শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০, ১৯ শাবান সানি ১৪৪৫ হিজরী

সারা বাংলার খবর

খাবারের দোকানে বসাকে কেন্দ্র করে জাবি ছাত্রলীগের সংঘর্ষ

জাবি সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৭ এপ্রিল, ২০১৮, ১২:০০ এএম

খাবারের দোকানে বসাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক জব্বার হলের দুই জুনিয়র ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধর করেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ছাত্রলীগ নেতারা। এ ঘটনায় ওই দুই হলের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর ভূমিকায় রয়েছে প্রক্টরিয়ার বডি ও শাখা ছাত্রলীগ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে মোড়ে খাবারের দোকানে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯ ব্যাচের সাবেক ছাত্র মো. সাদ্দাম হোসেন খাবার খাচ্ছিল। একই সময় শহীদ রফিক জব্বার হলের ৪৬ ব্যাচের ইমরান হুসাইন (ভূগোল ও পরিবেশ) ও তানভীর আহমেদ ওই দোকানে খাবার খেতে আসে। এ সময় তারা বসায় জয়গা না পাওয়ায় সাদ্দামকে একটু সরে বসতে বলে। প্রতিউত্তরে সাদ্দাম তাদেরকে ‘তোরা এখানে বসতে পারবি না’ বলে ধমক দেয়। তখন জুনিয়ররা সাদ্দামের পরিচয় জানতে চাইলে সে বলে ‘আমি তোর বাপ’। এতে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হয়। কাথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পাশে অবস্থানরত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ছাত্রলীগ কর্মী ৪৩তম আবর্তনের মো. সাইফুল্লাহ (ইংরেজি) ও আর রাফি চৌধুরী (কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) সহ ৬-৭ জন ওই দুই জুনিয়রকে মারধর করে। এদিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক এই ঘটনার মিমাংসা করলে প্রাথমিকভাবে উভয় হলের নেতা-কর্মীরা শান্ত হয়। এরপর রফিক-জববার হলের সন্নিকটেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীরা বসার জন্য মাচাঁ তৈরী করে। এতে রফিক জব্বার হলের শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের দিকে কয়েকটি ইক-পাটকেল ছোঁড়ে। এই ঘটনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ছাত্রলীগের নেতারা রড, পাইপ ও দেশী অস্ত্র নিয়ে বিপক্ষ হলকে ধাওয়া দিলে উভয় হলের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। ইমরান ও তানভীর বলেন, ‘আমরা বেঞ্চে বসার জন্য ভাইকে সরে যেতে বললে আমাদের সাথে সে ঐদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে। এরপর তার পরিচয় জানতে চাইলে তার অনুসারীরা আমাদের বেধড়ক মারধর করে।’ তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছে বলে জানা যায়। এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি বলেন, ‘ওরা (ইমরান ও তানভীর) ছাত্রলীগের কেউ না। ওরা বেয়াদব, তাই ওদের বিচারের জন্য প্রক্টরিয়াল বডির হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারা দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক-জব্বার হলের জুনিয়র ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত এবং ছাত্রলীগের জন্য নির্ধারিত রুমেই তারা অবস্থান করে।
প্রক্টর শিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, ‘পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলায় নিয়মিত পুলিশ কাজ করছে। এছাড়া প্রয়োজন হলে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হবে। তবে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে ইমরান ও তানভীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের গ্রামের বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন