মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯, ২৭ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

পূর্বাচলে পরিবেশবান্ধব সড়ক

পূর্বাচল নতুন শহরে অনেক সুবিধার ৩০০ ফুট সড়ক ১২ কিলোমিটার যেতে লাগবে মাত্র ৭ মিনিট ৩০০ ফুট সড়ক হবে হাতিরঝিলের চেয়েও আধুনিক স্থাপত্যকলার অন্যতম নিদর্শন : ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন

মো. খলিল সিকদার, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) থেকে : | প্রকাশের সময় : ২৩ মে, ২০২২, ১২:০২ এএম

রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে ১২ কিলোমিটার দূরত্বের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে যেতে মাত্র ৭ মিনিট লাগবে। প্রকল্পের শেষ প্রান্ত রূপগঞ্জের কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত দূরত্ব ১২ কিলোমিটার। এখনো দেশের দৃষ্টিননন্দন এই সড়কের নির্মাণ চলমান। ৩০০ ফুট চওড়া হওয়ায় নাম দেওয়া হয়েছে ৩০০ ফুট সড়ক।
রাজউক বলছে, ৩০০ ফুট সড়ক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দৃষ্টিনন্দন এক্সপ্রেসওয়ের অন্যতম। পশ্চিমের প্রগতি সরণি ও বিমানবন্দর সড়কের সঙ্গে পূর্বে ইস্টার্ন বাইপাসকে সংযুক্তকারী এই সড়ককে বলা হচ্ছে দেশের অন্যতম পর্যটন স্থাপনাও। কাজ শেষে এটি হবে পরিবেশবান্ধব যানজটহীন একটি উন্নত সড়ক।

পূর্বাচল প্রকল্প সূত্র জানায়, গত জানুয়ারিতে সবশেষ কাজ বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও এক্সপ্রেসওয়েতে নির্মাণ করা ১০টি বড় সেতুর কারনে কিছুটা দেরি হয়। সড়কে রয়েছে রাজধানীর হাতিরঝিলের আদলে ১৩টি আর্চ ব্রিজ। বৃষ্টির পানি নিস্কাশনে ৪ কিলোমিটার নালা, দু’টি কালভার্ট, ১২টি ওয়াটার বাসস্ট্যান্ড ও ৪টি পাতাল পথ। শুধু তাই নয়, দুই পাশের খালে চলবে ওয়াটার বাস। যা মূলত পর্যটকদের জন্যই চালু করা হবে। খালের দুই পাশে তৈরি করা হবে সবুজ ওয়াকওয়ে। আর এখানেই এক সঙ্গে ৪০ হাজারের বেশি পর্যটক প্রকল্পের সৌন্দর্য দেখতে পারবেন একসঙ্গে।

প্রকল্পের তত্ত্বাবধানকারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন উদ্দিন ইনকিলাবকে বলেন, এটা হবে হাতিরঝিলের চেয়েও আধুনিক স্থাপত্যকলার অন্যতম নিদর্শন। বর্তমানে কুড়িল থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত যে কয়েকটি সেতু রয়েছে, প্রত্যেকটির পাশেই নতুন সম্প্রসারিত সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে রাস্তার প্রশস্ততা ঠিক রাখতে।

সূত্র আরো জানায়, ৩০০ ফুট চওড়ায় ৮ লেন সড়কের এই দৃষ্টিনন্দন রাস্তার দুই পাশেই থাকবে পরিবেশ ও পর্যটনবান্ধব নানা স্থাপনা। মেগা প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে, ১৪ হাজার ৩২৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। প্রকল্পে সাড়ে ৪ হাজার কর্মী কাজ করছে। সেনাবাহিনী পরিচালিত বিশ্বাস বিল্ডার্সের বাস্তবায়নে ৮ লেনের এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে থাকছে ৬ লেনের সার্ভিসওয়ে এবং দুই পাশে ১০০ ফুটের পাড় বাঁধানো খাল। অত্যাধুনিক এক্সপ্রেসওয়েতে থাকবে না কোনো ধরনের স্টপওভার পয়েন্ট, সিগন্যালিং সাইন কিংবা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা। ছোট, মাঝারি ও বড় সব ধরনের যানবাহন চলবে আপন গতিতে। ফলে এর নির্মাণকাজ শেষ হলে একটি গাড়ি ৬ থেকে ৭ মিনিটে অতিক্রম করবে সাড়ে ১২ কিলোমিটার পথ।

সরেজমিন দেখা যায়, কুড়িল বিশ্বরোড থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় পুরো সড়ক চলাচল উপযোগী করা হয়েছে। এর আগে গত জানুয়ারিতে পূর্বাচলের স্থায়ী প্যাভিলিয়নে প্রথমবার অনুষ্ঠিত ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাকে ঘিরে সড়কটির নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে শুরু হয়। এ পর্যন্ত মূল লেনের অভ্যন্তরীণ সড়কের কার্পেটিং কাজ শেষ পর্যায়ে।

৩০০ ফুট সড়ক নির্মাণ কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী হামিদুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, করোনা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কাজ কিছুটা থমকে গেলেও বর্তমানে পুরোদমে চলছে। দিনরাত শ্রমিকরা এই এক্সপ্রেসওয়েটির নির্মাণ কাজ দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছেন।

পূর্বাচল ৪ নম্বর সেক্টর ও রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের (ইউপি) সদস্য রিটন প্রধান বলেন, পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়ক এশিয়ার মধ্যে অন্যতম। অন্যদিকে দেশের অন্যতম পর্যটন স্পটে রূপ নিচ্ছে। কারন, এ সড়কে যানজটের কোন সম্ভাবনা নেই। আবার সিগন্যালও নেই। ফলে স্বস্থির যাতায়াতের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী উজ্জ্বল মল্লিক ইনকিলাবকে বলেন, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও এর দক্ষ শ্রমিকরা এই এক্সপ্রেসওয়েটির নির্মাণ কাজ দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছেন। পুরো রাস্তায় চলছে কাজ। যত দ্রুত সম্ভব আমরা কাজ শেষ করব। এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ। তবে ব্রিজ কালভার্ট ও নকশা বাস্তবায়নে কিছু সময় লাগতে পারে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps