বৃহস্পতিবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১৩ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

সারা বাংলার খবর

দেড়শ বছর পরে রাজধানীর সাথে দক্ষিণাঞ্চলের রকেটি স্টিমার সার্ভিসটি অনানুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষনা

নাছিম উল আলম | প্রকাশের সময় : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১০:৫৪ এএম

অনানুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষনা করা হল দেড়শত বছরের পুরনো রকেট স্টিমার সার্ভিসটি। তৎকালীন বৃটিস সরকার ১৮৭৪ সালে বাস্পীয় প্যাডেল হুইল জাহাজের মাধ্যমে নারায়নগঞ্জÑচাঁদপুরÑবরিশালÑঝালকাঠীÑখুলনা নৌপথে রকেট স্টিমার চালু করেছিল। এছাড়া ঢাকা থেকে একাধীক স্টেশন হয়ে বরিশাল পর্যন্ত একটি মেইল স্টিমার সার্ভিসও চলাচল করত। স্বাধিনতার পরে উভয় স্টিমারই নারায়নগঞ্জের পরিবর্তে ঢাকা থেকে চলাচল শুরু করে। বিগত দেড়শ বছর ধরে বরিশাল ও পুরনো ঢকাাবাসীর সকালে ঘুম ভাঙত রাষ্ট্রীয় যাত্রীবাহী নৌযানের হুইসালে। এমনকি ঢাকার বুড়িগঙ্গা তীরের নবাব বাড়ীর লোকজনের অতি প্রত্যুষে ঘুম ভাঙার কারণে বৃটিস যুগে বরিশাল থেকে বাদামতলী ঘাটে নোঙর করা যাত্রীবাহী স্টিমারগুলোর হুইসেল দেয়া নিষিদ্ধ ছিল। ষাটের দশক থেকে সে অনিয়ম প্রত্যাহার হলেও এতদিন বরিশাল নগরবাসীর ঘুম ঠিকই ভঙত সরকরী এসব নৌযানের হুইসেলে।
করেনা মহামারী সংকটের আগেই রাষ্ট্রীয় নৌ বানিজ্য প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিউটসি তার ব্যায় সাশ্রয়ী প্যাডেল জাহাজগুলো বসিয়ে রেখে তিনগুন পরিচালন ব্যায়ের নতুন দুটি স্ক্রÑহুইল যাত্রীবাহী নৌযান চালিয়ে লোকশানের বোঝা ভাড়ি করতে থাকে। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে সংগ্রহ করা ‘এমভি মধুমতি ও এমভি বাঙালী’ নামের এসব নৌযানের জ¦ালানী ব্যায় প্যাডেল জাহাজগুলোর আড়াইগুন বেশী। তার পারেও এসব নৌযান পরিচালনে সংস্থাটির এক শ্রেণীর কর্মকর্তাদের আগ্রহ বেশী লক্ষ্য করা গেছে। অথচ এসব নৌযান যেমনি যাত্রী বান্ধব নয়, তেমনি তা পরিচালন-এর চেয়ে বসিয়ে রাখলেই সংস্থাটির লোকশানের বোঝা হালকা হত।
অপরদিকে ব্যায়সাশ্রয়ী ৪টি প্যাডেল জাহাজের মধ্যে পিএস অস্ট্রিচ’কে বিনা টেন্ডারে সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রীর নির্দেশে দীর্ঘ মেয়াদী ইজারা প্রদান করা হয়েছে। অপর ৩টির মধ্যে ‘পিএস লেপচা ও পিএস টার্ণ’ দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মিত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষনের বাইরে। ‘পিএস মাহসুদ’ জাহাজটি প্রায় ২কোটি টাকা ব্যায়ে দীর্ঘদিন পরে মাঝারী ধরনের মেরামত সম্পন্ন করে এবছরের শুরুতে যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত করেও তা প্রত্যাহার করা হয়।
গত ২৬ জুন পদ্মা সেতু চালুর ৩ বছর আগেই বিআইডব্লিউটিসি’র একমাত্র অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী স্টিমার সার্ভিসটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এখন পদ্মা সেতুকে অজুহাত হিসেবে দাড় করিয়ে পুরো সার্ভিসটিই বন্ধ করে দেয়া হল। দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রী সাধারনের অভিযোগ, ‘সরকারী নৌযানগুলোর সময়সূচী কখনোই যাত্রী বান্ধব ছিলনা। এখন পদ্মা সেতুকে খোড়া অজুহাত হিসেবে দাড় করা হচ্ছে’। তাদের মতে ঢাকা থেকে বর্তমানের সন্ধা সাড়ে ৬টার পরিবর্তে রাত সাড়ে ৮টায় প্যাডেল চালিত রকেট স্টিমারগুলো ছেড়ে চাঁদপুরÑবরিশালÑঝালকাঠীÑপিরোজপুর হয়ে পরদিন সকাল সাড়ে ১১ টায় বাগেরহাটের সণ্যাশী ঘাটে পৌছে, সেখান থেকে দুপুর সাড়ে ১২ টায় ফিরতি যাত্রা করে একই পথে তা পরের দিন সকালে ঢাকায় পৌছান সম্ভব। এতে করে মাত্র দুটি প্যাডেল জাহাজের সাহায্যে রকেটি স্টিমার সার্ভিসটি পরিচালনের পাশাপাশি অপর ১টি নৌযানকে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখা যেতে পারে।
পাশাপাশি স্ক্রু-হুইল দুটি নৌযান ঢাকা থেকে ভোলার ইলিশা হয়ে হাতিয়া পর্যন্ত দিবাকালীন যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলেও মনে করছেন ওয়াকিবাহল মহল।
এসব বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি’র পরিচালক-বানিজ্য আশিকুজ্জামানের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, অব্যাহত লোকশানে রকেট স্টিমার সার্ভিসটি অপতত বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা কমিটি করে দিয়েছি নতুন রুটের সন্ধানে। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া রকেট সার্ভিসটিও কিভাবে যাত্রী সুবিধা অনুযায়ী পরিচালন করা যায় তাও পরিক্ষা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন