শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮, ২৪ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

রাজধানীর ৮০ শতাংশ ভবনে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই: তাকসিম এ খান

পানি উত্তোলন ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ঢাকা ওয়াসায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঢাকা ওয়াসা জিরো টলারেন্স

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৫ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০২ এএম

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান বলেছেন, পরিবেশবান্ধব, পটকসই ও গণমুখী পানি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির আওতাড নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ৬৭ ভাগ পানি ভূ-গর্ভস্থ উৎস তথা গভীর নলকূপ থেকে আসছে। ২০২৩ সাল নাগাদ ঢাকা শহরে সরবরাহ করা পানির ৭০ ভাগ আসবে ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস থেকে আর অবশিষ্ট ৩০ ভাগ ভূ-গর্ভস্থ তথা গভীর নলকূপ থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। ঢাকা শহরের ৮০ ভাগ আবাসিক-বাণিজ্যিক ভবনে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ওয়াসা ভবনে ঢাকা ওয়াসার চলমান কার্যক্রম নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সেবা সংস্থাগুলোর বার্ষিক কর্মসম্পাদনের তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে ঢাকা ওয়াসা। বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (২০২০-২১ অর্থবছর) ঢাকা ওয়াসা সরকারি কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০টি দপ্তর, সংস্থা, সিটি করপোরেশনের মধ্যে প্রথম স্থান লাভ করেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তির প্রতিবেদন ও প্রমানকসমূহ মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের বিপরীতে ঢাকা ওয়াসা ৯৮.২৭ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে। গত অর্থ বছরে ঢাকা ওয়াসা তৃতীয় স্থান লাভ করেছিল এবং তার আগের বছর আমরা প্রথম হয়েছিলাম। এ মূল্যায়ন ঢাকা ওয়াসা’র সার্বিক কাজের অগ্রগতির একটি বড় সূচক।
সাংবাদিকের একন প্রশ্নের জবাবে ওয়াসার এমডি বলেন, রাজউক আইনে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিধান রয়েছে। কিন্তু ঢাকার মাত্র ২০ শতাংশ ভবনে রয়েছে এই ব্যবস্থা। বাকি ভবনগুলো সিটি করপোরেশনের নালায় সরাসরি সংযোগ দেওয়া। তাদের ছয় মাসের সময় দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এই সময়ের মধ্যে তা না করলে এই নালাগুলো বন্ধ করে দেবে ডিএনসিসি। তিনি বলেন, এই অব্যবস্থাপনা দূর করতে রাজধানীর দাসেরকান্দি, উত্তরা, রায়েরবাজার, মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জের পাগলায় পৃথক পাঁচটি প্লান্ট স্থাপনের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দাসেরকান্দির কাজ শেষ পর্যায়ে। ২০২৩ সালের মধ্যে এগুলো বাস্তবায়ন হলে খাল-নদী দূষণমুক্ত হবে। ঢাকা ওয়াসার মূল লক্ষ্য পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও গণমুখী পানি ব্যবস্থাপনায় আওতায় নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তারই পরিক্রমায় ঢাকা ওয়াসা আজ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি রোল মডেল। বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার দৈনিক পানি উত্তোলন ও উৎপাদন সক্ষমতা ২৭০-২৭৫ কোটি লিটার এবং দৈনিক ২৬০-২৬৫ কোটি লিটার পানির চাহিদার পুরোটাই ঢাকা ওয়াসা সরবরাহ করছে। বর্তমানে ওয়াসার মোট উৎপাদিত পানির শতকরা ৩৩ ভাগ ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়।
তাকসিম এ খান বলেন, ৬৭ ভাগ পানি ভূ-গর্ভস্থ উৎস তথা গভীর নলকূপ হতে আসছে। ২০২৩ সাল নাগাদ ঢাকা শহরে সরবরাহ করা পানির ৭০ ভাগ আসবে ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস থেকে। অবশিষ্ট ৩০ ভাগ ভূ-গর্ভস্থ তথা গভীর নলকূপ থেকে। ঢাকা শহরে মোট ১৪৫টি ডিএমএ’র মধ্যে এ পর্যন্ত ৭১টি ডিএমএ স্থাপন করা হয়েছে। বাকি ডিএমএগুলোর কাজ চলমান আছে, যা আগামী ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হবে। ডিএমএ হলো এলাকাভিত্তিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি আধুনিক পদ্ধতি। কোনো এলাকায় পানির স্বল্পতা দেখা দিলে পার্শ্ববর্তী ডিএমএ হতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি আন হয়। আর পানি উদ্ধৃত্ত হলে পার্শ্ববর্তী ডিএমএতে পানি সরবরাহ করা হয়।
ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার নির্মাণ প্রকল্প, ফেজ-৩ এর প্রস্তুতুতিমূলক কাজ এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পানি শোধন করে নগরীতে সরবরাহ করা হবে। এডিবি, এএফডি, ইআইবি এবং কেএফ ডবিøউ’র আর্থিক সহায়তায় মেঘনা নদী থেকে পানি এনে শোধনের জন্য গন্ধবপুর পানি শোধনাগার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে নগরীতে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হবে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে ঢাকা ওয়াসাকে আরো গতিশীল ও গ্রাহকবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গগে তুলতে ২০১০ সাল থেকে ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির মুল লক্ষ্য রাজধানীর পানির চাহিদা ও পয়:সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং স্বল্পতম সময়ে গ্রাহকের সেবার প্রদান নিশ্চিতকরণ। তারই পরিক্রমায় ঢাকা ওয়াসা আজ ডিজিটাল ওয়াসা’য় পরিনত হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঢাকা ওয়াসা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রাহক সেবা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ঢাকা ওয়াসার এমডি বলেন, পানির ডিস্টিবিউশন নেটওয়ার্ক আমরা হাতে নিয়েছি। এটা অনেক বড় কাজ। ঢাকার শহরের পানি সরবরাহের পুরো পদ্ধতি পরিবর্তন করে ডিএমএ প্রকল্প হাতে নিয়েছি। বিশ্বের অনেক দেশ এত বড় কাজ হাতে নিতে চায়নি। আমরা বেশ খানিকরা নাগরিক সমস্যা সমাধান করছি। সিস্টেম লসের বিষয়ে তিনি বলেন, সিস্টেম লস দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ৩৫ শতাংশ। কোনো কোনো দেশে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। আমাদের যাত্রার সময় ৩৫ শতাংশ ছিল। ডিএমএ করার পর ৫%, ৬% এমনকি কোথাও ১%। আন্তর্জাতিক মানদন্ডে ২৫ শতাংশটা সন্তোষজনক। তবে আমরা অনেক আগেই এর নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশে সিঙ্গে ডিজিটে সিস্টেম লস নেই। আমাদের সম্পূর্ণ ডিএমএ হলে পানির কোনো সমস্যা থাকার কথা না। কোয়ালিটি নিশ্চিত হবে।
ওয়াসার সমবায় সমিতির দুনীতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমডি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঢাকা ওয়াসা জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করছে। তবে সমবায় সমিতির দুর্নীতিবাজদের ধরতে পুলিশের সাবেক একজন এআইজি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, মো. আবুল কাশেম পরিচালক (উন্নয়ন), উত্তম কুমার,শারমিন হক আমীর এবং নিশাদ মজুমদার।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
ইউসুফ আলী আহসান ৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ১১:১৩ পিএম says : 0
পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা মানে কি? খবরটির কিছুই বুঝতে পারলাম না। ইদানীং হিন্দুদের মত এত বেশি সংস্কৃত শব্দ ব্যবহার করেন, কিছুই বুঝতে পারি না। রবির সংস্কৃত মেশানো বাংলা ভাষায় না লিখে নজরুলের বাংলা ভাষায় লিখুন প্লিজ।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন