ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

সদ্য প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধার নাম, সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি !!!

বাউফল উপজেলা (পটুয়াখালী )সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২:১৩ পিএম

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সদ্য প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় বাউফলের এক ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধার নাম থাকা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি। মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় থাকা ওই ব্যক্তির নাম মৃত এ বি এম আবদুল খালেক, পিতা- মৃত তোজম্বর আলী মাতব্বর, গ্রাম- চন্দ্রপাড়া, থানা- বাউফল, জেলা-পটুয়াখালী। প্রকাশিত চূড়ান্ত লাল মুক্তি বার্তায় তার নম্বর-০৬০৩০২০৪১৩, গেজেট নং-২০২। এছাড়াও মুক্তিবার্তা প্রকাশিত হওয়ার আগে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কর্তৃক সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৭৮-৩৮-৭৭-০০৩ নং সিরিয়ালে তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত অবস্থায় ১৯৯৯ সালের ৬জুন মৃত্যুবরণ করেন।

ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও রাজাকারের তালিকায় তাঁর নাম প্রকাশিত হওয়ায় তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্য ও বিভিন্ন স্তরের মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ।

পটুয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার ও যুদ্ধকালীন সময়ের সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের পটুয়াখালী জেলার অন্যতম সংগঠক এবং সদস্য কমরেড মোকছেদুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যায়ন পত্রে এবিএম আবদুল খালেক সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে, “এ.বি.এম আবদুল খালেক সিও.ডেভ অফিসে ওভারশিয়ার পদে কর্মরত থাকাকালিন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচার কাজে সহযোগীতা এবং তাদেরকে সংগঠিত করার জন্য চাকুরির মায়া ত্যাগ করে বর্তমান বাউফল উপজেলা পরিষদে থাকা একমাত্র সাইক্লোস্টাইল মেশিন (ছাপা কাজে ব্যবহৃত যন্ত্র) মুক্তিবাহিনীর কাছে তুলে দেন। প্রত্যয়ন পত্রে তারা আরও উল্লেখ করেন ৭১’র যুদ্ধকালীন সময়ে জেলা সংগ্রাম কমিটির অন্যতম সংগঠক ও ভাষা সৈনিক সৈয়দ আশরাফ ও অনন্য সদস্যদের সথে একাধিক বার রূদ্বাদার বৈঠক করেন এবিএম আবদুল খালেক। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার দেয় সাইক্লোস্টাইল মেশিন দিয়ে ছাপিয়ে পটুয়াখালী জোলা সংগ্রাম পরিষদের প্রচার পত্র বিলি করে। তার পর পাক বাহিনী তাঁকে খুঁজে না পেয়ে তাঁর গ্রামের বাড়ি বাউফলের চন্দ্রপাড়া গ্রামে হামলা চালিয়ে তাঁদের বাড়ির পাঁচটি ঘর পুড়িয়ে দিয়ে তাঁর ১৪জন স্বজনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে তিনি বাউফল উপজেলায় সংঘটিত যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন।

এবিষয়ে ৭১’র যুদ্ধকালীন কমান্ডার ও পটুয়াখলী জেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আঃ বারেক হাওলাদার বলেন. “আমার জানামতে বাউফল উপজেলার চন্দ্রপাড়া গ্রামে এবিএম আবদুল খালেক নমে কোন রাজাকার ছিলনা।

এ বিষয়ে এবিএম আবদুল খালেকের ছেলে ব্যারিষ্টার মোঃ মোজাহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি আক্ষেপের সাথে বলেন, “আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সরকারের নিতীমালার সকল নিয়মানুযায়ী আমার বাবার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অর্ন্তভূক্ত হয়েছে। রাজাকারের তালিকায় নাম থাকা যে কতটা কষ্টের ও দুঃখের তা কেবল ভূক্তিভোগী পরিবারে সন্তানরাই অনুভাব করতে পারেন। দ্রæততার সাথে এই তালিকা সংশোধনের দাবী করেন তিনি।”

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা পিজুস চন্দ্র দে বলেন, তালিকায় এমন কোনো অসঙ্গতি থেকে থাকলে আমরা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়কে জানাবো।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন