বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

সারা বাংলার খবর

বরগুনায় ছাত্রলীগকে লাঠিপেটা: যে যেভাবে দেখছেন

রুহুল আমিন | প্রকাশের সময় : ১৬ আগস্ট, ২০২২, ৯:২০ পিএম

জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের ২ গ্রæপের সংঘর্ষের সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে। পুলিশের এই লাঠিচার্জ নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিশেষ করে সরকার দলীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

কিন্তু বিরোধী দল-মতের কর্মসূচিতে পুলিশকে প্রতিনিয়তই লাঠিচার্জ করতে দেখা যায়। গত ৭ আগস্ট জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে শাহবাগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ভোলায় বিএনপির সমাবেশে গুলি চায়, ২ জন নিহত হয়। বরগুনায় ছাত্রলীগের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনায় যারা কথা বলছেন, অন্য সময় তাদের নীরব থাকতে দেখা গেছে। অনেকে পুলিশের পক্ষে কথা বলেছেন।

জানা যায়, বরগুনায় জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সামনেই ছাত্রলীগের দুই গ্রæপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই শুরু সোস্যাল মিডিয়ায় পুলিশের পক্ষে বিপক্ষে সমালোচনা।

তবে বরগুনায় ছাত্রলীগকে পুলিশের লাঠির্চাজের ঘটনার পর আলোচনায় আসা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে নিযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেঞ্জ ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান।

জোবায়ের আল নাহিয়ান নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, বিনা ভোটের এমপিদের সাথে এরকম আচরণ হওয়া স্বাভাবিক। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে তাদের সম্মান আলাদা।

ইকবাল নামে একজন লিখেছেন, সরকার দলীয় কারো ওপর লাঠিচার্জ করলে কৈফিয়ত চাওয়া হয়, তখন আইনের ব্যত্যয় ঘটে। কিন্তু, দেখা যায় অন্য কারো ওপর করলে তখন আর আইনের ব্যত্যয় ঘটে না। এভাবে তো আইনের শাসন হয় না। পুলিশকে বেআইনিভাবে লাঠিচার্জ করতে শেখানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ শেখ নামে একজন লিখেছেন, সাবেক ছাত্রদল নেতা মহরম আলী ভাই দেখিয়ে দিলেন। সাবাস মহরম আলী ভাই! ছাত্রলীগকে পিটিয়ে পাঁচবারের এমপির সামনে বেয়াদবের মতো হাত তুলে কথা বলার দুঃসাহস দেখিয়েছেন। ভাবছি এখন লেন্জা কে নাড়াচ্ছে।

আনোয়ার হোসেন নামে একজন লিখেছেন, বিএনপি সমর্থিত পুলিশ কাজটা মোটেই ঠিক করেনি। এভাবে মাসুম বাচ্চাদের লাঠিপেটা করাটা ঠিক না।

কাজী রায়হান নামে একজন লিখেছেন, খিচুড়ির সাথে ঝাল কিছু না হলে স্বাদ পাওয়া যায় না

মশিউর রহমান নামে একজন লিখেছেন, এর চাইতে আরও বড় কোনো অপরাধ করলেও কোনো নিরস্ত্র অপরাধীকে পুলিশ এভাবে গণহারে পিটাতে পাওে না। দোষ হয়তো একজন বা দুইজন করেছিল?

এটা সুস্পষ্টভাবে আইনের লঙ্ঘন। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে সব পুলিশরা আমাদেরকে পেটায় তাদের ইচ্ছামতো আমাদের সব রাজনৈতিক দলগুলো মিলে এই ডাকাতদল তৈরি করেছে। যারা নিজেরাই কোনো দিন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিল না, হবে বলেও মনে হয় না।

ইয়াসিন সোহাগ নামে একজন লিখেছেন, পুলিশ কর্মকর্তা মহররম বরগুনা থেকে বরিশাল রেঞ্জ কার্যালয়ে নিযুক্ত! আজ যদি বিরোধী দলকে এভাবে মারতো তাকে প্রমোশন দিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত করা হতো।

মো. আবদুল বাতেন মিয়া নামে একজন লিখেছেন, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা, এটা কি ভালো কাজ? পুলিশ ঠিক কাজ করেছে। ভোলার পুলিশদের পুরস্কৃত করা দরকার। কারণ সরকারি সম্পদ রক্ষা করতে যা করা দরকার পুলিশ তাই করেছে।

মোস্তফা কামাল খোকন নামে একজন লিখেছেন, নিজেদের ওপর পড়াতে প্রতিবাদ। যখন অন্যদের ওপর পড়ে তখন ঠিক।

তাহমিদুল পাল নামে একজন লিখেছেন, ছাত্রলীগের কর্মীদের লাঠিপেটার অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা বদলি। অথচ পুলিশের গুলিতে ভোলার দুটো তাজাপ্রাণ চলে গেলো, সেখানে মামলা হওয়ার পরেও কোনো ব্যবস্থা করতে দেখলাম না। এর মানেই কি বুঝা যায় আইন সবার জন্য সমান নয়।

অনেকেই লিখেছেন, পুলিশ যখন অন্যায়ভাবে কোনো বিএনপি বা বিরোধী দলের কর্মীদের এভাবে মারে তখন সরকারের কোনো লোক কিছু বলে না। এমনকি যে পুলিশ মারে তাকে পদোন্নতি করার ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ থেকে করে দেওয়া হয়। তাহলে আইন তো সবার জন্য সমান হলো না। নোংরা রাজনীতির জন্যই পুলিশ আজ এ অপকর্ম করতে পারে বলেও তারা এ মন্তব্য করেছেন।

আবার কেউ কেউ লিখেছেন, ছাত্রলীগের মার খাওয়ার সময় খুব শিগগিরই আসতেছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন