শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

খেলাধুলা

স্বাধীনতা কাপে খেলবে শেখ জামাল, তবে...

প্রকাশের সময় : ১ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্পোর্টস রিপোর্টার : অবশেষে স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। তবে তারা তাদের সেই আট খেলোয়াড়কে দাবী করেছে। যারা শেখ জামালের কাছ থেকে অগ্রীম পারিশ্রমিক নিয়ে অন্য ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন। স্বাধীনতা কাপে খেলতে চেয়ে গতকাল সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) চিঠি দেয় শেখ জামাল কর্তৃপক্ষ। চিঠিতে তারা তাদের দাবিকৃত আট ফুটবলারকে ফেরত দিয়ে আজ থেকে শুরু হওয়া মৌসুম সূচক টুর্নামেন্টে শেখ জামালকে অংশ নেয়ার সুযোগ দিতে বাফুফের কাছে আবেদন করে। শুরুতে এই টুর্নামেন্টে তার দল খেলবে না বলে জানালেও গতকাল শেখ জামাল সভাপতি মনজুর কাদেরের ঘোষণা, ‘আমরা খেলবো স্বাধীনতা কাপে।’ কাল গুলশানস্থ নিজ অফিসে সংক্ষিপ্ত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। মনজুর কাদের বলেন, ‘মহামান্য হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী যে আট ফুটবলার আমাদের ছিল তারা আমাদেরই থাকবে। আমরা টাকা খরচ করে দল গঠন করেছি, কোচ এনেছি। নতুন মৌসুমকে সামনে রেখে বিদেশী খেলোয়াড় এনে অনুশীলন শুরু করেছি। আর এসব করছি ঘরোয়া আসরে খেলবো বলেই। স্বাধীনতা কাপে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে আজই (গতকাল) আট ফুটবলারসহ বাফুফের কাছে আমাদের খেলোয়াড় তালিকা পাঠিয়েছি।’
ঘরোয়া ফুটবলে গেল মৌসুমে শেখ জামালে খেলা আট ফুটবলার যথাক্রমে মামুনুল ইসলাম, নাসির উদ্দিন চৌধুরী, রায়হান হাসান, ইয়ামিন আহমেদ চৌধুরী মুন্না, শহিদুল আলম সোহেল, সোহেল রানা, জামাল ভ‚ঁইয়া ও আলমগীর কবির রানাকে নিয়েই এখন শেখ জামাল ও বাফুফের মধ্যে দ্ব›দ্ব। শেখ জামাল বলছে তারা এখনো তাদের খেলোয়াড়। কিন্তু খেলোয়াড়রা ইতোমধ্যে নতুন মৌসুমে দলবদল করে অন্য ক্লাবে চলে গেছেন। জাতীয় দলে খেলার জন্য ওই ফুটবলারকে বাফুফে ক্যাম্পে নিয়ে এসেছিল। পরে শেখ জামালের কাছে তাদের ফেরত না দিয়ে অন্য তিন ক্লাব-চট্টগ্রাম আবাহনী, ঢাকা আবাহনী ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের মধ্যে তাদের ভাগ করে দেয়া হয়। কারণ নতুন মৌসুমে ওই আট খেলোয়াড় এই তিন ক্লাবের সঙ্গেই চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। খেলোয়াড়দের ইচ্ছানুযায়ী মূলত বাফুফে তিন ক্লাবের মধ্যে মামুনুল, রায়হান, মুন্নাদের ভাগ করে দেয়। কিন্তু বাফুফের এ কর্মকাÐ মানতে পারেনি শেখ জামাল কর্তৃপক্ষ। বাফুফের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে যখন কাজ হয়নি, তখন তারা মহামান্য আদালতের শরণাপন্ন হয়। মহামান্য আদালত ওই আট ফুটবলারকে কেন ফিরিয়ে দেয়া হবে না এই মর্মে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছেন। তবে আদালতের রায় শেখ জামালের পক্ষে গেলেও ওই ক্লাবে আর ফিরবেন না জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। তিনি আরো জানান, ‘আমি শেখ জামালের কাছ থেকে নতুন মৌসুমের জন্য কোনো পারিশ্রমিক নেইনি। আমার বকেয়া পাওনার টাকা নিয়েছি।’
এদিকে বাফুফে জানায়, কোনও শর্তের ভিত্তিতে শেখ জামালকে স্বাধীনতা কাপে খেলতে দেয়া হবে না। তারা যদি নিঃশর্তভাবে খেলতে চায় তাহলে তাদের আবেদন বিবেচনা করা হবে।
এ প্রসঙ্গে বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, শেখ জামালকে আমরা অবশ্যই স্বাধীনতা কাপে খেলতে দিতে আগ্রহী। তবে তারা যদি কোনও শর্ত দেয় তাহলে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে আগামীকাল (আজ) আমরা জরুরি সভা ডেকেছি। এ সভাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
ক্লাব ছেড়ে যাওয়া আট ফুটবলারকে ফিরিয়ে দিতে মহামান্য হাইকোর্টে মঙ্গলবার একটি রিট পিটিশন দায়ের করে শেখ জামাল। পিটিশনের প্রেক্ষিতে ওইদিনই আট ফুটবলারকে শেখ জামালে ফেরত দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বুধবার বাফুফে চেম্বার জজের কাছে এটির স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করলে তা খারিজ করে একটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন আদালত। ৩ এপ্রিল এটির শুনানি হবে। এতো কিছুর পরেও আজ বিকাল সাড়ে চারটায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে রহমতগঞ্জ ও টিম বিজেএমসির ম্যাচ দিয়ে স্বাধীনতা কাপ শুরু হওয়ার কথা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন