ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৫ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ব্যবসা বাণিজ্য

ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজের তালিকাভুক্ত জামদানি

প্রকাশের সময় : ২০ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ঃ জামদানি আমাদের সুপ্রাচীন ঐতিহ্য এবং পৃথিবীখ্যাত মসলিনের উত্তরাধিকার। একসময় মসলিন সূ²বস্ত্র হিসেবে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিল। পৃথিবীর রাজা-বাদশা ও সুলতানগণ কর্তৃক সমাদৃত এ বস্ত্রের কদর ও চাহিদা ছিল প্রচুর। মসলিন ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। বাংলাদেশকে হাজার বছর আগেই পৃথিবীতে পরিচিত করিয়েছিল মসলিন অর্থাৎ আজকের জামদানি। ইউনেস্কোর উদ্যোগে আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত ইন্টারগভর্নমেন্ট কমিটির অষ্টম সম্মেলনে ১০০টি দেশের প্রতিনিধিরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পণ্য নিয়ে অংশগ্রহণ করে।
প্রদর্শিত পণ্যগুলোর মধ্য থেকে ইউনেস্কোর জুরিবোর্ড ৭টি ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজের তালিকাভুক্ত করে, যার মধ্যে জামদানি অন্যতম।
গতকাল বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জামদানি প্রদর্শনী-২০১৬ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এ সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম আক্তারী মমতাজ ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুচেন চন্দ্র দাস। এতে সভাপতিত্ব করেন বিসিক চেয়ারম্যান মো. হজরত আলী। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, জামদানি একটি বংশানুক্রমিক কারুশিল্প। নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন রূপগঞ্জ উপজেলার বেশ কিছু গ্রাম এবং সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁও উপজেলার কয়েকটি গ্রামে যুগ যুগ ধরে জামদানি তৈরি হয়ে আসছে।
বিসিক জামদানি শিল্পের উন্নয়নে কারুশিল্পীদের একই স্থানে শিল্প স্থাপনে অবকাঠামোগত সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মকে উৎসাহ প্রদান, উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিপণন সহায়তা প্রদানের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিসিক প্রায় ৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নারাণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলাধীন তারাবো ইউনিয়নের নোয়াপাড়াতে ২০ একর জমির উপর ইতোমধ্যে জামদানি শিল্পনগরী ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এ শিল্পনগরীতে মোট ৪০৯টি শিল্প প্লট রয়েছে, ৩৯৯টি প্লট উদ্যোক্তাদের মাঝে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং এখানে ৩৬৩টি জামদানি শিল্প-কারখানা স্থাপিত হয়েছে।
তাছাড়া এখানে একটি হাটকর্ণার স্থাপিত হয়েছে। সপ্তাহে প্রতি বৃহস্পতিবার এ হাটে জামদানি কারুশিল্পীর উৎপাদিত জামদানি বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। মন্ত্রী আরো বলেন, তিনি আশা করছেন যে উদ্দেশ্য ও লক্ষকে সামনে রেখে এ শিল্পনগরী স্থাপিত হয়েছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে বিসিক কর্তৃপক্ষ আরো তৎপর হবেন এবং জামদানি গবেষণা কার্যক্রমকে আরো জোরদার করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি বলেন, আমাদের জামদানি শিল্পকর্মের শুরুটা পুরোপুরি জানা না গেলেও প্রাচীন ইতিহাস থেকে, ঐতিহাসিক ও পর্যটকগণের অনেক সাক্ষ্য প্রমাণের মাধ্যমে জানা যায় যে, আমাদের ঐতিহ্যবাহী মসলিনই আজকের জামদানি। বিশেষ অঞ্চলের লোকদের শিল্পচর্চা ও শিল্পভাবনার ফলাফলই এই জামদানি শিল্প। ব্রিটিশ শাসকদের নির্যাতন ও নিপীড়ন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চরম অবহেলা ও অসহযোগিতার মাঝেও আমাদের জামদানি বেঁচে আছে।
আর একাত্তরের স্বাধীনতার পরবর্তীকালে জামদানি কারুশিল্পীগণ কিছুটা হলেও নতুন পথের সন্ধান খুঁজে পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জামদানি শিল্পখাত বিকশিত হয়েছে, বাড়ছে এর চাহিদা ও বাজার। বিসিক দেশের গ্রামীণ শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাÐ পরিচালনা করে আসছে।
বিশেষ অতিথি শিল্প সচিব বেগম আক্তারী মমতাজ বলেন জামদানি প্রদর্শনী কারুশিল্পীদের পণ্য বিপণনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোতেও করা যেতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে বিসিক চেয়ারম্যান বলেন জামদানি শিল্প নগরীর কার্যক্রমকে গতিশীল করতে হবে। এখানে প্রশিক্ষণ প্রদান, গবেষণা পরিচালনা, বিক্রয় এবং প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপনসহ একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জামদানি শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যা হবে একটি দর্শনীয় কেন্দ্র।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন