুরস্ক ২ শতাংশ ও পরের বছর ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।

ল্যাটিন আমেরিকায় মেক্সিকো : ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো চলতি বছরের ২ দশমিক ৬ এবং পরের বছর ২ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। দেশগুলোতে মন্দের ভালো মেক্সিকো। চলতি অর্থবছরে দেশটি ৩ শতাংশ এবং পরের বছর ২ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ব্রাজিলের প্রবৃদ্ধির হার হবে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। পরবর্তী অর্থবছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ সময়ে প্রবৃদ্ধির হার হবে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে আর্জেন্টিনা ২ দশমিক ৬ ও পরবর্তী অর্থবছরে ২ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রবৃদ্ধি অর্জনে সেরা মিশর : মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো চলতি অর্থবছরে ৪ দশমিক ৪ ও পরের অর্থবছরে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। একই সময়ে প্রবৃদ্ধির হার বেশি হবে মিশরে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, পরের বছরেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে দেশটি। চলতি অর্থবছরে সউদী আরবের প্রবৃদ্ধির হার হবে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ, পরবর্তী অর্থবছরে হবে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে ইরানের প্রবৃদ্ধির হার হবে ২ দশমিক ৪ শতাংশ, পরবর্তী অর্থবছরে হবে ২ দশমিক ২ শতাংশ।

সাব-সাহারান আফ্রিকা : চলতি অর্থবছরে এই অঞ্চলে গড় প্রবৃদ্ধির হার হবে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, পরবর্তী অর্থবছরে হবে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। এসব অঞ্চলে নাইজেরিয়া সেরা, দেশটি ২ দশমিক ৫ ও ২ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রবৃদ্ধির হার হবে ২ দশমিক ১ শতাংশ, পরবর্তী অর্থবছরে হবে ১ দশমিক ৫ শতাংশ।

প্রবৃদ্ধির হার কমবে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে : এই অঞ্চলে ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধির হার কমে হবে ৬ শতাংশ। অথচ ২০২২ সালে প্রবৃদ্ধির হার প্রাক্কলন করা হয় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। গ্লোবাল আউটলুকে দেখা গেছে ২০২৩ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বাংলাদেশ ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধির হার হবে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারতের অর্জন হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধির হার হবে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, পরের বছরের অর্জন হতে পারে ৪ শতাংশ। ফলে ২০২৩ সালে বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশ বাংলাদেশ হবে বলে বিশ্বব্যাংক গ্লোবাল আউটলুক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (9)
মামুন রশিদ চৌধুরী ১৫ জানুয়ারি, ২০২২, ৬:৩৫ এএম says : 0
আলহামদুলিল্লাহ খুবই ভালো খবর। এজন্য প্রবাসী ও গার্মেন্টসকমীদের অবদান বেশি।
Total Reply(0)
জনিরুল ইসলাম ১৫ জানুয়ারি, ২০২২, ৬:৩৫ এএম says : 0
বাংলাদেশ থেকে শুধু দুর্নীতি দূর করতে পারলে দেশ অনেক উন্নত হয়ে যাবে।
Total Reply(0)
জি এম জাহাংগীর আলম ১৫ জানুয়ারি, ২০২২, ৬:৩৬ এএম says : 0
এই খবর শুনে ভারতীয়দের গায়ে তেলে বেগুনে জ্বলবে।
Total Reply(0)
বিরাট কোহলি ভক্ত ১৫ জানুয়ারি, ২০২২, ৬:৩৬ এএম says : 0
এসবই প্রবাসী ও গার্মেন্টস কর্মীদের অবদান।
Total Reply(0)
ছাইফ উদ্দিন আহমেদ ১৫ জানুয়ারি, ২০২২, ৯:১৬ এএম says : 0
আলহামদুলিল্লাহ পড়ে খুব ভালো লাগলো।
Total Reply(0)
Mohamed Sajedur Rahman ১৫ জানুয়ারি, ২০২২, ৪:২৫ এএম says : 0
Congratulations to the People of Bangladesh and it's present Government
Total Reply(0)
ম নাছিরউদ্দীন শাহ ১৫ জানুয়ারি, ২০২২, ২:৫৭ পিএম says : 0
বিশ্বের মাঝে বাংলাদেশের জন‍্যে আত্মমর্যাদার সম্মানজনক শিরোনাম। এটি বিশ্ব ব‍্যাংকের পরিসংখ্যান রিপোর্ট। ভিশনারী লিডারশিপের বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার একটি সরকারের দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমতাই থাকার ফসল। ঐক্যবদ্ধ জাতি শৃংখলা ধারা বাহিকতা থাকলে বিশ্বের মাঝে অর্থনৈতিক শক্তি সমৃদ্ধশালী মর্যাদাবান বাংলাদেশ প্রতিষ্টিত হবেই হবে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংসের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সরকারের আইন শৃংখলা বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্ত নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক মানবধিকার প্রতিষ্টান গুলো বিভিন্ন সময়ের হত‍্য ঘুম খুনের ভয়াবহ রিপোর্টের উপরে ভিক্তি করে যদিও বাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা। বাস্তবতা হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক রাজনীতির কৌশলের সর্তকবাণীর প্রথম নিষেধাজ্ঞা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষ কুটনৈতিক ব‍্যার্থতার নিষেধাজ্ঞা। যাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন তারা কেও অবসরপ্রাপ্ত কিছু সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। সরকার এবং অর্থনীতি চাকা এখনও সচল।পরবর্তী আন্তর্জাতিক কোন বিধি নিষেধাজ্ঞা বা আন্তর্জাতিক কোন চাপ বা আন্তর্জাতিক রাজনীতি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়লেই আমাদের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। খতিগ্রস্থ হবে বাংলাদেশের মানুষ আবার ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বিশ্ব ব‍্যাংক দাতা সংস্থাগুলোর কঠিন স্বর্থে ঋন নিতে হবে। পাশ্ববর্তী দেশ ভূরাজনৈতিক কিছু আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের কবলে ইতিমধ্যে পড়েছেন। দক্ষ কুটনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে ভবিষ্যত নিষেধাজ্ঞা থেকে বাচতে হবে আজকের বিশ্ব ব‍্যাংকের পরিসংখ্যান শিরোনাম বাংলাদেশের জন্যে অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার এর ধারা বাহিকতা অনিবার্য প্রযোজন। প্রযোজন ঐক্যবদ্ধ জাতি। প্রযোজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার। প্রযোজন আইন বাহিনীর শক্তিশালী শৃংখলা। বাংলাদেশের বিষ্মমকর উন্নয়ন অগ্রগতির শিরোনাম প্রকাশীত হলো। রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধান কে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব‍্যক্তিদের গভীর শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে সালাম জানাই। এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ বাংলাদেশ কে বহুদুরে এগিয়ে যেতে হবে। এই যাত্রা পথের বাধা কঠিন হলেও এগিয়ে যাওয়ার মত্র কৌশল টান্ডা মাথায় আমেরিকা ও চীনের বুদ্ধি পাশের দেশের ডাইলের মাথার কৌশলের মত্র জানা থাকলে। এভাবেই একের পর এক শিরোনাম হবে। বাংলাদেশ পেয়েছেন বিশ্বের প্রভাবশালী নেতা দের একজন দক্ষিণ এশিয়ার লৌহ মানবী। আবার মানবতার মা এবং ভীশিনারি লিডারশিপের নেতৃত্ব।
Total Reply(0)
Ziaush.shams ১৫ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:৩৭ পিএম says : 0
This is true in Bangladesh we are witnessing a healthy GDP growth rate since early ninties. Unfortunately, the growth has had not been an inclusive one. In particular section are becoming millionaire at the expense of the majority populace.By artificially inflating project cost by extending project execution time bureaucrats,contactors and rent seekers are minting money and depriving target people from availing benefits from apparently unending ongoing project.The development model has been commissioned apparently to make a selected group of people millionaire rather than ripping benefits for the target population on whose money projects are being implemented. If this trend of highest cost overrun of projects in the whole world goes on for another decade, Bangladesh will be declared as a bankrupt country. Thieves will fled abroad with the money the have minted making our motherland dry and sundry.
Total Reply(0)
MD.ZULFIQUER ISLAM ১৫ জানুয়ারি, ২০২২, ১:০২ পিএম says : 0
আশা জাগানিয়া খবর ।
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন