মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯, ৩০ সফর ১৪৪৪

সম্পাদকীয়

শোকের দিন ১৫ আগস্ট

আব্দুর রহমান | প্রকাশের সময় : ১৫ আগস্ট, ২০২২, ১২:০০ এএম

শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক সরদার ফজলুল করিম বলেছিলেন, ‘শেখ মুজিবকে আমরা ঈর্ষা করেছি আমাদের অতিক্রম করে বড় হওয়াতে। সবদিকে বড়। তেজে, সাহসে, স্নেহে, ভালোবাসায় এবং দুর্বলতায়, সবদিকে এবং সেই ঈর্ষা থেকেই আমরা তাঁকে হত্যা করেছি। কেবল এই কথাটি বুঝিনি যে, ঈর্ষায় পীড়িত হয়ে ঈর্ষিতের স্থান দখল করা যায় না। তাইতো এই ভূখণ্ডে মুজিবের স্থায়ী অবস্থান মধ্যগগনে এবং তাঁর নাম শুনে শোষকের সিংহাসন কাঁপে।’

১৫ আগস্ট বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত দিন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ নিপীড়নের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৩ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বের বুকে গৌরবদীপ্ত জাতি হিসেবে বাঙালি প্রতিভাত হয়। অথচ, স্বাধীনতা লাভের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় সেই জাতিই তার আপন মুক্তিদাতাকে, স্বাধীনতার মহান স্থপতিকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করে। কতিপয় অকৃতজ্ঞের বর্বরতায় বিশ্ববাসী স্থম্ভিত হয়, বঙ্গবন্ধুহীন বাংলার সাধারণ মানুষ হয়ে যায় দিশেহারা।
সেদিন ঘাতকেরা বলেছিল, বাংলার মাটিতে কোনোদিন শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার বিচার হবে না। বলেছিল, এমন কোনো শক্তি নেই, যারা বাংলার মাটিতে নতুন করে জয় বাংলার শ্লোগান দেয়। এমন কোনো শক্তি নেই যারা বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করবে। সেদিন তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে তার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু নিজ কর্মগুণে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছেন। বিশ্বের নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের হৃদয়ে তিনি স্থান করে নিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু কখনোই একক কোনো ব্যক্তিমাত্র ছিলেন না। ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে তিনি এক আদর্শের নাম, অনির্বাণ চেতনার প্রজ্জ্বলিত শিখা। বাঙালির আশা-আকাক্সক্ষা, স্বপ্ন আর বেদনাকে ধারণ করে তিনি ছিলেন এক বিশাল মহীরুহসম ব্যক্তিত্ব; ছিলেন অধিকারহারা জাতির জেগে ওঠার সঞ্জীবনী শক্তি, এক চেতনার বাতিঘর। বাঙালির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই নিজের সারাটি জীবন তিনি রাজনীতিতে উৎসর্গ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন কৃষক, শ্রমিক, মেহনতী মানুষের আস্থার মূর্তপ্রতীক।

এই আস্থা একপাক্ষিক ছিল না। এই আস্থা ছিল পারস্পরিক। বাংলার মানুষের হৃদয়নিঃসৃত অপার ভালোবাসাই ছিল তাঁর শক্তি ও সাহসের একমাত্র উৎস। প্রতিটি মানুষের হৃদয়ের ভাষা বুঝে নিতে পারার অসাধারণ ক্ষমতা ও মানসিকতা তাঁকে গণমানুষের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা এনে দিয়েছে। তাইতো এক অজপাড়াগাঁ থেকে উঠে এসে ক্রমেই তিনি সাত কোটি বাঙালির আশা-আকাক্সক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিলেন। রাজনীতি যদি মানুষের জন্য হয়, বঙ্গবন্ধু সারাজীবন সেই রাজনীতি করেছেন। জীবনের ১৪টি বছর কারাগারের অন্ধপ্রকোষ্ঠে কাটিয়েছেন। বাংলার মানুষের অধিকারের প্রশ্নে কখনো এতটুকু আপস করেননি।

১৯৭২ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর ঢাকায় বৃটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টকে ১৮ জানুয়ারি একটি সাক্ষাৎকার দেন বঙ্গবন্ধু। তিনি তখন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। নিউইয়র্ক টেলিভিশনে ‘ডেভিড ফ্রস্ট প্রোগ্রাম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়। ওই সাক্ষাৎকারে ডেভিড ফ্রস্ট বঙ্গবন্ধুকে প্রশ্ন করেছিলেন, আপনার যোগ্যতা কী? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, আমি আমার দেশবাসীকে ভালোবাসি। ডেভিড ফ্রস্ট আবার তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার অযোগ্যতা কী? উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমি তাদের বড্ড বেশি ভালোবাসি। এই বাংলার মানুষের প্রতি গভীর ও নির্মোহ ভালোবাসার প্রমাণ তিনি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত দিয়ে গেছেন। তাঁর হৃদয়ের ঔদার্য ও ক্ষমাশীলতা তাঁকে মানুষ হিসেবে অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে। জেনেশুনে অনেক অপরাধীকে, এমনকি শত্রুকেও তিনি ক্ষমা করেছেন। তারাই একদিন তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করেছে। এমনকি তাঁর বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তারা তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
ওই একই সাক্ষাতকারে ডেভিড ফ্রস্ট ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের গ্রেফতার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেছিলেন, সে রাতের কথা বলুন। সেই রাত যে রাতে একদিকে আপনার সঙ্গে যখন আলোচনা চলছিল এবং যখন সেই আলোচনার আড়ালে পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ার উদ্যোগ নিচ্ছিল, সেই রাতের কথা বলুন। আমরা শুনেছিলাম আপনাকে সাবধান করা হয়েছিল কিন্তু আপনি নিজের বাড়ি পরিত্যাগ করলেন না। আপনি গ্রেফতার হলেন। কেন আপনি নিজের বাড়ি ছেড়ে অপর কোথাও গেলেন না এবং গ্রেফতার বরণ করলেন? কেন এই সিদ্ধান্ত?

বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘সে সন্ধ্যায় আমার বাড়ি পাকিস্তান সামরিক জান্তার কমান্ডো বাহিনী ঘেরাও করেছিল। ওরা আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। প্রথমে ওরা ভেবেছিল, আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে এলে ওরা আমায় হত্যা করবে এবং প্রচার করবে যে, তারা যখন আমার সঙ্গে রাজনৈতিক আপসের আলোচনা করছিল, তখন বাংলাদেশের চরমপন্থীরাই আমাকে হত্যা করেছে। আমি বাড়ি থেকে বেরুনো না বেরুনো নিয়ে চিন্তা করলাম। আমি জানতাম পাকিস্তান বাহিনী বর্বর বাহিনী। আমি জানতাম, আমি আত্মগোপন করলে ওরা দেশের সমস্ত মানুষকে হত্যা করবে। এক হত্যাযজ্ঞ ওরা সমাধা করবে। আমি স্থির করলাম, আমি মরি তাও ভালো তবুও আমার দেশবাসী রক্ষা পাক।’

এই মাটিতে একজন শেখ মুজিবুর রহমান জন্মেছিলেন বলেই বাঙালি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখতে পেরেছিল এবং তার সফল বাস্তবায়ন ঘটিয়েছিল। নেতার প্রতি পূর্ণ আস্থা না থাকলে এটা কোনভাবেই সম্ভব হতো না।

তিনি কখনো বিশ্বাস করতেন না যে, কোন বাঙালি তাঁকে হত্যা করতে পারে। নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সতর্ক করতে গেলে, গভীর আত্মবিশ্বাসের সাথে তা বলেছেনও। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানিরা আমাকে হত্যা করতে সাহস পায়নি। কোন বাঙালি আমাকে হত্যা করবে না। যে কারণে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের তাঁর প্রিয় বাড়ি ছেড়ে গণভবনের সুরক্ষিত ব্যবস্থার মধ্যে তিনি থাকতে চাননি। তিনি বলতেন, আমার বাংলার সাধারণ মানুষ আর আমার কর্মীরা যতটা সহজে আমার সাথে দেখা করতে পারে, গণভবনে থাকলে তা সম্ভব হবে না। নিরাপত্তার প্রশ্নটি তিনি সবসময় উড়িয়ে দিয়েছেন। বাংলার মানুষের প্রতি তাঁর এই বিশ্বাসের মর্যাদা বাঙালি রাখতে পারল না। বাংলারই কতিপয় ক্ষমতালোভী বিশ্বাসঘাতকের ক্ষমতালিপ্সা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পরিবারের প্রায় সকল সদস্যসহ তাঁকে জীবন দিতে হলো। পৃথিবীর ইতিহাসে আরও অনেক রাষ্ট্রপ্রধানকে আততায়ীর হাতে জীবন দিতে হয়েছে। কিন্তু এমন নিষ্ঠুর ও পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ আর ঘটেনি। আর কাউকেই তাদের পরিবারের সকল সদস্যসহ এভাবে নির্বংশ করার চেষ্টা করার নজির নেই।

এটি স্পষ্ট যে, এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর গোটা বংশের অস্তিত্বকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল এই জাতি যেন আর কোনোদিন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের চেতনায় ঘুরে দাঁড়াতে না পারে। ১৯৮১ জননেত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে দেশে ফিরে এসে দেশবাসীকে সাথে নিয়ে আবারও নতুন এক সংগ্রামে অবতীর্ণ হলেন। সে সংগ্রাম- গণমানুষের অধিকার তথা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। সে সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে আবার তার কক্ষপথে ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম। পিতা বঙ্গবন্ধুর সুমহান নেতৃত্বে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের দামে অর্জিত স্বাধীন স্বদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার সংগ্রাম। শত ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করে সেই সংগ্রামে তিনি ক্লান্তিহীনভাবে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের মাধ্যমে জাতির কিছুটা দায়মোচন হয়েছে মাত্র। ওপারে বসে বঙ্গবন্ধু হয়তো তাঁর ঔদার্য দিয়ে তাঁর ঘাতকদেরও ক্ষমা করে দিয়েছেন। কিন্তু ইতিহাস কোনদিনও তাদের ক্ষমা করবে না।

১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডকে কতিপয় বিপথগামী সেনাসদস্যের কাজ বলে চালিয়ে দেওয়াটা মূর্খতা। ক্যান্টনমেন্টের ভিতরেই হত্যাকাণ্ডের নীলনকশা চূড়ান্ত করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডে অকৃতজ্ঞ জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রত্যক্ষ সমর্থন থাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অনেকের এবং খুনিদের ভাষ্যে উঠে এসেছে। ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বেঈমান খন্দকার মোশতাক ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ জারি করে। ওই অধ্যাদেশের প্রথম অংশে বলা হয়েছে, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে বলবৎ আইনের পরিপন্থী যা কিছুই ঘটুক না কেন, এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টসহ কোনো আদালতে মামলা, অভিযোগ দায়ের বা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে না।’ দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতি উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে যাদের প্রত্যয়ন করবেন তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হল।’ পরবর্তীতে সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান এই অধ্যাদেশকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে আইনি বৈধতা দেয়। এর ফলে মুসলিম লীগ জামায়াতে ইসলাম, পিডিপি, নেজামে ইসলামসহ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মের নাম ভাঙিয়ে আবার তাদের অপতৎপরতা শুরু করে। যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত রাজাকার, আলবদর, আল শামস্ বাহিনীর সদস্যরা রাজনীতিতে ও সমাজে পুনর্বাসিত হয়। এর সবই করা হয়েছিল পরিকল্পিতভাবে। অথচ, বঙ্গবন্ধুর কৃপায় তাকে মাত্র আড়াই বছরের মধ্যে মেজর থেকে মেজর জেনারেল র‌্যাংক উপ-সেনাপ্রধান করা হয়েছিল। অবৈধ সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করা হয়েছে। সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে পাকিস্তানি ভাবাদর্শে রাষ্ট্রকে ফিরিয়ে নেবার সকল আয়োজন সম্পন্ন করে।

৭৫-এর ষড়যন্ত্রের কুশীলবরা এখনো সক্রিয় ও তৎপর আছে। এখন নানাদিক থেকে ৭৫-এর চেয়েও অনেক বেশি ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা সবাই জানি, বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সমগ্র বিশ্বজুড়ে একটি অর্থনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এদেশের স্বাধীনতা ও অগ্রগতির বিরোধী শক্তিটি কায়মনে প্রার্থনা করছে, দেশের পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কার মতো হোক। একটি জাতির জন্য এরচেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। নানাবিধ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যেকোনো মূল্যে তারা আমাদের প্রাণের বাংলাদেশকে আবারও পাকিস্তানি ভাবাদর্শে ফিরিয়ে নেবার জন্য নানাবিধ সক্রিয় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা ও সতর্ক পদক্ষেপের কারণে তারা সফল হতে পারছে না। কাজেই আমাদের আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, একজন শেখ মুজিবুর রহমান জন্মায় হাজার বছরে মাত্র একবার। কিন্তু দুর্ভাগ্য বাংলার, দুর্ভাগ্য বাঙালির, এদেশের উর্বর মাটিতে মীর জাফর বা খন্দকার মোশতাকরা যুগে যুগে জন্মায়, বছর বছর জন্মায়!

১৫ আগস্টের প্রত্যক্ষ খুনিদের বিচারিক রায় হয়েছে, কয়েকটি রায় কার্যকর হয়েছে, বিদেশে পালিয়ে থাকাদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু এখানেই সমাপ্তি ঘটলে হবে না। ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিশন গঠনের দাবি আমরা জানিয়ে আসছি। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীও এ নিয়ে কথা বলেছেন। কাজেই এ বিষয়ে একটি কমিশন গঠিত হবে, এ আশা আমরা করছি। পনেরো আগস্টের হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় সরাসরি এভিডেন্সই সবকিছু নয়। হত্যাকাণ্ড যারা ঘটিয়েছে তাদের সাথে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক সংযোগ রয়েছে। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কারা জড়িত এটা যেমন একটা ফাইন্ডিং তেমনি আরেকটা ফাইন্ডিং জরুরি। ৭৫-এর ষড়যন্ত্রের কুশীলবরা এখনো সক্রিয় আছে। এখন ৭৫-এর চেয়েও অনেক বেশি ষড়যন্ত্র চলছে। কাজেই আমাদেরকে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

একই সঙ্গে যে চেতনার আলোকে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, সেই চেতনার পতাকাকে সমুন্নত রাখার দায়িত্ব আমাদেরকে নিতে হবে।
লেখক: সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন