ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭ আশ্বিন ১৪২৭, ০৪ সফর ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

ওসমানীনগরে বাড়ছে লাশের মিছিল নির্বিকার প্রশাসন!

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দুর্ঘটনা

বালাগঞ্জ (সিলেট) থেকে আবুল কালাম আজাদ | প্রকাশের সময় : ১৪ আগস্ট, ২০২০, ৫:৫৮ পিএম

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি থেকে সিলেট শহরের হুমায়ুন রশিদ চত্বর পর্যন্ত ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওসমানীনগরে সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল দিন দিন বাড়ছে। প্রতিদিন আতংকে নিয়ে চলাফেরা করছেন এ এলাকার যাত্রীরা। আউশকান্দি থেকে হুমায়ুন রশিদ চত্ত্র পর্যন্ত প্রায় ৫২ কিলোমিটার মহাসড়কের এসব দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনা না বলে ‘সড়ক হত্যা’ বলে মন্তব্য করছেন সচেতন মহল।

১৩ আগষ্ট বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৭টার দিকে মহাসড়কের ওসমানীনগরে সাদিপুরের ভাঙ্গা নামক স্থানে বাসচাপায় মদরাসার ছাত্রীসহ ৬জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ৪জন এর মধ্যে শিশু দুইজন। মারা যান, অটোরিকশার চালক ও তার সহকারী একজন মারা যান। মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন অটোরিকশার আরো ২ যাত্রী। নিহত শিশুরা তাদের মা ও খালার সাথে নানা বাড়ি যাচ্ছিল। কিন্তু ঘাতক বাসগাড়ি তাদের নানার বাড়ি যেতে দিলো না! নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকর মাতম।

নিহতরা হচ্ছেন, ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউপির পশ্চিম ব্রাহ্মণগামের কামরু মিয়ার দুই শিশু কন্যা খাদিজা (২) ও কারিমা (৪), কমরু মিয়ার বড় ভাই ফজলু মিয়ার শিশুকন্যা মাদরাসার ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফা বেগম (১৪), কমরু মিয়ার জেটালী মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ভাদ্র গ্রামের আওয়াল মিয়ার স্ত্রী হামিদা বেগম (২৮), ওসমানীনগর উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে অটোরিকশা চালক জুনাইদ (২৮) ও একই গ্রামের ইউসুফ উল্যার ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া। নিহতের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিলেটগামী মামুন পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৯৮৪৮) একটি বাস শেরপুরগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে (মৌলভীবাজার-থ-১১-৩৬৯১) ভাংগারবাজার নামক স্থানে চাপা দিলে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ঘাতক বাস গাড়ি আটক করেছে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ এবং মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা যায়। দুর্ঘটনা ঘটার সময় পাশে বাড়ি নির্মাণের বালু রাখা ছিল। এ সময় শত শত গাড়ি আটক পড়ে। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে চলাচল স্বাভাবিক করতে সক্ষম হয়।

এদিকে ১২ আগষ্ট বুধবার ঢাকা থেকে আসা এনা পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো- ১৫-০১১৯) মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার নাজিরবাজারে দুই মোটরসাইলে আরোহীকে চাপা দিলে মো. মুজিব (১৮) নামে এক যুবক মারা যান। তিনি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার গোলসা গ্রামের সদই মিয়ার পুত্র। এসময় আহত হন আব্দুস সালাম (৩৫)।
সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জের আউশকান্দি পানিউমদা বাজার থেকে সিলেট হুমায়ুন রশীদ চত্তর পর্যন্ত সড়কের খানাখন্দ সৃষ্টি। বড় বড় গর্তের কারণে রং সাইটে গিয়ে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। প্রতিযোগি মনোভাব নিয়ে গাড়ি চলাচল করা, অযোগ্য চালক দিয়ে দূরপাল্লার চারানো, মহাসড়কে নিষিদ্ধ তিন চাকার গাড়ি চলাচলকরা সহ ট্রাফিক আইন না মেনে চলার কারণে এসব ঘটনা নিত্যদিন ঘটছে।
এসব দুর্ঘটনায় অকালে ঝড়ে পড়ছে তরতাজা প্রাণ। অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করে পরিবারের বুঝা হয়ে আছেন। দুর্ঘটনায় নিহতের মদ্যে অধিকাংশ পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

ঝুকিপূর্ণ এলাকাগুলো হচ্ছে, নবীগঞ্জের আউশকান্দি, সইদপুরবাজার, দেবপাড়া ইউনিয়নের সদরঘাট, নতুন বাজার, ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুর, কাগজপুরব্রীজ, গজিয়া ইব্রাহীমপুর, ভাঙ্গা, বুরুঙ্গাবাজার মূখ, উনিশ মাইল, প্রথমপাশা, ব্রাম্মণগ্রাম মোড়, গোয়ালাবাজার, ওসমানীনগর থানার সামন, তাজপুর, ব্রাম্মণশাসন মোড়, চকবাজার, দয়ামীর, নাজিরবাজার, কুরুয়া, রশিদপুরসহ শতাধিক স্থান ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।
এ অঞ্চলের মহাসড়কের খানাখন্দকের অবস্থা ভয়াবহ। এতে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়লে নামকা ওয়াস্তে সংস্কার করা হলে কয়েকদিন পর আবার যেই সেই্ গর্তের সৃষ্টি হয়। বৈধ চালকরা বলছেন, এসব দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে অবৈধ চালকরা। অবৈধ চালকদের সামনে যাত্রীরা কখনো নিরাপদ নয়। তারা এক ধরণের ঘাতক। পুলিশকে নিয়মিত মাসোয়ারা দিয়ে মহাসড়কে চলাচল করছে অবৈধ গাড়ি। তিন চাকার গাড়ি মহাসড়কে চলার কোন নিয়ম না থাকলেও অনৈতিক সুযোগ সুবিধা নিয়ে চলাচল করছে এসব গাড়ি। যার ফলে প্রতিদিন ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা।

এছাড়া রয়েছে রয়েছে হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো, রাস্তা ঘাটের নির্মাণ ত্রæটি, চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাইল ব্যবহার, পণ্যবাহী গাড়িতে যাত্রী উঠা। রয়েছে মহাসড়কের দুপাশ দিয়ে বাসাবাড়ি নির্মাণের বালু পাথরের স্থুপ। মহাসকের ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে চলছে ভাসমান দোকান।
সচেতন মহল মনে করেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার জন্য সরকারী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। দুর্ঘটনার জন্য চালকের শাস্তি একেবারেই নগন্য। যার কারণে তাদের কাছে এসব সড়ক হত্যা ‘পানি-ভাত’। অন্যদিকে পুলিশ অবৈধ চালকদের কাছে অনৈতিক সুযোগ সুবিধা নেয়ার কারণে এসব হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন। অটোরিকসার চালককে স্টিকার দিয়ে গাড়ি চালানো অবৈধ অনুমতি দিচ্ছে। যার কারণে এসব ঘটনা ঘটছে।
সিলেট জেলা মোটরসাইকেল ইঞ্জিনিয়ার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছাদিকুর রহমান ছাদেক বলেন, হাইওয়ে পুলিশসহ দায়িত্বশীলদের অবহেলার কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। সরকারের আইন যথাযথভাবে পালন না করার কারণে এসব মর্মান্তিক ঘটনার সংবাদ আমাদের শুনতে হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশ হঠাৎ বাঘের মত ঝাপিয়ে পড়ে অটোরিসকসার উপর। যার ফলে অটোরিসকার চালকরা ব্যালেন্স হারিয়ে পালানো সময় দুর্ঘটনা ঘাটাচ্ছে।
এব্যাপারে শেরপুর হ্ইাওয়ে থানার ওসি মো: এরশাদুল ভূইয়া বলেন, মহাসড়কে অটোরিক্সা বন্ধে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। সব কিছু করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। জরিমানা করতে হলে ভ্রাম্যমান আদালত লাগবে। সে ক্ষমতা আমাদের নেই।
এব্যাপারে ওসমানীনগর থানা অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বনিক বলেন, সাদিপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাস অটোরিকশাকে চাপা দেয়ার ঘটনায় হতাহতের ঘটনাটি ঘটে। এ পর্যন্ত ৬জন নিহত হয়েছেন আহত হয়েছেন ২জন। আহত ২জনের অবস্থাও আশংকাজনক। অনৈতিক সুযোগ সুবিধা নেয়ার কথা অস্বীকার করে তিনি আরো বলেন, মহাসড়কে অটোরিকসা যাতে চলতে না পারে সেজন্য আমি জায়গায় জায়গায় গিয়ে চালকদের বুঝচ্ছি। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে রাখা বালু পাথর তুলে দিচ্ছি।

এব্যাপারে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা: তাহমিনা আক্তার বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমরা উপজেলা আইন শৃংখলা সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মহাসড়কে অটোরিকসা চলতে পারবে না। মহাসড়কজুড়ে সকল অবৈধ জিনিসপত্র সরিয়ে দিতে দ্রæত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন