বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

শারীরিক উচ্চতা মাপকাঠি নয় ভোটারদের কাছে

ষষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচন

কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ২৩ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০৫ এএম

কুড়িগ্রামে ২৮ইঞ্চি উচ্চতা এক সদস্য প্রার্থী হওয়ায় জেলায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শারীরিক উচ্চতায় ছোট হলেও নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালাচ্ছেন অন্য প্রার্থীদের মতই। তবে ভোটারদের কাছে উচ্চতা নয়, যোগ্যতাই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শারীরিক উচ্চতা মাপকাটি নয় ভোটারদের কাছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ষষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচন। এই নির্বাচনে ২৮ইঞ্চি উচ্চতার সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোশারফ হোসেন মশু। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তার নির্বাচনী এলাকায় ভোটাররাই নিজেদের টাকা দিয়ে মশু’র নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। স্থানীয় সুধিমহল বলেছেন,মশু নির্বাচিত হলে পুলিৎজার পুরস্কার জয়ী আমেরিকান লেখিকা মার্জোরি কিনান রাওলিংসের লেখা ‘এ মাদার ইন ম্যানভিল’ গল্পের ‘সাইজ ডাজ নট ম্যাটার’ উক্তিই জয়ী হবে।

হরমুজ আলীর ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছাব্বিশ বছর বয়সী মোশাররফ হোসেন মশু। তিনি ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে বাগভাণ্ডার কদমতলা গ্রামের বাসিন্দা। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তিনি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ হবার পর ভ্যানগাড়ি প্রতীক পেয়েছেন। অনেকেই ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়ে সাধারণ মানুষের কথা ভুলে যায় মেলে না কাঙ্খিত সেবা। এছাড়াও প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়। সে যেন সমাজের মূলধারায় আসতে পারে তাই এলাকাবাসী মশুকে প্রার্থী করেছেন নিজ উদ্যোগে। ফলে এবার একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মশুর ছোট কাঁধে জনসেবার গুরু দায়িত্ব তুলে দিতে চান ভোটাররা। মশু নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও কেউ ঠাট্টা-বিদ্রুপ করছে না। বাগভান্ডার কদমতলা এলাকার তালেব বলেন,একজন দরিদ্রের কষ্ট অন্য দরিদ্রই ভালো বোঝেন। তাই আমরা মশুকে মেম্বার প্রার্থী করেছি। এখন মানুষ যাকে ভালোবাসবে তাকেই ভোট দিবেন। ভোটার রেশমা বেগম বলেন,লম্বা-ভুড়িওলা মানুষকে তো ভোট দিয়া দেখছি। এবার খাটো মানুষ দাঁড়িয়েছেন তাতে কি হইছে। যোগ্য ব্যক্তিকেই ভোট দেবো। লিটন মিয়া বলেন,হামগো ভোটারের কাছে প্রার্থী খাটো কি লম্বা কি? সাইজ দেহি তো ভোট দিবাইন নই।
যোগ্য দেখিয়া ভোটটা দিমু। লিপি বেগম বলেন,মশুর মা বেচে নেই। এতিম দরিদ্র ছেলে। এলাকাবাসী ভালোবেসে তাকে প্রার্থী করছি। মশুর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনার পোস্টার,লিফলেটসহ সব খরচই এলাকার মানুষ দেই। এলা দেখি ৩১তারিখের ভোটে কি হয়?
সাধারণ সদস্য প্রার্থী মোশারফ হোসেন মশু বলেন,আমি নির্বাচন করবো এমন চিন্তা ছিল না। এলাকার মানুষই আমাকে ভোটে দাঁড় করিয়েছে। তাই নির্বাচিত হলে জনসেবার মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের আস্থার প্রতিদান দিতে চাই। গরিবের হক বিনা পয়সায় গরিবদের ঘরে পৌঁছে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ তিনি।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুল মোত্তালেব বলেন, আমরা অন্য প্রার্থীরাও তাকে হেয় বা ছোট করে না দেখে প্রকৃত প্রতিদ্বদ্বী প্রার্থী হিসেবে গণ্য করে মাঠে প্রচারণা করছি। এখন ভোটাররা যাকে ভালোবাসে এবং যোগ্য মনে করবে তাকেই ভোট দিবে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন,নির্বাচনে অংশ নেবার সমান অধিকার প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে। সবাই বিধি মোতাবেক নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কোথাও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়নি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন