ঢাকা, বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

প্রধান দুই ফেরি রুটে পারাপারের অপেক্ষায় সহস্রাধিক গাড়ি

প্রকাশের সময় : ৮ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

নাছিম উল আলম : দেশের প্রধান দু’টি ফেরি রুটে নাব্য সংকটের সাথে ঘাটের সমস্যার কারণে রাজধানীসহ দেশের পূর্বাংশের সাথে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় চরম সংকট অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সকালে এ দু’টি সেক্টরে সহস্রাধিক যানবাহন আটকে ছিল। পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ’য় অব্যাহত নাব্য সংকটে মাওয়া সেক্টরে রো-রো এবং ডাম্ব ফেরিগুলো দিনের বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকায় যানবাহন পারাপার আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে, ঘাটে বাড়ছে অপেক্ষমাণ যানবাহনের সংখ্যাও। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী ও যানবাহনের চালক-হেলপার। শুধু কয়েকটি কে-টাইপ ও মিডিয়াম ফেরির সাহায্যে মাওয়া রুটে যানবাহন পারপার চলছে।
পাটুরিয়া রুটেও গত দুদিন রো-রো ফেরি ‘ভাষা শহীদ বরকত’ ইউটিলিটি ফেরি ‘মাধবীলতা’ বিকল থাকায় যানবাহন পারপারে সংকট বেড়েছে। এ ছাড়াও ওই রুটের দৌলতদিয়াতে চারটি ঘাট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব না হওয়ায় যানবাহন পারপারে সমস্যা অব্যাহত রয়েছে। ফলে যানবাহন পারপারের সংখ্যা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। গতকাল সকাল ৬টার পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দু’টি ফেরি রুটে সর্বমোট যানবাহন পারাপার হয়েছে পাঁচ হাজার তিনশ’র কিছু বেশি। যা অন্য সময়ের চেয়ে অন্তত দুই হাজার কম।
গতকাল সকাল ৬টার পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় শিমুলিয়া ও কাওড়াকান্দী ঘাটে অপক্ষেমাণ পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যাই ছিল প্রায় ৬০০। এ ছাড়াও বিপুল যাত্রীবাহী নৈশকোচসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকে ছিল এ রুটের দুই ঘাটে। মাওয়া রুটে তিনটি রো-রো ফেরির সবগুলোই বন্ধ। নাব্য সংকটে ওই রুটের লৌহজং চ্যনেলটিতে ভাটার সময় সাড়ে ছয় ফুটের বেশি নাব্যতা থাকছে না। অথচ রো-রো ফেরি চলাচল করতে অন্তত ১০ ফুট নাব্যতা প্রয়োজন। গত দিন দশক যাবতই এ রুটে নাব্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বিআইডবিøউটিএর নিজস্ব আটটি ড্রেজার ছাড়াও বেসরকারি তিনটি ড্রেজার শিমুলিয়াÑকাওড়াকান্দী রুটে পলি অপসারণ করছে। চলতি মওসুমে শুধুম এ রুটেই বিআইডবিøউটিএ ৩০ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ করবে বলে গতকাল কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী-(ড্রেজিং) আবদুল মতিন জানিয়েছেন। তার মতে আগামী দিন পনেরো অত্যন্ত কঠিন সময় পার করতে হবে আমাদের। এ সময়টি অতিক্রম করতে পারলে আসন্ন শুষ্ক মওসুমে আর এ ফেরি রুটে কোনো সমস্যা থাকবে না। এখানে প্রকৃতির সাথে লড়াই করেই পদ্মার নাব্যতা ধরে রাখার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে গতকাল সকাল ৬টার পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় পাটুরিয়া রুটে চার হাজার ২০০ মতো যানবাহন পারপার হলেও আরো অর্ধসহ¯্রাধিক অপক্ষেমাণ ছিল। এরমধ্যে দৌলতদিয়া ঘাটে অপেক্ষমাণ যানবাহনের সংখ্যা ২০০ হলেও পাটুরিয়াতে ছিল আরো তিন শতাধিক। ফলে পন্যবাহী ট্রাক চালকÑহেলপারসহ বিভিন্ন যাত্রীবাহী যানবাহনের যাত্রীদের দুর্ভোগের কোনো সীমা ছিল না। রুটের দৌলতদিয়া প্রান্তের চারটি ঘাট এখনো পরিপূর্ণভাবে চালু করতে পারেনি বিআইডবিøউটিএ।
এরই মধ্যে একটি রো-রো ও একটি ইউটিলিটি ফেরি বিকল থাকায় সংকট আরো বেড়েছে। মওসুমের এ সময়ে পাটুরিয়া রুটে সাধারণত পাঁচ হাজারের বেশি যানবাহন পারপার হয়ে থাকে। সেখানে গতকাল পারাপারের সংখ্যা ছিল চার হাজার দুই’শর মতো।
এ ব্যাপারে গতকাল বিআইডবিøউটিসির জিএম-(বাণিজ্য) এন এস শাহদত আলীর সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, নাব্যতা সংকটে মাওয়া রুটে রো-রো এবং ডাম্ব ফেরি যানবাহন পারপার করতে পারছে না। ফলে সংকট বাড়ছে। এর পরেও সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে । দ্রæততার সাথে যানবাহন পারপারে আমরা সর্বশক্তি নিয়োজিত রেখেছি। দৌলতদিয়ায় ঘাট সমস্যার কারণে পাটুরিয়া রুটে সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এখানেও আমরা বিআইডবিøউটিএর সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখছি। দু’টি ফেরি বিকল থাকার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, আজ-কালের মধ্যে সে সমস্যার সামাধানের লক্ষ্যেও আমরা কাজ করছি। দেশের প্রধান দু’টি ফেরি রুটে এ বিপত্তির কারণে বরিশাল ও খুলনা বিভাগসহ ফরিদপুর অঞ্চলের ২১টি জেলার সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা অনেকটাই সংকটের মুখে। এমনকি এর ফলে দেশের প্রধান স্থল বন্দর বেনাপোল ও ভোমড়া ছাড়াও দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মংলার সাথে দেশের বেশির ভাগ এলাকার পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাও অনেকটা অচলাবস্থার মুখে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন