ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

সম্পাদকীয়

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর

| প্রকাশের সময় : ১২ জুন, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

রমজান মাসের শেষদিক থেকে জুনের ৮ তারিখ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সউদি আরবে ওআইসি সম্মেলনে যোগদানসহ জাপান ও ফিনল্যান্ড সফর করে এসেছেন। এসব সফরে কোনো মাইলফলক অর্জন না থাকলেও ইউরোপ,এশিয়া এবং মুসলিম বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অর্জন হিসেবেই ধরে নেয়া যায়। তিন দেশ সফর নিয়ে করা সংবাদ সম্মেলনেই প্রধানমন্ত্রী আসন্ন চীন সফরের কথা জানিয়েছিলেন। গত সোমবার দুই দেশের ক‚টনৈতিক চ্যানেল থেকে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সম্ভাব্য শিডিউল প্রকাশ করা হয়েছে। চীন সরকারের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১ জুলাই থেকে ৫জুলাই পর্যন্ত ৫দিনের সফরে চীন যাবেন বলে জানা গেছে। নানা কারণে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত রোহিঙ্গা সংকটের ক‚টনৈতিক ও রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে চীনের প্রভাব একটি অগ্রগণ্য ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে চীনের বিশাল বিনিয়োগ, উন্নয়নের অংশিদারিত্বের সাথে সাথে মিয়ানমারের শাসকদের উপর চীনের প্রভাব রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে অনুঘটকের ভ‚মিকা পালন করতে পারে চীন। পশ্চিমা বিশ্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন রাখাইনে মিয়ানমারের গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করছে এবং বাংলাদেশ ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরনার্থীর বোঝা বহন করতে বাধ্য হচ্ছে তখন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই সংকটের শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানে চীনকে অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করতে হবে।

সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকে চীনকে মিয়ানমারের পক্ষাবলম্বন করতে দেখা গেছে। তবে চীন বরাবরই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষেও কথা বলে আসছে। রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পশ্চিমারা যথেষ্ট লিপ সার্ভিস দিলেও সংকটের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান নির্ভর করছে চীন ও মিয়ানমারের সদিচ্ছার উপর। এ ক্ষেত্রে পশ্চিমাদের তৎপরতা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হলেও ইতিবাচক ফলাফল নিশ্চিত করতে চাইলে চীনের সমর্থন ও সহযোগিতা অপরিহার্য। রোহিঙ্গা জনগোষ্টির উপর মিয়ানমার বাহিনীর বর্বরোচিত আচরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ওআইসি সম্মেলনে যে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান দেখা গেছে তা প্রশংসনীয়। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় তৎপরতা এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ক্ষেত্রে প্রভাবকের ভ‚মিকা পালন করতে পারে। পশ্চিমা ও তাদের বশংবদ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভ‚মিকার পেছনে যে মতলবই থাকুক না কেন, রোহিঙ্গা সংকটে চীনের প্রভাব ও ভ’মিকাকে কাজে লাগাতে যথাযথ কর্মকৌশল বাংলাদেশকেই গ্রহণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদি।

শুধু রোহিঙ্গা সংকট নিরসনেই নয়, আরো বহুবিধ কারণে চীনের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সম্পর্ক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পক্ষান্তরে আমাদের আরেক প্রতিবেশি দেশ ভারত হিন্দুত্ববাদের হুমকিসহ নানাবিধ অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রতিবেশিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলেও বিনিয়োগ, ব্যবসায়-বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশিদারিত্বের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে চীন বিশ্বের অন্যতম বড় শক্তি। বাস্তবতা যাই হোক, বিশাল সীমান্ত, অভিন্ন নদনদী, গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ইস্যুসহ নিকটতম বড় প্রতিবেশি দেশ হিসেবে ভারত-বাংলাদেশ যথাযোগ্য মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্কের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। চীনের সাথে বাংলাদেশের কোনো সীমান্ত না থাকলেও বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে চীন আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র। মিয়ানমারে চীনের যে স্বার্থই থাক না কেন, আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত একটি আঞ্চলিক মানবিক সংকটকে চীন অগ্রাহ্য করতে পারে না। চীনের বিনিয়োগ ইউরোপ-আমেরিকা থেকে শুরু করে আফ্রিকার অনুন্নত পশ্চাৎপদ দেশগুলোতেও নতুন অর্থনৈতিক গতি সঞ্চার করতে সক্ষম হচ্ছে। পাকিস্তান, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কাসহ আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলোতেও চীনের বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অংশীদারিত্ব জোরালো ও দৃশ্যমান হয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক কৌশলগত কারণেই বাংলাদেশ ও চীনের সুসম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্ববহ। এসব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর ৫ দিনের চীন সফরে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এজেন্ডা বা আলোচ্য সূচি নির্ধারণ করা হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলোতে শান্তির সপক্ষে চীনা ও বাংলাদেশ নেতাদের মধ্যে ঐক্য ও সমঝোতা, অংশিদারিত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়া সময়ের দাবী।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন