ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

বিএনপির ৫ এমপি লোভী- গয়েশ্বর চন্দ্র

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩১ মে, ২০১৯, ৫:৫৩ পিএম

সরকারের চাপে নয়, লোভে পড়েই বিএনপির ৫ এমপি সংসদে শপথ গ্রহণ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল সংসদে যাব না। কিন্তু সংসদে গেলাম। দলের ৫ জন এমপির শপথ নেওয়ার পেছনে সরকারের যতটা না চাপ ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল তাঁদের (৫ জনের) লোভ। এখানেই তো বুঝতে হবে, আমাদের প্রতিশ্রুতির অভাব আছে। আমরা অবাধ্যকে বাধ্য করতে পারি না। কারণ, ওই পাঁচজনের দলের প্রতি, রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকার নেই। এই পাঁচজন অবাধ্যকে যদি আমরা বাধ্য করতে পারতাম, তাহলে আজকে আমাদের দুঃখ থাকত না।

শুক্রবার (৩১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, এখন এই ৫ জন যদি দল ছেড়ে চলে যেতেন! তাঁরা যেতেনই। সেই কারণে আপনাকে প্রেক্ষাপটটা বুঝতে হবে। এঁদের লোভ আছে, এঁদের ওপর চাপ আছে। তবে চাপের চেয়ে লোভ বেশি। এঁরা একটা দিনের জন্য বলেছেন যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্ত না হলে সংসদে যাব না? এই ৫জনের কেউ বলেছেন? এক দিন? কেউ বলছেন? বলেন নাই। তাহলে তাঁদের সংসদে যাওয়াটা জরুরি। বেগম জিয়ার মুক্তিটা কিন্তু জরুরি না।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আমরা কাজে বেশি ফাঁকি দিই। আমরা কমিটি করি। কিন্তু কেউ সংগঠন করি না। একটি কমিটি মানেই সংগঠন না। আর নেতৃত্বের যেখানে দুর্বলতা হয়, সেখানে বহুজনের কমিটি হয়। কমিটিতে যখন যুগ্ম আহ্বায়কের সংখ্যা বেশি, সদস্য সচিব থাকেন, তখনই বুঝতে হবে, কেউ কাউকে মানেন না। তার মানে অঙ্গীকারের অভাব। সংগঠনের চেয়ে নিজেকে সবাই বড় মাপের দেখতে চান।

তিনি বলেন, আইন আছে আইনের প্রয়োগ নাই। বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন হতো বিবেকতাড়িত হতো খালেদা জিয়াকে ১৪ মাস না ১৪ দিনও জেলে থাকতে হতো না। আমি ধরে নিলাম উনার সাজা হয়েছে। এরকম সাজাপ্রাপ্ত লোকের সংখ্যা বাংলাদেশে শত শত হাজার হাজার। তারা জামিনে মুক্ত, কিন্তু খালেদা জিয়ার জামিন হচ্ছে না কেন?

গয়েশ্বর আরও বলেন, সম্প্রতি লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তারেককে বেশি বাড়াবাড়ি না করতে। বাড়াবাড়ি করলে নাকি তার মাকে (খালেদা জিয়া) আর ছাড়া হবে না। তার মানেটাও তাহলে স্পষ্ট- বেগম জিয়াকে এখন কারাগার থেকে ছাড়ার মালিক আদালত নয়, স্বয়ং শেখ হাসিনা। এটা কি আদালত অবমাননা নয়? আদালত কি শেখ হাসিনাকে তলব করেছেন? কেন লন্ডনে এমন বক্তব্য দিলেন সেটা কি জিজ্ঞেস করেছেন?

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জিয়াউর রহমানকে কি আমরা অনুসরণ করেছি? তাঁকে যদি আমরা অনুসরণ করি, তাহলে আমাদের ভাগ্যের চাকা ঘোরে না। আমরা গাড়ি-বাড়ির মালিক হতে পারি না। কারণ, ওনার রাজনৈতিক জীবনে গাড়ি-বাড়ি ও বিত্তশালী হওয়ার কোনো অনুপ্রেরণা ছিল না। ওনার রাজনীতি ছিল দেশপ্রেম ও দেশের মানুষকে জাগিয়ে তোলা।

বিএনপির এই নেতা বলেন, যাঁরা উপদেশ দেন, তাঁরা নিজের বেলায় সেটা কতটুকু বাস্তবায়ন করেন, তা একটু ভেবে দেখবেন। আর দলের উপদেষ্টা-সম্পাদক বেশি, কর্ম সম্পাদকটা একটু কম। বলা হয়, ঘরে বসে মিটিং করব না। কিন্তু ঘরেই ডাকা হয়। আর আজকে ঘরে না ডেকে যদি বাইরে ডাকা হতো, তাহলে খুব বেশি ভালো লাগত।

আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির নেতা খায়রুল কবির খোকন, সেলিম ভূঁইয়া, ২০-দলীয় জোট নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ প্রমূখ বক্তব্য দেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Mohammed Kowaj Ali khan ৩১ মে, ২০১৯, ৯:০৯ পিএম says : 0
বেঈমানদের চিহ্নিত হওয়ার জন্য এই রখম পরিস্থিতির জন্ম হয়। ভোট চুন্নি বেশি দিন টিকিতে পারিবে না, মরিবে এই বৎসরই। ইনশাআল্লাহ।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন