বৃহস্পতিবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১৩ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

সারা বাংলার খবর

সর্বোচ্চ মুনাফায় বিআরটিসি’র বরিশাল বাস ডিপো

সচল গাড়ীর অভাবে যাত্রী সেবার কাঙ্খিত সম্প্রসারন হচ্ছে না

বরিশাল ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১০:৩৪ এএম

রাষ্ট্রীয় সড়ক পরিবহন সংস্থা-বিআরটিসি’র বরিশাল বাস ডিপোটি গত মাসে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা নীট মুনফা অর্জনের মাধ্যমে দেশের শীর্ষ ইউনিটের যোগ্যতা অর্জন করেছে। আগষ্ট মাসে সংস্থার বরিশাল বাস ডিপোটি প্রায় আড়াই কোটি টাকা টার্ণ ওভারের বিপরিতে প্রায় ৪৪ লাখ টাকা নিট মুনফা অর্জন করে সংস্থার সদর দপ্তরে জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে। যা সংস্থাটির দেশের সব বাস ডিপোর শীর্ষে। তবে এর পরেও দক্ষিণাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় সড়ক পরিবহন সংস্থার একমাত্র এ বাস ডিপোটির জন্য প্রয়োজনীয় বাসের বরাদ্ব নেই। এমনকি সচল বাসের অভাবে দক্ষিণাঞ্চলের অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ রুটেও বিআরটিসি’র বাস সার্ভিস চালু করা যাচ্ছে না।
এমনকি বরিশালে সংস্থাটির বাস ডিপোটিতে বর্তমানে ৭০টি নতুন ও পুরনো বাসের মধ্যে গড়ে চালু থাকছে ৪০টি। এরমধ্যে এসি ও নন এসি মিলিয়ে নতুন গাড়ীর সংখ্যা মাত্র ২০টির মত। নতুন ও পুরনো এসব বাসের সাহায্যে দক্ষিণে সাগর পাড়ের কুয়াকাটা থেকে উত্তরবঙ্গের রংপুর পর্যন্ত বিআরটিসি’র বরিশাল বাস ডিপো যাত্রী পরিবহন করছে। এমনকি পদ্মা সেতু চালু হবার পড়ে বরিশাল মহানগরী ছাড়াও ভান্ডারিয়া ও কুয়াকাটা থেকেও ঢাকায় সরাসরি বাতানুকুল বাসে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে।
কিন্তু প্রতি মাসে প্রায় আড়াই কোটি টাকা পরিচালন আয়ের এ ডিপোটিতে দীর্ঘদিন ধরেই আরো এসি বাস দেয়ার দাবীর বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হচ্ছেনা বলে অভিযোগ যাত্রীদের। বরিশালে এ ডিপোটির মাত্র ১৪টি এসি বাসের মধ্যে ১১টির সাহায্যে বরিশাল থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। এ ডিপোটিতে সচল ৪০টি এসি/নন এসি বাসের অন্তত কুড়িটিই দীর্ঘ দিনের পুরনো। দক্ষিণাঞ্চলের সাধারন যাত্রীদের পক্ষ থেকে বরিশাল ছাড়াও কুয়াকাটা সহ এ অঞ্চলের প্রতিটি জেলা সদর থেকে পদ্মা সেতু হয়ে সরাসরি ঢাকার পাশাপাশি খুলনাÑযশোরÑবেনাপোল এবং রাজশাহী সহ উত্তবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জেলা সদরের সরাসরি বাতানুকুল বাস চালুর দাবী জানান হয়েছে।
এদিকে অতি সম্প্রতি বরিশালÑখুলনা/মোংলা মহাসড়কের বেকুঠিয়ার কঁচা নদীর ওপর নির্মিত ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলতুননেসা ৮ম চীনÑবাংলাদেশ মৈত্রী সেতু’ উদ্বোধন হয়েছে। ফলে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১১টি জেলার মধ্যে ফেরিবিহীন সরাসরি সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের সাথেও খুলনা, যশোর, বেনাপোল ও ভোমড়া বন্দরের সড়ক যোগাযোগ সহজতর হয়েছে। মাত্র দু ঘন্টায় বরিশাল ও খুলনার মধ্যে ১০৫ কিলোমিটার দুরত্বের মহাসড়ক পাড়ি দিচ্ছে যানবাহনগুলো।
কিন্তু প্রয়োজনীয় মানসম্মত বাসের অভাবে বেসরকারী বাস-মিনিবাসের সাথে প্রতিযোগীতায় টিকতে পারছে না রাষ্ট্রীয় বিআরটিসি। বর্তমানে বরিশাল থেকে সকালÑবিকেল মাত্র ৩টি ও কুয়াকাটা থেকে বরিশাল হয়ে খুলনায় আরো দুটি বাস সার্ভিস পরিচালিত হলেও তার ৩টিই দীর্ঘ দিনের পুরনো। এছাড়া নিক অতীতের বরিশালÑখুলনাÑযশোরÑবেনাপোল রুটেও সংস্থাটির কোন বাস সার্ভিস আর অবশিষ্ট নেই।
অপরদিকে আগামী মাসেই বরিশালÑগোপালগঞ্জ-নড়াইলÑযশোর মহাসড়কের ‘কালনা সেত’ু চালু হলে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল থেকে যশোর ও বেনাপোলের ফেরি বিহীন সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি সড়ক যোগাযোগ চালু হচ্ছে। কিন্তু এরুটেও যাত্রী বান্ধব সেবা প্রদানের মত কোন বাস রাষ্ট্রীয় সংস্থাটির বরিশাল ডিপোতে অবশিষ্ট নেই।
এসব বিষয়ে বিআরটিসি’র বরিশাল বাস ডিপোর ব্যাবস্থাপকের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, সিমিত সাধ্যের মধ্যেও ঢাকা, খুলনা ও বেনাপোল সহ সব জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানের সাথে যাত্রীবান্ধব সেবা প্রদানের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। এজন্য সদর দপ্তরের কাছে এসি বাস চেয়ে আবেদনও রয়েছে । গাড়ীর ব্যাবস্থা হলে যাত্রী সেবা সম্প্রসারন সহ মান উন্নত করার কথাও জানান তিনি। তবে অদুর ভবিষ্যতে তা সম্ভব হবে কিনা সে সম্পর্কে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন