ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

খেলাধুলা

পদকশূন্য তিন ডিসিপ্লিন, কর্মকর্তাদের নানা অযুহাত!

প্রকাশের সময় : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্পোর্টস রিপোর্টার : সদ্য সমাপ্ত গৌহাটি-শিলং সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসের ২২ ক্রীড়া ডিসিপ্লিনের মধ্যে বাংলাদেশ অংশ নেয় ২১টিতে। যার মধ্যে ১৮ ডিসিপ্লিনে লাল-সবুজরা কোন না কোন পদক জিতেছে। কিন্তু পুরোটাই ব্যর্থ হয়েছে তিনটিতে। এবারের এসএ গেমস থেকে একেবারেই খালি হাতে ফিরেছে বাংলাদেশের ভলিবল, সাইক্লিং ও টেনিস। কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে, বিদেশী কোচের অধীনে প্রশিক্ষণে থাকার পরও চরম ব্যর্থ হয়েছেন ভলিবল, সাইক্লিং ও টেনিসের খেলোয়াড়রা। কেন এমন ব্যর্থতা? এর উত্তরে নানা সমস্যার কথা বলে অযুহাত দেখিয়েছেন এই তিন ডিসিপ্লিনের কর্মকর্তারা। ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু বলেন, ‘গৌহাটি-শিলং এসএ গেমসে আমাদের পুরুষ ভলিবল দল অংশ নিলেও কোন পদক জিততে পারেনি। তবে একে ভরাডুবি বলা যাবে না। পদক না আসলেও আমাদের খেলার মানের উন্নতি হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এসএ গেমসে ভাল ফলের আশায় তিনমাস আগে ইরান থেকে কোচ আরজি পারমুসলিমোকে এনেছিলাম। তিনি ভালই প্রশিক্ষণ দিয়েছেন দলকে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। কারণ দক্ষিণ এশিয়ান ভলিবলে মূলত আফগানিস্তান, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান পরাশক্তি দেশ। এই দলগুলোর সঙ্গে একই গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ। যা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন লড়াই ছিল।’ মিকু যোগ করেন,‘ গেমসে আমরা ‘বি’ গ্রুপে খেলেছি। এই গ্রুপে একটি করে জয়ে সবার পয়েন্ট সমান ছিল। পাকিস্তানের সঙ্গে এক পয়েন্টে হেরে গিয়ে এক গেম পিছিয়ে পড়েছি বলেই কিন্তু আমরা সেমিফাইনাল খেলতে পারিনি। যদিও পাকিস্তান আফগানিস্তানকে হারিয়েছে। তবে হেরেছে মালদ্বীপের কাছে। আমি বলবো বাংলাদেশের ছেলেরা ভাল খেলেছে। ঢাকা এসএ গেমসে খুব খারাপ অবস্থায় ছিল বাংলাদেশের ভলিবল। কিন্তু এবার আমরা সাত দেশের মধ্যে আফগানিস্তানকে হারিয়ে পঞ্চম হয়েছি।’
এসএ গেমসের ১২তম আসরকে সামনে রেখে ডেমরা ও পূর্বাচল রোডে অনুশীলন শুরু করেছিলো বাংলাদেশ সাইক্লিং দল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় পড়ে সেই ক্যাম্প নিয়ে যাওয়া হয় দিনাজপুরের কয়লাখনি রোডে। সেখানে নিবিড় অনুশীলনও করেছেন সাইক্লিষ্টরা। কিন্তু তারপরও তাদের ভাগ্যে পদক জুটেনি। ঢাকা এসএ গেমসে ৮০ কিলোমিটার রোড টিম ট্রায়ালে একটি ব্রোঞ্জ জিতেছিল লাল-সবুজরা। এবার সেই খাতাও শূন্য। গৌহাটিতে দলের পারফরমেন্স নিয়ে সাইক্লিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ খান বাবুল বলেন, ‘দেশে আমরা সাধারণ মানের রোডে অনুশীলন করেছি। কিন্তু গৌহাটিতে গিয়ে সাইক্লিষ্টরা রেস করেছেন পাহাড়ি রাস্তায়। উঁচু-নীচু পথ। যাতে অভ্যস্ত ছিলেন না আমাদের সাইক্লিষ্টরা।’ তিনি আরো বলেন, ‘টাইমিং ভালো ছিল আমাদের। বিশেষ করে মেয়েদের ৮০ কিলোমিটার রোড রেসে এক সেকেন্ডোর চারভাগের এক ভাগ সময়ের জন্য আমরা ব্রোঞ্জপদক পাইনি। তাই চতুর্থ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।’
গৌহাটি-শিলং এসএ গেমসে বাংলাদেশ টেনিস দলের ম্যানেজার লুৎফর রহমান ছান্টু বলেন, ‘এবারের গেমসে অনেকগুলো ডিসিপ্লিনেই দলীয় ইভেন্ট থাকলেও টেনিসে তা ছিল না। পুরুষ ও মহিলা একক, দ্বৈত ও মিশ্র দ্বৈতের খেলা হয়েছে। কিন্তু দলীয় ইভেন্টে খেলা হয়নি। যার ফলে এককের পাঁচটি ইভেন্টের সবক’টিতেই স্বর্ণ ও রৌপ্যপদক জয় করেছে ভারত।’ তিনি আরো বলেন, ‘একক ইভেন্টে আফগানিস্তান, ভুটান ও নেপালকে হারিয়েও আমরা পদক জিততে পারিনি। যদি টিম ইভেন্ট থাকতো, তাহলে নিশ্চিত ব্রোঞ্জপদক পেতাম। কারণ টেনিসের টিম ইভেন্টেই বাংলাদেশ শক্তিশালী।’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন