ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

মহানগর

শঙ্কায় বিএনপির প্রার্থীরা : জয়লাভে আশাবাদী আ’লীগ

তফসিলের পূর্বে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইউপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা আলোচনায়

প্রকাশের সময় : ২১ জানুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

এ.টি.এম. রফিক ও আশরাফুল ইসলাম নূর, খুলনা থেকে ঃ তফসিল ঘোষণা না হলেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনাঞ্চলের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বর প্রার্থীরা আগে-ভাগেই মাঠে নেমে পড়েছেন। তারা নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় ও গণসংযোগের পাশাপাশি ছোটখাটো সামাজিক সভা-সমাবেশও অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের কাছে ধরণা দিচ্ছেন। তবে বিএনপি’র চেয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতাই বেশি দৃশ্যমান।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, খুলনার মোট ভোটার ১৭ লাখ ২৮ হাজার ৩৩৯ জন। সর্বশেষ হালনাগাদ তালিকার আগে ভোটারের সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৭১ হাজার ২৪২ জন। নতুন ভোটার ৭৪ হাজার ৩২৬ জন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিজ নিজ এলাকায় জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পারবেন নতুন ভোটাররা।
খুলনা জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, খসড়া তালিকার বিষয়ে আপত্তি বা কোনো তথ্য ভুল থাকলে সংশোধনের জন্য ১৭ জানুয়ারির মধ্যে আবেদনের সর্বশেষ দিন ছিল। অভিযোগ নিষ্পত্তির পর ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ইউনিয়নের পরিষদের নতুন ভোটাররা এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন বলে জানান তিনি।
সূত্র জানায়, খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১২টি জেলার ৫৯৬টি ইউনিয়নে ২০১১ সালের ২৯ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বছরের ২৯ মার্চ কয়রার ৭টি ও দাকোপের ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হয়েছিল। পরে পর্যায়ক্রমে ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে, ফুলতলা উপজেলার ৪টি, বটিয়াঘাটা উপজেলার ৭টি, পাইকগাছা উপজেলার ১০টি, রূপসা উপজেলায় ৫টি, দিঘলিয়া উপজেলায় ৬টি ও তেরখাদা উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসেবে আগামী মার্চেই খুলনার ৬৮টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের সূত্রমতে, আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ঘোষণা হতে পারে তফসিল। সে অনুযায়ী খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৫৬৮টি ইউনিয়ন পরিষদে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীরা নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করে দিয়েছেন। তারা সাধারণ ভোটারদের মনজয় করতেও তাদের সমর্থন আদায়ে এক্ষনি উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। চায়ের দোকান, হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায় বসাচ্ছেন নির্বাচনী আড্ডা। চলছে সম্ভ্রাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চুল চেরা আলোচনা-সমালোচনাও। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে খুলনা জেলায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভের দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও এবারে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন প্রার্থীরা। সদ্যসমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনে সারাদেশে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয়ের ঢেউ গ্রামীণ জনপদের আঁছড়ে পড়েছে। দলটির নেতাকর্মীরা ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। প্রচার-প্রচারণায় তারা বিএনপি’র তৃণমূল নেতাকর্মীদের এগিয়ে আছেন। দাকোপের বানিশান্তা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সুদেব কুমার রায় বলেন, বর্তমান সরকারের ব্যাপক উন্নয়নের কারণে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরাই জয়লাভ করবে। খুলনার দু’টি পৌরসভাতেও তার প্রমাণ মিলেছে।
অন্যদিকে, পৌরসভা নির্বাচনে পরাজয় ও রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূল না থাকায় বিএনপি’র তৃণমূল নেতাকর্মীরা রয়েছেন চাপের মুখে। এছাড়া অনেকের বিরুদ্ধে নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজ বলেন, ‘গ্রামে-গঞ্জে বিএনপির জনপ্রিয়তা থাকলেও বর্তমান সময়ে কোন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর জয়লাভ করা কঠিন।’ কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী এ্যাড. মঞ্জুর আলম নান্নু, ‘সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরাই নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করবে। তবে এ সরকারের অধীনে প্রভাবমুক্ত ও অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন অকল্পনীয়।’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন