ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

করোনা দুর্যোগে কিশোরগঞ্জে চাল চুরির উৎসব!

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৪ এপ্রিল, ২০২০, ৭:৪৭ পিএম

কিশোরগঞ্জ জেলাজুড়ে যেন চাল চুরির উৎসব চলছে! করোনা দুর্যোগের সময় গরীব মানুষের জন্য সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণ না করে কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে ডিলাররা। গত ছয় দিনে জেলার করিমগঞ্জ, তাড়াইল, কটিয়াদী, হোসেনপুর ও কুলিয়ারচর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির অন্তত ২০০ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজন ডিলারসহ কালোবাজারিকে। তাদের প্রায় সবাই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব চুরি ধরা পড়ছে না। ভেতরে ভেতরে ডিলাররা সব শেষ করে দিচ্ছে। এ বিষয়ে শূণ্য সহনশিলতা নীতি ছাড়া কোনো উপায় নেই। প্রশাসনকে এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ কঠোরতা দেখাতে হবে।

জানা গেছে, করোনা দুর্যোগে হঠাৎ চালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বেশি দাম পেয়ে এগুলো কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। লোকজন বলছে, সরকার যেখানে করোনা পরিস্থিতি সমাল দিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ১০টাকা কেজির চাল ও ত্রাণ সঠিকভাবে বিতরণের আহ্বান জানাচ্ছে, সেখানে এ ধরণের অপকর্ম বিস্মিত করেছে তাদের।

আজ মঙ্গলবার জেলার হোসেনপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২২ বস্তা চালসহ আশরাফ (২৫) নামে এক চাল ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দুপুরে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের জনতা বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি নান্দাইল উপজেলার কন্ডবপুর গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ বলছে, কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে সে পার্শবর্তী নান্দাইল উপজেলার এক ডিলারের কাছ থেকে কিনে স্থানীয় জনতা বাজারে নিয়ে আসছিল। খবর পেয়ে পুলিশ এগুলো আটক করে।

হোসেনপুর থানার ওসি শেখ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। চালগুলো কোনো ডিলারের কাছ থেকে কেনা হয়েছে এখন তার তদন্ত চলছে। সোমবার রাতে জেলার তাড়াইল উপজেলার দামিহা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডিলার আইনুল ইসলাম এবং তাদের ভগ্নিপতি আবু খাঁর কাছ থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪৪ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তারেক মাহমুদ জানান, প্রথমে রাহেলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে আইনুলের ভগ্নিপতি আবু খাঁর গোয়ালঘর থেকে ১৭ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ আইনুলের ভাই পাঞ্জু মিয়ার ঘর থেকে আরো ২৭ বস্তা চাল উদ্ধার করে। এ ঘটনায় উপজেলা এলএসডি গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ডিলার আইনুল ইসলাম, তার ভাই রমজান আলী ও তাদের ভগ্নিপরি আবু খাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার একই উপজেলার দিগদাইর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ডিলার মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাফাকেও ৬০ বস্তা চালসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিন রাতে করিমগঞ্জ উপজেলার গুণধর ইউনিয়নের মরিচখালি বাজার থেকে ২৭ বস্তা সরকারি চাল তাড়াইলে পাচার হওয়ার সময় তাড়াইল থানা পুলিশ আটক করে। এ সময় ট্রলির চালকসহ দুজনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাতে তাড়াইল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। পরের দিন শুক্রবার দুপুরে জেলার করিমগঞ্জের জাফারাবাদে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ঝোপের আড়াল থেকে ২৫ বস্তা চাল উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় জিডি হয়েছে।

তাড়াইল থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান জানান, তাড়াইলে তিনটি চাল আটকের ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে। তিন মামলায় নয়জন আসামির মধ্য পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে সোমবার কুলিয়ারচরে ৫৭ বস্তা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালসহ নাসির উদ্দিন নামে এক ডিলারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই দিন কটিয়াদীতে ৩৯ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় নিখিল চন্দ্র সরকার নামে করগাঁও ইউনিয়নের এক ডিলারসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি এম. এ জলিল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কালোবাজারে বিক্রির দায়ে ডিলার ও কেনার দায়ে নাছিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এগুলো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল।

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ তানভির হোসেনের সঙ্গে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির প্রত্যোকটি ডিলার অপকর্মগুলোর ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, আমরা মামলা করছি, বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে এসব ডিলারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে, ডিলারশিপ বাতিল হবে। আর বর্তমানে এগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন