ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০৪ ভাদ্র ১৪২৬, ১৭ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

আন্তর্জাতিক সংবাদ

জি২০ শীর্ষ বৈঠকে বাণিজ্যে জোর ট্রাম্পের সংরক্ষণবাদের বিরুদ্ধে শি’র সতর্কতা

শুল্কবৃদ্ধি প্রত্যাহারে ভারতের ওপর ট্রাম্পের নতুন চাপ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৮ জুন, ২০১৯, ৬:০৩ পিএম

জাপানে জি২০ শীর্ষ বৈঠকে নিজের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথম দিনের বক্তব্যে তিনি জানিয়েছেন, এই সম্মেলনে বাণিজ্যই তার প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থনীতির দেশ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সংরক্ষণবাদের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। এছাড়া, বহুপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, জাপান, ভারত ও রাশিয়া। খবর এএফপি ও রয়টার্স।
শুক্রবার থেকে জাপানের ওসাকায় শুরু হয়েছে জি২০ সম্মেলন। এতে অংশ নিয়েছেন বিশ্বের ১৯ দেশ ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) নেতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা। সম্মেলনের ফাঁকে একে অপরের সঙ্গে ব্যক্তিগত ও বহুপাক্ষিক বৈঠক করছেন নেতারা। এসব নেতাদের মধ্যে ট্রাম্পও রয়েছেন।
শুক্রবার তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, ভারতের নরেন্দ্র মোদিসহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া, শনিবার জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তার। কয়েকদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র-জাপান নিরাপত্তা চুক্তির সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, এতে একপাক্ষিকভাবে বেশি লাভবান হচ্ছে জাপান। এছাড়া, স¤প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ভারতের আরোপিত শুল্কহার প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহŸানও জানান তিনি।
সম্মেলনে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সংরক্ষণবাদের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট জিনপিং। তিনি বলেন, এসব সংরক্ষণবাদ বৈশ্বিক বাণিজ্য শৃঙ্খলা নষ্ট করছে। নষ্ট হচ্ছে আমাদের সকলের স্বার্থ, চাপা পড়ে যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ¬াদিমির পুতিন বলেছেন, অনেকে জেনেভা-ভিত্তিক সংগঠনটি ধ্বংস করার চেষ্টা চালাচ্ছে। পুতিন বলেন, আমরা মনে করি ডবিøউটিও’কে ধ্বংস করা বা এর ভূমিকা সংকুচিত করা উৎপাদন-বিরোধী।
যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত করে পুতিন আরো বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সংরক্ষণবাদ ও উদ্দেশ ্যপ্রণোদিত নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়ছে বিশ্ব বাণিজ্যে।
আজ শনিবার সম্মেলন শেষ হবে। এদিন বিশ্ব নেতাদের মধ্যে উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে জাপানে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে জাপানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগে ভারতের উপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার ঠিক আগের দিন টুইট করে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ভারত যে হারে শুল্ক বৃদ্ধি করেছে, তা অসমর্থনীয়। ভারতকে অবশ্যই ওই বৃদ্ধি প্রত্যাহার করতে হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই কড়া মনোভাব নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মন্তব্য করেননি ভারত সরকারের কোনো মন্ত্রীও। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান চলে গেছেন। এই অবস্থায় ভারত কী করবে, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে মোদি কীভাবে ওই চাপ সামাল দেবেন, তা নিয়েই আপাতত জল্পনা চলছে।
টুইটে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে কথা বলতে আমি মুখিয়ে রয়েছি। ভারত অনেক বছর ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে শুল্ক বৃদ্ধি করে রেখেছে। স¤প্রতি সেই শুল্কহার আরও বাড়ানো হয়েছে। এটা মেনে নেয়া যায় না। শুল্ক কমাতেই হবে।’
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্রমোন্নতি সত্তে¡ও কয়েকটি বিষয় গলার কাঁটার মতো খচখচ করছে। যেমন রাশিয়া থেকে ৫০০ কোটি ডলারে অত্যাধুনিক এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তি এবং শুল্ক বৃদ্ধি। কিছুদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের এক সংবাদমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমরা এত বোকা দেশ নই। ভারতকে দেখুন, বন্ধু দেশ। প্রধানমন্ত্রী মোদি এত ভালো বন্ধু। কিন্তু কী করেছেন! মোটর সাইকেলের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়েছেন। অথচ আমরা এক পয়সাও শুল্ক নিই না।’ ওই সাক্ষাৎকারের পর শুল্কহার ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ট্রাম্প বলেছেন, তা সত্তে¡ও ওই হার অযৌক্তিক।
জাপানের ওসাকায় জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের আগে ভারতে আসেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। মোদি ও জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর মনোভাবের বিষয়টি পম্পেও উল্লেখ করেন। বৈঠকে দুই দেশই ‘জাতীয় স্বার্থের’ কথা উল্লেখ করেছেন। পম্পেওর সঙ্গে বৈঠকে ভারত এমন কোনো ইঙ্গিত দেয়নি যাতে মনে হয়, শীর্ষ সম্মেলনের আসরে মোদি নমনীয় হবেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক স‚ত্রের মতে, সেই কারণে পম্পেওর সঙ্গে বৈঠকের পরপরই ট্রাম্প ওই টুইট মারফত ভারতের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করলেন।
এস-৪০০ চুক্তির জন্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে ভারত। ভারত সেই নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় চাইছে। ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম রপ্তানির ওপর ভারতকে কোনো শুল্ক দিতে হতো না। ১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র সেই সুবিধা তুলে নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির প্রতিবাদে ১৫ জুন ভারতও ২৮টি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে দেয়। ট্রাম্প ওই বৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। টুইট মারফত চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যও তা-ই।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন