শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৬ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি রক্তের : কৃষিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০৩ এএম

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক তার ভিত্তি হচ্ছে রক্ত। আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধে তারাও রক্ত দিয়েছে। এ সম্পর্কের ভিত্তি হলো এটি। তবে অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে।

গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ-ভারত স¤প্রীতি পরিষদের বিশেষ সাধারণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ড. ফজলে আলীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ড. নীম চন্দ্র ভৌমিক। এ সময় সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবু বাসুদেব ধর, বীর মুক্তিযোদ্ধা সালাউদ্দিন, ডা. আব্দুস সালাম প্রমুখ।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ভৌগলিক, রাজনৈতিক নানা কারণে সেটাকে আমরা সম্মান দেখাই। সৌদি আরবের সঙ্গেও ইসলামিক দেশ হিসেবে সুসম্পর্ক রয়েছে। বঙ্গবন্ধু বলেছেন পৃথিবীর সব দেশের সঙ্গে আমরা সুসম্পর্ক রাখব। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও ভারতের জনগণ যে অবদান রেখেছে এটা আমরা সব সময় মূল্যায়ন করি এবং সর্বোচ্চ স্থান দেই। এই সম্পর্কের ভিত্তি রক্তের।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকেই বাংলাদেশকে আবার পেছনের দিকে, ১৯৪৭ সালের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় এসে ইতিহাস বিকৃত করে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করেছিল। দুটি সামরিক সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে ইতিহাসকে বিকৃত করে। ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন ছিল, যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল সেগুলো আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও মাত্র সাড়ে তিন বছরে বঙ্গবন্ধু লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করতে পারেননি। তবে আজকে আমরা আনন্দিত, কারণ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন আজ বাস্তবায়নের পথে। আগে দেশের মোট বাজেটের ১৫ ভাগ আসত বিদেশি সাহায্য থেকে, এখন এটি ২ ভাগে নেমে এসেছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছি ৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ করে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর কৃষককে প্রণোদনা দিচ্ছি ৯ হাজার কোটি টাকা। সারা বিশ্বে সারের দাম বেড়েছে, অথচ আমরা বাড়াইনি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমি কোনো সারের দাম বাড়াব না। ফলে এ বছর আমাদের ৩০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দিতে হবে। পৃথিবীর কোনো দেশে পণ্য উৎপাদনে কৃষকদের এতো সহযোগিতা দেওয়া হয় না। আজকে সামাজিক, অর্থনৈতিক, ভৗতকাঠামোর প্রতিটি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে। ফলে অর্থনীতিবিদসহ অনেক রাজনৈতিক নেতারা বাংলাদেশে আসেন আমাদের উন্নয়নের গল্প শোনার জন্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা পৃথিবীকে দেখিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ ভিক্ষুকের জাতি না, বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ। আমরা কোনো আলাদিনের চেরাগ পাইনি, পেয়েছি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হয়েছে। সেখানে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, রাস্তাঘাট সব কিছু থাকবে, শুধু একজন এসে শিল্প গড়বে। আমাদের লাখ লাখ ছেলে-মেয়ে বেকার, তাদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। যদি শিল্পায়ন না করতে পারি, তাহলে চাকরি হবে না। কাজেই এ সরকারের লক্ষ্য হলো শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। যাতে মাথা পিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান বাড়ে। আমরা উন্নয়নের মহাসড়কে দেশকে সম্পৃক্ত করেছি এ ধারা অব্যাহত রাখার জন্য এ অঞ্চলে স¤প্রীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন