শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

ইসলামী জীবন

আল কুরআনের খেদমতে ছাহেব কেবলা ফুলতলি রহ. এর অবদান

প্রকাশের সময় : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম | আপডেট : ৮:৩৪ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

ড. মাওলানা এ কে এম মাহবুবুর রহমান
\ এক \ ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় এর ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মহোদয় জনাব অধ্যাপক ড. ইলিয়াস সিদ্দিকী স্যার আমাকে ভাইভা নেয়ার জন্য পাঠান বাংলার আধ্যাত্মিক রাজধানী শাহজালালের মাজারের পাশে অবস্থিত সিলেট সরকারী আলিয়া মাদরাসা ফাজিল অনার্স কোর্সের মৌখিক পরীক্ষা নিতে। গত ৬/২/১০১৮ সিলেট সরকারী আলিয়া মাদরাসায় পৌছে ৭/২/২০১৮ সকাল আটটায় সিলেট সরকারী আলিয়া মাদরাসার প্রভাষক জিয়াউল হক চৌধুরীর আন্তরিক সহযোগিতায় অনার্স ১ম বর্ষ ও ২য় বর্ষে চার বিভাগে ২২০ জন ছাত্র ছাত্রীর ভাইভা গ্রহন শুরু করি। আমার নিয়ম হল প্রত্যেক ছাত্র ছাত্রীর কুরআন তেলাওয়াত শুদ্ধ আছে কি না তা পরিক্ষা করা, তারপর অনার্স কোর্সের ভাইভা গ্রহন করা। প্রথমে কয়েকজন ছাত্রী মৌখিক পরিক্ষা দিতে আসলে তাদের কুরআন তেলাওয়াত শুনে বিস্মিত হই। মেয়েদের মধ্যে এত সুন্দর তিলাওয়াত খুব কমই শুনা যায়। জিজ্ঞেস করি, এত সুন্দর কুরআন তেলাওয়াত কোথায় শিখেছ? জবাবে সবাই বলেন, ছাহেব কেবলা ফুলতলী প্রতিষ্ঠিত দারুল কেরাআতের কোর্স করেই আমরা তেলাওয়াত শিখেছি। ছেলেদের ভাইভা চলতে থাকে, প্রতিটি ছাত্রের কোরআন তেলাওয়াত সুন্দর ও প্রাঞ্জল। সবাইকে জিজ্ঞেস করি তোমরা এ কুরআন তেলাওয়াত কোথায় শিখেছ? সকলেই একই জবাব দেয়, ছাহেব কেবলা ফুলতলী রহ. এর অনন্য অবদানে আমারা ধন্য। সবাই দারুল ক্বিরাতে কোর্স থেকে কিরাআত শিখেছি। আরবী ভাষা ও সাহিত্যে, হাদীস শরীফে, উলুমুল কুরআন বা দাওয়াহ বিভাগের কোর্স সমূহের অভিজ্ঞতায় কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী কাঙ্খিত মানে না পৌছলেও কুরআন তেলাওয়াতে শতকরা ৯৫% ভাগই সফল হয়েছে। এটা যে কত বড় নেয়ামত ভাবতেই পারি না। ভাইভা শেষ করে বন্ধুবর সিলেট আলিয়ার সহযোগী অধ্যাপক জনাব মাওলানা আব্দুল মুসাব্বিরকে সাথে নিয়ে ছাহেব কেবলা প্রতিষ্ঠিত সিলেট শহরের ছুবহানিঘাটে অবস্থিত ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসায় উপাধ্যক্ষ আল্লামা আবু সালেহ মোঃ কুতুবুল আলমের দপ্তরে পৌছি। ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে ক্লাসগুলো পরিদর্শন করি। ছেলে মেয়েদের ক্লাস আলাদা দেখে খুবই ভাল লাগে। নবম শ্রেণীর ছাত্রীদেরকে প্রশ্ন করি তোমরা কি দারুল কেরাতের প্রশিক্ষণ নিয়েছ। সবাই সমস্বরে জবাব দেয়, আমরা দারুল কেরাতের কোর্স সম্পন্ন করেছি। দশম শ্রেণির ছাত্র ছাত্রীদের একই প্রশ্ন করি, সবাই জবাব দেয় দারুল কিরাতে আমরা কুরআন তেলাওয়াতের কোর্স সম্পন্ন করেছি। উপাধ্যক্ষ কুতুবুল আলম সাহেব বললেন, মাহে রমজানে প্রায় চার হাজার কেন্দ্রে দারুল কেরাতের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সিলেট এলাকা ছাড়িয়ে বাংলাদেশসহ এই কোর্স সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফুলতলীর কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় ছাহেব কেবলার মাজার শরীফ ক্যাম্পাসে তিন হাজারের অধিক ছাত্রের প্রশিক্ষণ চলে। কুরআন নাজিলের মাস মাহে রমজানে হাজার হাজার কেন্দ্রে কুরআনের আওয়াজ ও নূর বাংলাদেশকে আলোকিত করেই চলেছে। দিন যতই যাচ্ছে ছাহেব কেবলার প্রতিষ্ঠিত দারুল কিরআতের মাধ্যমে কুরআনের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এ খেদমত এক অনন্য রহমত। ছাহেব কেবলার উত্তরসুরী বর্তমান পীর ছাহেব কেবলা আল্লামা ইমাদুদ্দিন চৌধুরী (মা. জি. আ.) এর নেতৃত্বে আল্লামা মুুফতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, অধ্যক্ষ আল্লামা কমর উদ্দিন চৌধুরী, ছাহেব কেবলার সুযোগ্য নাতি অধ্যাপক আল্লামা আহমদ হাসান শাহান চৌধুরীসহ সাহেবজাদা আল্লামা হুসামুদ্দিন চৌধরীর নেতৃত্বে আল ইসলাহ, ছাহেব কেবলার নাতী রেদওয়ান আহমদ চৌধরীর নেতৃত্বে তালামিজে ইসলামিয়ার হাজার হাজার কর্মি এবং তার হাতে গড়া আলেমগন ইলমি খেদমতের যেই শ্রোত ধারা প্রবাহিত করে যাচ্ছেন আশা করি অদূর ভবিষ্যতে কুরআনের নূরানী সাগরের উত্তাল ঢেউ সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে ইনশা আল্লাহ।

মহানবীর সা. ধারাবাহিক জীবনী
কাজেই সামনের দিকে চলুন। অমরা দুইটি কল্যানের মধ্যে একটি অবশ্যই লাভ করবো। হয়তো আমরা জয়লাভ করবো অথবা শাহাদাত বরণ করে জীবন ধন্য হবে। অবশেষে আব্দুল্লাহ ইবনে রওয়াহার মতামতর প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো।
মুসলিম বাহিনীর অগ্রযাত্রা
মাআন নামক এলাকায় দুই রাত অতিবাহিত করার পর মুসলিম বাহিনী শত্রæদের প্রতি অগ্রসর হলেন। বালকার মাশারেফ নামক জায়গায় তারা হিরাক্লিয়াসের সৈন্যদলের মুখোমুখি হলেন। শত্রæরা আরো এগিয়ে এলে মুসলমানরা মুতা নামক জায়গায় গিয়ে সমেবত হন। এরপর যুদ্ধের জন্যে সৈন্যদের বিন্যস্ত করা হয়।
আর রাহীতুল মাখতুম, মূল : আল্লামা সফিউর রহমান মোবারকপুরী, অনুবাদ: খাদিজা আখতার রেজায়ী

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন