বৃহস্পিতবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ০৩ ভাদ্র ১৪২৯, ১৯ মুহাররম ১৪৪৪

খেলাধুলা

ম্যারাডোনা পেরেছিলেন, মেসিও পারলেন

ইমরান মাহমুদ | প্রকাশের সময় : ৩ জুন, ২০২২, ১২:০৪ এএম

১৯৯৩ সালে দুই মহাদেশের দুই চ্যাম্পিয়নের লড়াইয়ের দ্বিতীয় কিস্তিতেই মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-ডেনমার্ক। ম্যাচটিতে খেলেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা, গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা, ক্লদিও ক্যানিজিয়ার মতো তারকারা। এবার তাদের কেউই নেই। তবে সেই তিনটি জায়গার যোগ্য উত্তরসূরী হয়ে যেন ২৯ বছর পর হাজির লিওনেল মেসি, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া আর পাওলো দিবালারা। এবার কোপা আমেরিকাজয়ীদের প্রতিপক্ষ ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালি।
বছরখানেক আগে যে মাঠে ইউরো জয়ের উৎসব করেছিল ইতালি, সেখানে ফেরাটা রাঙাতে পারল না তারা। আক্রমণাত্মক ফুটবলে পুরোটা সময়ই আধিপত্য করল আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে জোড়া গোল করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধেও চাপ ধরে রাখল কোপা আমেরিকা জয়ীরা। ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের হারানোর মধ্য দিয়ে লিওনেল স্কালোনির দলের মুকুটে যোগ হলো নতুন পালক। গতপরশু রাতে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ‘ফিনালিসিমা’ নামের আলোচিত ম্যাচটি ৩-০ গোলে জিতে এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয় শিরোপা জিতল আর্জেন্টিনা। দুটি গোল হয় প্রথমার্ধে। লাউতারো মার্তিনেস দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডি মারিয়া। শেষ দিকে বদলি হিসেবে নেমে তৃতীয় গোলটি করেন দিবালা। সেদিন ম্যারাডোনারা পেরেছিলেন আজ পারলেন মেসিরাও।
গত বছরের জুলাইয়ে ব্রাজিলকে তাদের মাঠে হারিয়েই কোপা আমেরিকায় চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। তাদের ওই জয়োল্লাসের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বের আরেক প্রান্তে মাঠে গড়ায় ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। সেই লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ইউরো জয় করে ইতালি। সেদিনের সেই উৎসবের পর রবের্তো মানচিনির দল যেন হাঁটা ধরেছে পেছন পানে। আচমকা পথ হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হয় ইতালি। সেই ব্যর্থতা পেছনে ফেলে ম্যাচের আগের দিন নতুন শুরুর ঘোষণা দেন ইতালি অধিনায়ক লিওনার্দো বোনুচ্চি। আর্জেন্টিনাকে হারিয়েই শক্ত ভিত গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন; কিন্তু মাঠে তার প্রমাণ রাখতে পারলেন না মানচিনির শিষ্যরা।
জর্জো কিয়েল্লিনির শেষটা হলো তাই হতাশায়। এই ম্যাচ দিয়েই ইতালির হয়ে সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ১১৮ ম্যাচ খেলা এই ডিফেন্ডার।
আর আর্জেন্টিনা, তারা তো ছুটে চলেছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। এই জয়ই তার আরেক প্রমাণ। হতে পারে নামে-ভারে এই শিরোপার ওজন তেমন নয়। তবে বছরখানেক আগেও যেখানে চলছিল একটা শিরোপার জন্য হাহাকার, সেই দলটিই গত বছর কোপা আমেরিকা জিতে কাটায় ২৮ বছরের শিরোপা খরা। আর এবার জিতল বিশেষ এই ট্রফি। এই জয়ে দারুণ একটি রেকর্ডও গড়া হয়ে গেছে তাদের। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে কোনো ম্যাচ না হারা দলটি এই নিয়ে টানা ৩২ ম্যাচ অপরাজিত রইল। নিজেদের ইতিহাসে তাদের আগের রেকর্ড ছিল ৩১ ম্যাচের, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সালের মধ্যে করেছিল তারা।
ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ও কোপা আমেরিকা জয়ীর মধ্যে এমন ম্যাচের আয়োজন আগেও দুবার হয়েছে; ১৯৮৫ সালের প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্স জিতেছিল ২-০ গোলে আর অপরটির আলোচনাতো শুরুতেই হলো। সেই হিসেবে বলা যায়, ২৭ বছর পর হলেও বিশেষ লড়াইয়ের শিরোপা ধরে রাখল আর্জেন্টিনা। সেই সঙ্গে ইতালির সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়েও সমতা টানল তারা। সব মিলিয়ে এই নিয়ে ১৬ বার মুখোমুখি হলো ইতালি ও আর্জেন্টিনা। দুই দলেরই জয় ৬ বার করে, বাকি ৪ ম্যাচ ড্র। আর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাদের সবশেষ দেখা হয়েছিল ১৯৯০ বিশ্বকাপ সেমি-ফাইনালে। সেবার ১-১ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এবারের জয়টি তাই বিশেষ কিছু। দলের জন্য তো বটেই, মেসির জন্যও।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি ট্রফির জন্য কতোই না হাহাকার করেছেন মেসি। তিন তিনটি ফাইনাল হারের পর অবশেষে গত বছর কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে গেঁড়ো খোলে তার। এর ১০ মাস পার না হতেই হাতে ওঠে আরেকটি ট্রফি। তবে ফিনালিসিমার সে ম্যাচ জয়ের পর তাকে কোপা আমেরিকা ট্রফির একটি রেপ্লিকা উপহার দিয়েছে ল্যাতিন আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল।
ম্যাচ শিরোপা উদযাপনের পর মেসিকে চমকে দেন কনমেবল প্রেসিডেন্ট আলেহান্দ্রো ডোমিঙ্গুয়েজ। কোপা আমেরিকার একটি ট্রফি নিয়ে হাজির। যা শুধুই মেসির জন্য। হাতে তুলে দেন রেকর্ড সাতবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এ তারকার হাতে। গত বছর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের মাঠেই তাদের হারিয়ে এ শিরোপা জিতেছিলেন এ পিএজসি তারকা।
পরে সামাজিকমাধ্যমে আলবিসেলেস্তা অধিনায়কের সঙ্গে সেই ট্রফি সহ ছবি আপলোড করেছেন কনমেবল প্রেসিডেন্ট। আরও একটি ছবিতে ছিলেন চিকি তাপিয়াও। সেখানে ক্যাপশন দিয়ে লিখেছেন, ‘লিও মেসির হাতে কোপা আমেরিকার রেপ্লিকা তুলে দেওয়া অনেক আনন্দের ব্যাপার, যা সে সবশেষ আসরে আর্জেন্টিনার হয়ে জিতেছিল।’
ইতালির বিপক্ষে উচ্ছ্বসিত পারফরম্যান্সের পর আর্জেন্টিনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন ডমিঙ্গুয়েজ। এ ধারায় ফুটবল খেলতে থাকলে বিশ্বকাপেও ভালো কিছু হবে বলে মনে করেন তিনি, ‘আলবিসেলেস্তারা যদি এই ধরণের উচ্চ মানের ফুটবল চালিয়ে যায় তাহলের বিশ্বকাপেও তারা মূল চরিত্র হবে।’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন