শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২ আশ্বিন ১৪২৮, ০৯ সফর ১৪৪৩ হিজরী

স্বাস্থ্য

ঈদের খাবার ও স্বাস্থ্য সচেতনতা

ডা: মাও: লোকমান হেকিম | প্রকাশের সময় : ১৬ জুলাই, ২০২১, ১২:০১ এএম

মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: বলেছেন, ‘ইন্না লিকুল্লি কাওমিন ঈদান, ওয়া হাজা ঈদুনা।’ প্রত্যেক জাতিরই নিজস্ব উৎসব রয়েছে। আমাদের জন্যও তেমনি রয়েছে দুটো উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। অন্যান্য জাতির আনন্দ উৎসব আর ঈদের উৎসবের মধ্যে অনেক পার্থক্য বিদ্যমান। মহান আল্লাহর অফুরন্ত রহমতের সওগাত-সমৃদ্ধ কোরবানির মাধ্যমে, ত্যাগ-তিতিক্ষা শিক্ষার মাধ্যমে আনন্দের অনুপম মাধুরী এনে দিয়েছে ঈদুল আজহা। ঈদকে কেবল আনন্দ বা পানাহারের উৎসব বলে মনে করলে চলবে না, বরং ঈদের উৎসব পালনের সৌভ্রাতৃত্ব, তাকওয়া অর্জন এবং প্রিয়তম ত্যাগের মহান ও অনুপম তাৎপর্য রয়েছে তা উপলব্ধি করতে হবে। ত্যাগ ও কোরবানির মহিমায় উজ্জ্বল হজ ও ঈদুল আজহা। তাই ঈদ আমাদের আত্মৎসর্গের শিক্ষা দেয়, আল্লাহর নৈকট্য লাভে প্রেরণা জোগায়।

খুশি ও কল্যাণের সওগাত নিয়ে প্রতি বছরই ঈদ আসে। কোরবানি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। কোরবানির সাথে বান্দার তাকওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। তাই ঈদ হলো আনন্দের দিন। এই আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো খাবার। আর কোরবানির ঈদের অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মূল আয়োজন হলো বিভিন্ন রকমের গোশত খাওয়া, যেমন গরু, খাসি, মহিষ, এমনকি উটের গোশত। ঈদ উৎসবে সবারই মনের প্রবল ইচ্ছা বেশি বেশি করে গোশত খাওয়া। দুই একদিন বেশি খেতে যদিও খুব বাধা নেই, তবুও খাওয়া উচিত রয়ে সয়ে। সমস্যা হলো তাদের, যাদের পেটের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ আছে কিংবা যারা এসব রোগের প্রাথমিক লক্ষণ আছে। ঈদকে উপলক্ষ করে সবার বাসায় নানা ধরনের মুখরোচক খাবারের আয়োজন করা হয়। নিজের বাসায় তো বটেই, আতœীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের বাসায় ঘুরে ঘুরে প্রায় সারা দিনই টুকিটাকি এটা- সেটা খাওয়া হয়। আমাদের একটু নজর দেওয়া দরকার আমরা কি খাচ্ছি, কতটুকু খাচ্ছি, বিভিন্ন খাবারের প্রতিক্রিয়া কি, তার ওপর। মূল সমস্যা নিঃসন্দেহে খাবারের পরিমাণে। অনেকেই একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণ তৈলাক্ত বা চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে হজম করতে পারেন না। এ ছাড়া কোরবানির জন্য গোশতের পরিমাণটা একটু বেশিই খাওয়া হয়। অধিক পরিমাণে গোশত খাওয়ার ফলে পেট ফাঁপা, জ্বালাপোড়া করা, ব্যথা করা এবং বার বার পায়খানা হয়। পর্যাপ্ত পানি পান না করার কারণে অনেকে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। ঈদের দিন তৈলাক্ত খাবার, পোলাও, বিরানি ও আমিষ জাতীয় খাবার, যেমন মুরগি, খাসি বা গরুর মাংস, কাবাব, রেজালা ইত্যাদি খাওয়া হয়। এ ছাড়া আছে চটপটি, দইবড়া কিংবা বোরহানির মতো টক খাবারও। এই জাতীয় খাদ্য সকাল আর দুপুরে পরিহার করাই উত্তম। কারণ বিকালে প্রচুর পরিমাণে গোশত খাওয়ার সম্ভাবনা থাকবেই।

ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়ার আগে অল্প করে সেমাই বা পায়েস খান। তার সঙ্গে কিশমিশ ও বাদাম ইত্যাদি খান। ফলের জুস, ডাবের পানি ইত্যাদি খেতে পারেন। খাবার আধঘন্টা পর দেড় থেকে দুই গ্লাস পানি খেয়ে নামাজ পড়তে যান। ঈদের দিনে বেশি গোশত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেড়ে যায়। যাদের এনাল ফিশার ও পাইলস জাতীয় রোগ আছে, তাদের পায়ুপথে জ্বালাপোড়া, ব্যথা ইত্যাদি বাড়তে পারে। তাই প্রচুর পরিমাণে পানি, শরবত, ফলের রস, ইসবগুলের ভুসি ও অন্যান্য তরল খাবার বেশি করে খাবেন। দাওয়াতে গেলে পরিমিত খাবেন, অতিভোজন পরিহার করার চেষ্টা করবেন। হয়তো অনেক খাওয়া-দাওয়া টেবিলে সাজানোই থাকবে, কিন্তু খেতে বসলেই যে, সব খেতে হবে, তা নয়। খাবারের ফাঁকে ফাঁকে পানি খাবেন না, এতে হজম রসগুলো পাতলা হয়ে যায়। ফলে হজমে অসুবিধা হয়। তাই খাওয়ার অন্তত এক ঘন্টা পর পানি পান করুন। সবশেষে আল্লাহর রাসূল সা:-এর কথা স্মরণ করতে পারি- ‘তোমরা খাওয়ার সময় পাকস্থলীর এক ভাগ পূরণ করবে খাদ্য দিয়ে, আরেক ভাগ পানি দিয়ে এবং এক ভাগ খালি রাখবে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণের জন্য, তাহলে সুস্থ থাকবে। এক জার্মান গবেষক এই কথা পরীক্ষা ও গবেষণা করে সম্পূর্ণ বিজ্ঞান ও যুক্তিসঙ্গত বলে মন্তব্য করেছেন। আসুন ঈদের আনন্দে ইচ্ছেমত গা ভাসিয়ে না দিয়ে ত্যাগের মহিমায় জীবনকে আলোকিত করি এবং পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করে সুস্থ্য থাকি।

শিক্ষক-কলামিস্ট, মোবা: ০১৭১৬-২৭০১২০।

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন