শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০, ১২ শাবান সানি ১৪৪৫ হিজরী

সারা বাংলার খবর

আতঙ্কে আনোয়ারা উপকূলের মানুষ

আনোয়ারা(চট্টগ্রাম)উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৪ অক্টোবর, ২০২২, ৫:৪৬ পিএম

দিনভর গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি আর উত্তাল সাগরে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং আতঙ্কে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলের মানুষ। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় এ আতঙ্ক আরো বেড়ে যায়। ঘূর্ণিঝড়টি সোমবার রাতে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবেলায় আনোয়ারায় ৫৯ টি আশ্রয় কেন্দ্র,৪ টি মুজিবকিল্লা ও সিপিপি’র ৪৮ টি ইউনিটে এক হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তত রাখা হয়েছে। উপজেলায় জরুরী প্রয়োজনে কন্ট্রোলরুমসহ যানমালের নিরাপত্তায় সব ধরনের প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমেদ।
আনোয়ারা উপজেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্ততি কর্মসূচি( সিপিপি) অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে ৪৮ টি আশ্রয় কেন্দ্র,৪ টি মুজিবকিল্লা রয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে ৪০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। মুজিব কেল্লা গুলোতে গবাধি পশু রাখা যাবে। পাশাপাশি সিপিপি’র এক হাজার স্বেচ্ছাসেবক মাঠে রয়েছে। সোমবার দুপুর থেকে মানুষকে সতর্ক করতে চলছে মাইকিং।
এদিকে সব চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা উপজেলার রায়পুর,জুইঁদন্ডী ও বারশত ইউনিয়ন। এসব ইউনিয়নে লোক সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার। আর আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে রায়পুরে ১৪ টি, বারশতে ৪ টি ও জুইঁদন্ডীতে ৬ টি। তাই এই ইউনিয়ন গুলোতে আশ্রয় কেন্দ্র অপ্রতুল হওয়ায় মানুষের মাঝে শঙ্কা বেশি দেখা দিয়েছে। তবে এই তিন ইউনিয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোও প্রস্তুত রেখেছে বলে জানা যায়।
জানা যায় আনোয়ারা উপকূলীয় এলাকায় ১৯৯১ সালে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় হারিকেন। সে সময় উপজেলায় কয়েক হাজার লোক মারা যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর ১৯৯৭ সালের জলোচ্ছাস, ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলা, ২০১৩ সালের ১৬ মে মহাসেন, ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই কোমেন, ২০১৬ সালের ২১ মে রোয়ানু, ২০১৭ সালের ৩০ মে মোরা, ২০১৯ সালের ৩ মে ফণী, ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর বুলবুল আঘাত হানে। সবশেষ ২০২০ সালের ২০ মে উপকূলে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। এ সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় কয়েকটি ইউনিয়ন। যার ক্ষত শুকায়নি এখনো। এবার ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং আতঙ্কে মানুষের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক বেড়েছে। তবে প্রায় ৫শ কোটি টাকা ব্যয়ে আনোয়ারা,কর্ণফুলী(আংশিক) ও পটিয়ায় উপকূলে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শেষের পথে হলেও রায়পুর ও জুইঁদন্ডী এলাকায় বাঁধের অধিকাংশ অংশে পাথর না বসানোর কারণে ঘূর্ণিঝড় আতঙ্কে রয়েছে এসব এলাকার মানুষ।
উপজেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্ততি কর্মসূচি (সিপিপি)র সহকারী চালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন ১১ ইউনিয়নে সিপিপি’র এক হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সিপিপি’র এসব স্বেচ্ছাসেবকরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে মাইকিং করছে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোবায়ের আহমেদ বলেন, জনগণের যানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সব ধরনের প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র গুলোর পাশাপাশি স্কুল,কলেজ ও মাদ্রসার ভবন গুলোও প্রস্তত রাখতে বলা হয়েছে। জরুরী প্রয়োজনে ০১৭২৯৭৭১৩৩১ নম্বরে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন