ঢাকা রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫ আশ্বিন ১৪২৭, ০২ সফর ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ফাগুনে আগুন আজ বসন্ত

ফারুক হোসাইন | প্রকাশের সময় : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

‘হে কবি! নীরব কেন- ফাগুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?’ কবি বেগম সুফিয়া কামাল বসন্তের আবেদনকে এভাবেই তুলে ধরেছেন। আর কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক/আজ বসন্ত’।
সত্যিই আজ পয়লা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। শীতের রিক্ততা ভুলিয়ে আবহমান বাংলার প্রকৃতিতে আজ ফাগুনের ছোঁয়া, আগুনরাঙা বসন্তের সুর। গাছে গাছে ফুটবে রক্ত শিমুল-পলাশ, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গম। ফুল ফুটবার পুলকিত এ দিনে বন-বনান্তে কাননে কাননে পারিজাতের রঙের কোলাহলে ভরে উঠবে চার দিক।
কচি পাতায় আলোর নাচনের মতোই বাঙালির মনেও লাগবে দোলা। হৃদয় হবে উচাটন। পাতার আড়ালে-আবডালে লুকিয়ে থাকা বসন্তের দূত কোকিলের মধুর কুহুকুহু ডাক। কবি মনে জেগে উঠবে নতুন নতুন সব পঙ্ক্তি। বসন্ত বাতাস দোলা দেবে সবার মনে; সাজবে বাসন্তি সাজে। বসন্ত রানীর আগমনে মাতাল হবে সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশ।
আগুন রাঙা এ ফাগুনে প্রকৃতিতেই শুধু উচ্ছ্বাসের রঙ ছড়ায় না, রঙ ছড়ায় প্রতিটি তরুণ প্রাণে। প্রাণের টানে, আর প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে মন হয়ে ওঠে উত্তাল, বাঁধনহারা। বসন্ত নিয়ে যেন তরুণদের উচ্ছ্বাসের শেষ নেই। কোকিলের কুহুতান, দখিনা হাওয়া, ঝরাপাতার শুকনো নূপুরের নিক্বণ, প্রকৃতির মিলন সবই এ বসন্তে।
বসন্ত মানেই পূর্ণতা। বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের কলরব। বসন্ত মানেই একে অপরের হাত ধরে হাঁটা। মিলনের এ ঋতু বাসন্তী রঙে সাজায় মনকে, মানুষকে করে আনমনা। এমন মধুর দিনে এমন শঙ্কাও কি জাগে না অধীর প্রতীক্ষায় থাকা কোন মনে- ‘সে কি আমায় নেবে চিনে/ এই নব ফাল্গুনের দিনে- জানিনে...?’।
এ দিনেই অসংখ্য রমণী বাসন্তী রঙে রাঙিয়ে তোলে রাজধানীর রাজপথ, পার্ক, বইমেলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুশোভিত সবুজ চত্বরসহ পুরো নগরী। এ সময়েই শীতের জীর্ণতা সরিয়ে ফুলে ফুলে সেজে ওঠে প্রকৃতি। গাছে গাছে নতুন পাতা, স্নিগ্ধ সবুজ কচি পাতার ধীর গতিতে বাতাসের সঙ্গে বয়ে চলা জানান দেয় নতুন কিছুর। শীতে খোলসে ঢুকে থাকা বন-বনানী অলৌকিক স্পর্শে জেগে ওঠে। পলাশ, শিমুল গাছে লাগে আগুন রঙের খেলা। প্রকৃতিতে চলে মধুর বসন্তে সাজ সাজ রব।
বসন্তের প্রথম সকালে বাসন্তী রঙা শাড়ি, কপালে টিপ, হাতে চুড়ি, পায়ে নূপুর, খোঁপায় গাঁদা ফুল জড়িয়ে বেরিয়ে পড়বে তরুণী-বধূরা। বাসন্তী পাঞ্জাবি, ফতুয়া পরা হাজারো ছেলে-বুড়োর ঢল নামবে বসন্ত বরণের নানা আয়োজনে। বসন্তের আমোদনে ফাগুনের ঝিরিঝিরি হাওয়া, রক্তিম পলাশ, শিমুল, কাঞ্চন পারিজাত, মাধবী, গামারি আর মৃদু গাঁদার ছোট ছোট ফুলের বর্ণিল রূপে চোখ জুড়াবে।
বোটানিক্যাল গার্ডেন, রমনা পার্ক, বলধা গার্ডেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ধানমন্ডি লেক, বনানী লেক, মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, চারুকলার পেছনের সবুজ প্রাঙ্গণ ফুলে ফুলে বর্ণিল, উচ্ছল-উজ্জ্বল হয়ে ওঠে ফাল্গুন এলে বাসন্তী হাওয়ায়। বসন্ত তারুণ্যেরই ঋতু, তাই সবারই মনে বেজে ওঠে কবির এ বাণী- ‘বসন্ত ছুঁয়েছে আমাকে। ঘুমন্ত মন তাই জেগেছে, পয়লা ফাল্গুন আনন্দের দিনে’।
২০ বছর আগে বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে প্রথম ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন করার রীতি চালু হয়। সেই থেকে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ বসন্ত উৎসব আয়োজন করে আসছে। এ বছরের বসন্ত উৎসবের অনুষ্ঠানমালায় কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। বসন্তের নাচ, গান ও কবিতার পাশাপাশি প্রতিবাদী নাচ, গান ও আবৃত্তিরও আয়োজন করেছে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ।
আজ চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় সুর মূর্ছনা দিয়ে শুরু হবে বসন্ত আবাহনের দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথমভাগের কর্মসূচি। এরপর থাকবে বসন্ত শোভাযাত্রা, আবির ও ফুলের প্রীতিবন্ধনীর পাশাপাশি থাকবে নাচ ও গানের আয়োজন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (9)
Ripon Shajadpur ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:৫৬ এএম says : 0
ফাগুনের দিন শেষ হবে এক দিন।
Total Reply(0)
মাহফুজুর রহমান ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:৫৯ এএম says : 0
“হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?” কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি- “দখিন দুয়ার গেছে খুলি? বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল? দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?” “এখনো দেখনি তুমি?” কহিলাম “কেন কবি আজ এমন উন্মনা তুমি? কোথা তব নব পুষ্পসাজ?” কহিল সে সুদূরে চাহিয়া- “অলখের পাথার বাহিয়া তরী তার এসেছে কি? বেজেছে কি আগমনী গান? ডেকেছে কি সে আমারে? -শুনি নাই,রাখিনি সন্ধান।” কহিলাম “ওগো কবি, রচিয়া লহ না আজও গীতি, বসন্ত-বন্দনা তব কণ্ঠে শুনি-এ মোর মিনতি।” কহিল সে মৃদু মধুস্বরে- “নাই হ’ল, না হোক এবারে- আমার গাহিতে গান! বসন্তরে আনিতে ধরিয়া- রহেনি,সে ভুলেনি তো, এসেছে তো ফাল্গুন স্মরিয়া।” কহিলাম “ওগো কবি, অভিমান করেছ কি তাই? যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই।” কহিল সে পরম হেলায়- “বৃথা কেন? ফাগুন বেলায় ফুল কি ফোটে নি শাখে? পুষ্পারতি লভে নি কি ঋতুর রাজন? মাধবী কুঁড়ির বুকে গন্ধ নাহি? করে নি সে অর্ঘ্য বিরচন?” “হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?” কহিলাম “উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?” কহিল সে কাছে সরি আসি- “কুহেলী উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী- গিয়াছে চলিয়া ধীরে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে রিক্ত হস্তে। তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোন মতে।”
Total Reply(0)
মাহফুজুর রহমান ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:৫৯ এএম says : 0
“হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?” কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি- “দখিন দুয়ার গেছে খুলি? বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল? দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?” “এখনো দেখনি তুমি?” কহিলাম “কেন কবি আজ এমন উন্মনা তুমি? কোথা তব নব পুষ্পসাজ?” কহিল সে সুদূরে চাহিয়া- “অলখের পাথার বাহিয়া তরী তার এসেছে কি? বেজেছে কি আগমনী গান? ডেকেছে কি সে আমারে? -শুনি নাই,রাখিনি সন্ধান।” কহিলাম “ওগো কবি, রচিয়া লহ না আজও গীতি, বসন্ত-বন্দনা তব কণ্ঠে শুনি-এ মোর মিনতি।” কহিল সে মৃদু মধুস্বরে- “নাই হ’ল, না হোক এবারে- আমার গাহিতে গান! বসন্তরে আনিতে ধরিয়া- রহেনি,সে ভুলেনি তো, এসেছে তো ফাল্গুন স্মরিয়া।” কহিলাম “ওগো কবি, অভিমান করেছ কি তাই? যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই।” কহিল সে পরম হেলায়- “বৃথা কেন? ফাগুন বেলায় ফুল কি ফোটে নি শাখে? পুষ্পারতি লভে নি কি ঋতুর রাজন? মাধবী কুঁড়ির বুকে গন্ধ নাহি? করে নি সে অর্ঘ্য বিরচন?” “হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?” কহিলাম “উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?” কহিল সে কাছে সরি আসি- “কুহেলী উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী- গিয়াছে চলিয়া ধীরে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে রিক্ত হস্তে। তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোন মতে।”
Total Reply(0)
Jewel Haque ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:৫৯ এএম says : 0
ভাবতেই অবাক লাগে বর্তমানে আমাদের সমাজের উচ্চ বর্ণের মানুষেরা বাঙালীর বিভিন্ন অনুষ্ঠান জাঁকজমক ভাবে পালন করে নিজেকে খাটি বাঙালী হিসাবে দাবি করে। এরাই আবার পশ্চিমা বিভিন্ন দিবস যেমন ভালোবাসা দিবসের মতো যৌনতায় ভরা নোংরা দিবস পালন করে।
Total Reply(0)
Muzebur Rahaman Nirob ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:০০ এএম says : 0
এতসব আয়োজন উৎসব পার্বনের ব্যবস্থা না হলে আমরা কোনো দিনই হয়ত বসন্ত পেতাম না???
Total Reply(0)
A Ahmed Simul ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:০০ এএম says : 0
বসন্তের ছোয়া লাগুক প্রতিটি প্রানে, ছুয়ে যাক বসন্ত,অনন্ত গহীনে। ........ শুভ বসন্ত .......
Total Reply(0)
Elo Melo Mon ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:০১ এএম says : 0
শীতের জড়তা কাটিয়ে নতুন পাতায় ভর করে এসেছে বসন্ত, বসন্তের এই ফুলেল শুভ্রতায় ছেয়ে যাক সকলের মন, জড়তা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে শুরু হোক সব কিছু, সবাইকে পহেলা ফাল্গুনের শুভেচ্ছা!
Total Reply(0)
Kamal Uddin ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:০১ এএম says : 0
আজ পয়লা ফাল্গুল, ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন, শীতের শেষে ঋতুচক্রের এই দিনে বাঙ্গালির জীবন প্রকৃতির রূপ বদলে যায়,,, শুরু হয় নতুন জীবন ধারা, ফুল ফুটবার এই দিন ঝরেপরা শুকনা পাতার মর্মর ধবনির দিন, কচি পাতার আলোর নাচনের মতই বাঙ্গালির মনেও দোলা লাগায়,,,,, প্রকৃতির মতই হোক সবার নতুন করে পথ চলা,,,,
Total Reply(0)
Raju Acharjee ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:০২ এএম says : 0
শীতের জড়তা কাটিয়ে নতুন পাতায় ভর করে এসেছে বসন্ত, বসন্তের এই ফুলেল শুভ্রতায় ছেয়ে যাক সকলের মন, জড়তা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে শুরু হোক সব কিছু, সবাইকে পহেলা ফাল্গুনের শুভেচ্ছা!
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন