বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৫ বৈশাখ ১৪৩১, ০৮ শাওয়াল ১৪৪৫ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ১০ ফিলিস্তিনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৭ জানুয়ারি, ২০২৩, ১০:১৪ এএম

অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি সেনাদের অভিযানে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। নিহতদের মধ্যে নারীও রয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার এ অভিযান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। খবর আলজাজিরা ও বিবিসির।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২২ সালের শুরু থেকে দখলকৃত পশ্চিম তীরে অভিযান জোরদার করে ইসরায়েল। গতকাল সকালে জেনিনের একটি শরণার্থী শিবিরে অভিযান চালায় দেশটির সেনা সদস্যরা। এ ঘটনায় এক বৃদ্ধ নারীসহ ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিয়ে ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালায়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অভিযান পরবর্তী পরিস্থিতি খুবই কঠিন। আমরা আহতদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি; কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনী অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসকদের কাজে বাধা দিচ্ছে।

জেনিন পাবলিক হাসপাতালের প্রধান উইসাম বেকার বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী এখানে যে আগ্রাসন চালিয়েছে, তা নজিরবিহীন। হতাহতের সংখ্যাও অনেক বেশি। আমাদের একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক মাটিতে পড়ে থাকা এক নিহতের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন; কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনী সরাসরি অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তারা চালককে নিহতের কাছে যেতে বাধা দেয়। এ ছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী হাসপাতালের দিকে টিয়ার গ্যাস ছোড়ে। গ্যাসভর্তি ক্যানিস্টারটি শিশু বিভাগের ভেতর পড়ে। এতে কয়েকজন শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সুস্পষ্ট করে কিছু না বললেও অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।

প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানান, গতকাল সকালে কয়েক ডজন সাঁজোয়া যান ও স্নাইপার নিয়ে জেনিনের শরণার্থী শিবিরে অভিযান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় তাদের একটি ‘গোপন বাহিনী’ ওই শিবিরে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তেই ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।
ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলিফ সাব্বাগ বলেন, জেনিনে ইসরায়েলের এই অভিযানকে একটি সংকেত হিসেবে দেখা উচিত। ইসরায়েল শিগগির এখানে বড় ধরনের অভিযান চালাবে। বৃহস্পতিবার অভিযান ছিল এর ভূমিকা মাত্র। ইসরায়েল যা করছে, তা নিয়ে আরব বা আন্তর্জাতিক মহল চুপ রয়েছে। তাদের এ নীরবতা ইসরায়েলকে অভিযান ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যেতে পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করছে। অভিযানে অ্যাম্বুলেন্স ও হাসপাতালগুলো লক্ষ্যবস্তু করা, আহতদের সাহায্যে বাধা দেওয়া, মাঠের হত্যাকাণ্ড এবং এর আগে শিরীন আবু আকলেহকে হত্যাÑ কোনো ঘটনারই জবাবদিহিতা নেই।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে পাঁচ শিশুসহ ২৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২২ সালে এ ধরনের অভিযানে ১৭০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (3)
ম নাছিরউদ্দীন শাহ ২৭ জানুয়ারি, ২০২৩, ৪:০৯ পিএম says : 0
ইসরাইলের বর্বরতা জঘন্যতম নিকৃষ্টতম হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমেরিকার অস্ত্রে অর্থে সজ্জিত ইহুদীদের ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডে মধ্য প্রার্চের আরব রাষ্ট্রগুলো আমেরিকার ভয়ের কারণে এবং নিজেদের ক্ষমতাই থাকার জন্যে নিরবতা পালন করছে। ইসরাইল ফিলিস্তিনের গাজা অবরোধ করে রেখেছেন মুসলমানদের প্রথম কেবলা অবরোদ্ধ বায়তুল মোকাদ্দেসে এরা প্রতিদিন অবমাননা করছে। গোটা ফিলিস্তিনের লক্ষ লক্ষ ঘর বাড়িতে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনের নারী শিশু বৃদ্ধা যুবক শহীদের রক্ত রঞ্জিত ক্ষতবিক্ষত। বিশ্বের মুসলমান নিরব কেন?? জাতীয় সংঘ ওআইসি আমেরিকার তাবেদারীতে চুপচাপ। শিরোনামের নিচে ফিলিস্তিনের অসহায় এই পিতার মর্মান্তিক হ্নদয় বিদারক অসহনীয় যন্ত্রণার ছবি মুসলমানদের হ্নদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আল্লাহ্ অসহায় মজলুম ফিলিস্তিন কে আপনি সাহায্য করুন। অসংখ্য নবীদের পবিত্র স্থানকে আপনি সাহায্য করুন। দীর্ঘ অদ‍্য শতাব্দী বেশী সময় আরবের পবিত্র মাঠিতে ইহুদীদের ভয়ানক জুলুম নির্যাতন বর্বরতার সিমা ছাড়িয়ে গেছে। আল্লাহ্ আপনি এদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের ঈমানের শক্তি দিয়ে সাহায্য করুন। আপনি মহাপরাক্রমশালী মহাকৌশলী আপনার সিদ্ধান্তের বাহিনী কিছুই অবশিষ্ট নেই। আপনার দয়াই আপনার করুনায় মানুষ বেচে আছেন। ইহুদী কাফের জালেমদের ভয়ানক শাস্তি দিন। আখেরাতের কঠোর কঠিন শাস্তি তাদের জন্যে নিদ্ধারিত আছে। ফিলিস্তিনের মানুষ আপনারা সুভাগ‍্যবান আল্লাহর অসংখ্য নবীদের পবিত্র স্থানের বাসিন্দা। শহীদের সম্মান মর্যাদা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত সম্মান মর্যাদার। ইনশাআল্লাহ আল্লাহর সাহায্য আসবেই। আখেরাতের খুব কাছেই আমাদের অবস্থান বিজলী ওয়ালা ইমাম মেহেদী (আঃ) আগমনের মধ্যেই ইসলামের বিজয় হবে। ইনশাআল্লাহ আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ প্রার্থনা আল্লাহ্ ফিলিস্তিনের মানুষ কে আপনি ধৈর্য্য ধারণ করার শক্তি দাও। আমিন।
Total Reply(0)
Md Mahir Jobayer ২৭ জানুয়ারি, ২০২৩, ১০:৪৯ এএম says : 1
আল্লাহ্ তোমার কুদরতি হাতে ইসরায়েল অমানুষ দের ধ্বংস করে দাও
Total Reply(0)
Masum Hossain ২৭ জানুয়ারি, ২০২৩, ১০:৫০ এএম says : 1
হে আল্লাহ মুসলমানদের তুমি হেফাজত করো
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন