ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

সঙ্কটের আশঙ্কা নেই প্রস্তুত হচ্ছে কোটি পশু

মিজানুর রহমান তোতা : | প্রকাশের সময় : ১৮ জুলাই, ২০১৮, ১২:০১ এএম

কোরবানীর পশুর জন্য বাংলাদেশকে ভারত ও মিয়ানমারের মুখাপেক্ষী হওয়ার দিন শেষ। বাংলাদেশ এখন পশু সম্পদে সমৃদ্ধ। এবারের ঈদেও কোরবানীর জন্য ১ কোটি ১৫ লাখ পশু প্রস্তত হচ্ছে। গতবারও কোরবানীর পশুর কোন সঙ্কট হয়নি। উপরন্ত সারপ্লাস হয়েছে। তাছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে সর্বপ্রথম গত অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ২০ কোটি টাকার গোশত রফতানী করা হয়েছে। এই তথ্য প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের।
সূত্র জানায়, কোরবানীর জন্য সারাদেশে খামারীদের মাধ্যমে নিরাপদ পদ্ধতিতে গরু হৃষ্টপুষ্ট করার কার্যক্রম সার্বক্ষনিক নিবীড় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আগে মোটাতাজাকরণে ‘স্টেরয়েড’ ইনজেকশনসহ বিভিন্ন ট্যাবলেট ব্যবহার করা হতো। তাতে গরুর চামড়ার নীচে পানি জমে ফুলে যেত। এখন ইউএমএস পদ্ধতি অর্থাৎ ইউরিয়া ও চিটা গুড় পানিতে গুলিয়ে বিছালী বা খাবারে ছিটিয়ে দিয়ে হৃষ্টপুষ্ট করা হচ্ছে। সুষম খাবার এবং নিয়মিত কৃমিনাশকের ব্যবস্থাসহ পশুপালনের ক্ষেত্রে আরো যতœবান হওয়ার জন্য খামারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। যার কারণে গরু উৎপাদনে বিরাট সফলতা এসেছে।
প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক সম্প্রসারণ ডা. ধীরেশ রঞ্জন ভৌমিক গতকাল দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, ইতোমধ্যে পশুসম্পদে সমৃদ্ধ হয়েছে দেশ। আমাদের পশুসম্পদে বিরাট সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। পশু সম্পদকে ঘিরেই গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সৃষ্টি হচ্ছে।
সূত্র জানায়, আগে ভারত ও মিয়ানমার থেকে কোরবানী উপলক্ষে পশু ঢুকতো। এখনও ঢোকে তবে একেবারেই কম। ভারত ও মিয়ানমারের গরুর কারণে সর্বনাশ ঘটতো খামারী ও কৃষকের। বারবার চেষ্টা করেও মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারতেন না তারা।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ভবতোষ কান্তি সরকার জানান, গ্রামবাংলার বাড়ী বাড়ী গরু ও ছাগল লালন পালন বেড়েছে ব্যাপকভাবে। শুধু কোরবানী নয়, সারা বছরের গোশতের চাহিদা পুরণ হচ্ছে দেশে উৎপাদিত গরু ও ছাগলে। বর্তমানে সব ধরণের পরিবেশও বিদ্যমান। দরকার শুধু সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো। গত ৩ বছর (২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭) কোরবানির পশু বিক্রি করে কৃষকরা বেশ লাভবান হন। তাই ব্যাপক উদ্যোম নিয়ে কৃষকরা গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ ও হাঁস-মুরগী লালন পালন করতে মাঠে নামেন।
সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে প্রায় অর্ধকোটি কৃষক পরিবার গরু পালন করছেন। সর্বশেষ হিসাবানুযায়ী গবাদি পশুর (গরু ও ছাগল) সংখ্যা রয়েছে ৫ কোটি ৪৭ লাখ। এর মধ্যে গরু ২ কোটি ৪১ লাখ, ছাগল ২ কোটি ৫৭ লাখ, মহিষ ১৫ লাখ ৬৭ হাজার, ভেড়া ৩৩ লাখ ৪৫ হাজার। সূত্র জানায়, কোরবানির জন্য প্রস্তত করা হচ্ছে ১ কোটি ১৫লাখ গরু-ছাগল। গতবছর কোরবানির জন্য প্রস্তত ছিল ১কোটি ১০ লাখ পশু। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, কোরবানির পশুর কোনরূপ সঙ্কট হবে না। কৃত্রিম সঙ্কটও কেউ সৃষ্টি করতে পারবে না। দামও তুলনামূলক কম হবে।
নিকট অতীতে ভারত কিংবা মিয়ানমারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো। ভারত থেকে গরু আমদানীর জন্য সীমান্তে করিডোর স্থাপন করা হয়। যা সীমান্তের ‘খাটাল’ হিসেবে পরিচিত। এখন করিডোরগুলো কার্যত খাঁ খাঁ করছে। ভারতীয় গরুর কারণে দেশীয় খামারীরা লোকসানের পর লোকসান দিতে দিতে পঙ্গু হয়ে পড়ে। ভারতীয় গরুর আধিক্যে খামারী ও কৃষক উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। কিন্তু এখন খামারীদের মুখে হাঁসি ফুটেছে। তারা হচ্ছেন আর্থিকভাবে লাভবান। গত দু’টি কোরবানীর পশু বিক্রি করে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। ছাগল ও গরু পালনে দারুণ উৎসাহ বেড়েছে। বেনাপোল, দর্শনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী জানান, ‘ভারত থেকে গরু আসলো কি আসলো না সেদিকে তাকানোর সময় নেই। দেশী গরু ও ছাগল রয়েছে পর্যাপ্ত’।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন