মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ১১ মাঘ ১৪২৮, ২১ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

পোশাক খাতে কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে অংশীজন যুক্ত করুন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১২ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০১ এএম

পোশাকশিল্পের জন্য বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সমন্বিত আচরণবিধি প্রণয়নের উদ্যোগের সংবাদে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে কার্যকর একটি আচরণবিধি প্রণয়নে তৈরি পোশাক খাতের কর্মী ও শ্রমিক সংগঠন, নিরাপদ ও অধিকারভিত্তিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে কর্মরত গবেষণা ও সামাজিক সংগঠনসহ সব অংশীজনকে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ পরামর্শ দেয় টিআইবি।

এর আগে গত রোববার রাজধানীর গুলশানের বিজিএমইএ পিআর অফিসে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ’র নেতারা ইউনিফায়েড কোড অব কন্ডাক্ট বা সমন্বিত আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা করেন এবং যৌথ কমিটি গঠন করেন। পোশাকশিল্প মালিকরা জানান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একাধিক অডিট সম্পাদনে সময় ও অর্থের অপচয় হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অডিট প্রক্রিয়া জটিল হয়। এ কারণে পোশাক কারখানায় অডিট করতে প্রটোকলগুলোকে একত্রিত করার আহ্বান দিন দিন জোরালো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ পোশাকশিল্পের জন্য ইউনিফায়েড কোড অব কন্ডাক্ট প্রণয়নে কমিটি গঠন করেছে।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, তৈরি পোশাক খাতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে দেশি-বিদেশি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে রানা প্লাজা দুর্ঘটনা পরবর্তী ভাবমূর্তি সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পেরেছে। যদিও এ খাতে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি অর্জনে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। এমন বাস্তবতায় একটি ইউনিফায়েড কোড অব কন্ডাক্ট বা সমন্বিত আচরণবিধি প্রণয়নে এই খাতের শীর্ষ দুই সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ’র যৌথ উদ্যোগ একটি সময়োচিত পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, স্থানীয় আইন, বিধি ও নীতিমালা এবং জাতিসংঘের ব্যবসা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত নীতি পরামর্শসহ (ইউএনজিপি) ক্রেতাদের কোড অব কন্ডাক্ট এবং থার্ড পার্টি অডিট প্রটোকলসমূহ পর্যালোচনার পাশাপাশি শ্রমিক অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণসহ এ খাত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সকল অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে একটি সমন্বিত আচরণবিধি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা গেলে এটি যেমন খাতের কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে তেমনি বিশ্বমঞ্চে একটি উদাহরণও তৈরি করা সম্ভব হবে।

ড. ইফতেখার বলেন, এ ধরনের আচরণবিধি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলে বর্ণিত ‘দায়বদ্ধ ও গণমুখী খাত’ হিসেবে দেশের পোশাকশিল্পকে গড়ে তোলার প্রত্যয় ও নির্দেশকের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা উচিত। এ উদ্যোগকে নিছক আনুষ্ঠানিকতা থেকে উত্তীর্ণ করে যথাযথ কার্যকর করে তুলতে হলে এই আচরণবিধি প্রণয়ণের প্রক্রিয়ায় সরকার, শ্রমিক সংগঠন, শ্রমিক অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্মরত নাগরিক সংগঠন ও গবেষণা সংস্থার প্রতিনিধিসহ সকল অংশীজনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

‘তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন: অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক টিআইবির পূর্ববর্তী গবেষণা প্রতিবেদনের সূত্র ধরে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সকল অংশীজনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে পারলে প্রস্তাবিত আচরণবিধি তৈরি পোশাকখাতে আইন প্রয়োগ, ব্যবসাবান্ধব নীতি সহায়তা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও কারখানার নিরাপত্তা বৃদ্ধি, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, শ্রমিক অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং শুদ্ধাচার চর্চার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো দূর করতে সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাকখাতে শ্রমিক অধিকার বিশেষ করে মজুরি, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, ছুটি ইত্যাদি ক্ষেত্রে শ্রমিকের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভয়-ভীতিহীন শান্তিপূর্ণ শ্রমপরিবেশ সৃষ্টি করা; সাব-কন্ট্রাক্টনির্ভর ও ক্ষুদ্র কারখানার কমপ্লায়েন্সের আওতায় আনা, শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার তৈরি এবং সার্বিকভাবে খাতটিতে সুশাসন নিশ্চিতে তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য একক কর্তৃপক্ষ গঠনের মতো বিষয়গুলো বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হবে বলেও প্রত্যাশা করে টিআইবি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন