ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

ইসলামী জীবন

দুর্নীতি দমনে রাসূল সা.-এর কর্মসূচি

প্রকাশের সময় : ১৫ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মনজুর হোসেন খান

॥ দুই ॥
‘অপরাধ’ বলতে শরীয়তের এমন আদেশ ও নিষেধ বুঝায় যা লঙ্ঘন করলে হদ্দ বা তা’যীর প্রযোজ্য হয়। দুর্নীতি একটি অপরাধ, যে সম্পর্কে আল্লাহ হদ্দ (বিধিবদ্ধ শাস্তি) অথবা তা’যীর (দ-বিধি) দ্বারা হুমকি প্রদান করেছেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে অভিশাপ এবং পরকালে জাহান্নামের শাস্তির ওয়াদা করা হয়েছে। শাস্তির মাত্রার দিক থেকে অপরাধ তিন প্রকার: যেসব অপরাধের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে শাস্তি নির্ধারিত। যেমন: যিনা (ব্যভিচার), যিনা এর মিথ্যা অপবাদ (কায্ফ), চুরি (সারাকা), ডাকাতি (কাতউত তারীক), মাদক গ্রহণ (শুরবুল খাম্র) এবং ইসলাম ধর্ম ত্যাগ (ইরতিদাদ); যেসব অপরাধের জন্য কিসাস (মৃত্যুদ- বা অঙ্গহানী) অথবা দিয়াত (রক্তপণ) নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন: ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত হত্যা এর অন্তর্ভূক্ত এবং আল্লাহ বা মানুষের অধিকার সংশ্লিষ্ট যেসব অপরাধের জন্য শরীয়ত নির্দিষ্ট কোন শাস্তি কিংবা কাফ্ফারা নির্ধারণ করে দেয়নি সে সব অপরাধের শাস্তিকে তা’যীর (অনির্ধারিত শাস্তি) বলে।
তা’যীর পর্যায়ের অপরাধগুলোর মধ্যে দুর্নীতিসমূহ অন্যতম। এর উদ্দেশ্যে হচ্ছে, অন্যায় অপকর্ম থেকে অপরাধীকে বিরত রাখা। মানুষের মৌলিক বিষয়সমূহের সংরক্ষণ; সমাজের সার্বিক কল্যাণ সাধন এবং অপরাধীকে পবিত্রকরণ। হুদুদ ও কিসাস জাতীয় কয়েকটি অপরাধ ছাড়া অবশিষ্ট সব অপরাধই তা’যীরী অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। যেহেতু দুর্নীতি তা’যীরের পর্যায়ের একটি অপরাধ সেহেতু এর শাস্তিও তা’যীরের অনুরূপ। তা’যীরা শাস্তি হচ্ছে: অপরাধের ভিন্নতার কারণে শাস্তির ভিন্নতা হবে। ইসলামী ফৌজদারী আইনের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী তা’যীরের আওতায় কাউকে হত্যা করা সমীচীন নয়। আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা এমন কাউকে বিনা অধিকারে হত্যা করো না, যার হত্যা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন”। “আল-কুরআন, ৬ : ১৫১” ইমাম ইবনু তাইমিয়া (রা.) বলেন, “বিপর্যয় সৃষ্টিকারী আক্রমণকারীর মতই। যদি আক্রমণকারী হত্যা ছাড়া অবদমিত না হয়, তাহলে তাকে হত্যা করা হবে”। বেত্রাঘাত করা, বন্দি করা, নির্বাসন বা দেশ থেকে বহিষ্কার, শূলে চড়ানো, উপদেশ বা তিরস্কার কিংবা ধমকদান, অপমান করা, বয়কট, আদালতে তলব, চাকরিচ্যুতকরণ, সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে রেদয়া, কাজ কারবারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, উপায় উপকরণ ও সম্পদ নষ্ট করা, সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং আর্থিক দ-ারোপ করা। “আল-কুরআন, ২ : ১৮৮” আল্লাহ বলেছেন, “আর তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের সম্পদ অবৈধ পদ্ধতিতে ভক্ষণ করো না এবং শাসকদের সামনেও এগুলোকে এমন কোন উদ্দেশ্যে পেশ করো না যার ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে তোমরা অন্যের সম্পদের কিছু অংশ খাওয়ার সুযোগ পেয়ে যাও।”
বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে গোটা বিশ্বকে একটি এষড়নধষ ঠরষষধমব মনে করা হয়। যার ফলশ্রুতিতে অপেক্ষাকৃত কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলো অধিক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর সংস্পর্শে এসে প্রতিযোগিতামূলক ভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। ওগঋ, ডড়ৎষফ ইধহশ, টঝঅ পলিসি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পাশাপাশি অনেক ঘএঙ দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন শুরু করেছে।
দুর্নীতিদমনে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়িত্ব-কর্তব্য, ভূমিকা ও আইনগত বাধ্যবাধকতা অনেক বেশি। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডা. মাহাথির মোহাম্মদ বলেছিলেন, “ঘুষ যদি টেবিলের উপরে উঠে যায় তা হলে আমার করণীয় কিছুই নেই, আর যদি নিচে থাকে তাহলে এক্ষুণি প্রতিরোধ করা সম্ভব”। বর্তমানে আমাদের জাতীয় জীবনে ঘুষ, দুর্নীতির অবস্থান কোথায় তা সহজেই অনুমেয়। দুর্নীতিমুক্ত পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ধর্মীয় আদর্শ ও মূল্যবোধ এবং তাকওয়ার (আল্লাহভীতি) ব্যাপক অনুশীলন হওয়া প্রয়োজন; ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনে দুর্নীতির ভয়াবহ পরিণতি ও কুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলা প্রয়োজন; রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন, এ ক্ষেত্রে সৎ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরির জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে সম্পূরক অধ্যায় চালু করা যেতে পারে; সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার মানদ- রক্ষা করা উচিত; এ বিষয়ে লিখিত অঙ্গিকারনামা ও মৌখিক শপথ নেয়া উচিত যে, তিনি কোন পর্যায়ে নিজেকে দুর্নীতির সাথে জড়াবেন না; রাজনৈতিক পক্ষপাত ও স্বজনপ্রীতি মুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা প্রয়োজন; সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পদমর্যাদা ও দ্রব্যমূল্য সামনে রেখে সম্মানজনক জীবন-জীবিকার উপযোগী বেতনভাতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন;
উল্লেখ্য সুইডেন, আর্জেটিনা, পেরু, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা জীবন-জীবিকার উপযোগী বলে সেখানে দুর্নীতি অনেক কম; সকল ক্ষেত্রে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন; সৎ, যোগ্য ও দক্ষ প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ অডিট ব্যবস্থা, স্বচ্ছ মনিটরিং পদ্ধতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চতকরণ এবং সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও তথ্য সংরক্ষণ; দুর্নীতি দমন কমিশনকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে এবং দুদককে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির ক্ষমতা দিতে হবে; জনপ্রতিনিধিদের ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মানসিকতার উন্নতি করতে হবে, যাতে দুর্নীতির মত ঘৃণ্য কাজকে ঘৃণার চোখেই দেখে এবং দুর্নীতি থেকে বিরত থেকে নিজেদেরকে মডেল হিসাবে উপস্থাপন করতে হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে; দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র ও প্রশাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা। জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাইভেট চাকরিজীবী ও সাধারণ জনগণকে এ পরিকল্পনার অধীনে নিয়ে আসতে হবে এবং সকলকে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সততা ও নৈতিকতার আদর্শে উজ্জীবিত করতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রণীত কর্মসূচির সাথে আলেম-ওলামা, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং মসজিদের ইমাম ও খতবীগণকে সম্পৃক্ত করা এবং তাঁদের মাধ্যমে সমন্বিত উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি চালু করা; দুর্নীতি প্রবণতার কারণসমূহ উদঘাটন করে সে আলোকে প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা; সংবাদপত্রের আদর্শিক স্বাধীনতা দিতে হবে; প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে; ইসলামের শাস্তি বিধান (ইসলামী ফৌজদারী আইন) চালু করা; কুরআনে বর্ণিত দুর্নীতি প্রতিরোধের আয়াতসমূহের ব্যাপক প্রচার করা; দুর্নীতির ভয়াবহতা ও পরিণাম সম্বলিত হাদীসের ব্যাপক প্রচার করা; সর্বোপরি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় দুর্নীতি বিরোধী ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে আরো গণসচেতনতা ও জনমত সৃষ্টি করতে হবে।
নানা কারণে দুর্নীতি হতে পারে, কোন একক উপাদানকে দুর্নীতির কারণ বলে উল্লেখ করা যায় না। নিম্নে এর কারণগুলো বর্ণনা করা হলো- মানুষ ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক পরিবেশ থেকে নৈতিক মূল্যবোধের প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকে। যে জাতি ইসলামী শিক্ষায় তথা ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, যাদের তাকওয়া ও আখিরাতে জবাবদিহিতার বালাই নেই সে সমাজে দুর্নীতি সহজেই প্রবেশ করে। তার সাথে বাড়তে থাকে অনৈতিক কর্ম, দেখা দেয়

দুর্নীতি দমনে রাসূল সা.-এর কর্মসূচি
মনজুর হোসেন খান

॥ দুই ॥
‘অপরাধ’ বলতে শরীয়তের এমন আদেশ ও নিষেধ বুঝায় যা লঙ্ঘন করলে হদ্দ বা তা’যীর প্রযোজ্য হয়। দুর্নীতি একটি অপরাধ, যে সম্পর্কে আল্লাহ হদ্দ (বিধিবদ্ধ শাস্তি) অথবা তা’যীর (দ-বিধি) দ্বারা হুমকি প্রদান করেছেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে অভিশাপ এবং পরকালে জাহান্নামের শাস্তির ওয়াদা করা হয়েছে। শাস্তির মাত্রার দিক থেকে অপরাধ তিন প্রকার: যেসব অপরাধের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে শাস্তি নির্ধারিত। যেমন: যিনা (ব্যভিচার), যিনা এর মিথ্যা অপবাদ (কায্ফ), চুরি (সারাকা), ডাকাতি (কাতউত তারীক), মাদক গ্রহণ (শুরবুল খাম্র) এবং ইসলাম ধর্ম ত্যাগ (ইরতিদাদ); যেসব অপরাধের জন্য কিসাস (মৃত্যুদ- বা অঙ্গহানী) অথবা দিয়াত (রক্তপণ) নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন: ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত হত্যা এর অন্তর্ভূক্ত এবং আল্লাহ বা মানুষের অধিকার সংশ্লিষ্ট যেসব অপরাধের জন্য শরীয়ত নির্দিষ্ট কোন শাস্তি কিংবা কাফ্ফারা নির্ধারণ করে দেয়নি সে সব অপরাধের শাস্তিকে তা’যীর (অনির্ধারিত শাস্তি) বলে।
তা’যীর পর্যায়ের অপরাধগুলোর মধ্যে দুর্নীতিসমূহ অন্যতম। এর উদ্দেশ্যে হচ্ছে, অন্যায় অপকর্ম থেকে অপরাধীকে বিরত রাখা। মানুষের মৌলিক বিষয়সমূহের সংরক্ষণ; সমাজের সার্বিক কল্যাণ সাধন এবং অপরাধীকে পবিত্রকরণ। হুদুদ ও কিসাস জাতীয় কয়েকটি অপরাধ ছাড়া অবশিষ্ট সব অপরাধই তা’যীরী অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। যেহেতু দুর্নীতি তা’যীরের পর্যায়ের একটি অপরাধ সেহেতু এর শাস্তিও তা’যীরের অনুরূপ। তা’যীরা শাস্তি হচ্ছে: অপরাধের ভিন্নতার কারণে শাস্তির ভিন্নতা হবে। ইসলামী ফৌজদারী আইনের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী তা’যীরের আওতায় কাউকে হত্যা করা সমীচীন নয়। আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা এমন কাউকে বিনা অধিকারে হত্যা করো না, যার হত্যা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন”। “আল-কুরআন, ৬ : ১৫১” ইমাম ইবনু তাইমিয়া (রা.) বলেন, “বিপর্যয় সৃষ্টিকারী আক্রমণকারীর মতই। যদি আক্রমণকারী হত্যা ছাড়া অবদমিত না হয়, তাহলে তাকে হত্যা করা হবে”। বেত্রাঘাত করা, বন্দি করা, নির্বাসন বা দেশ থেকে বহিষ্কার, শূলে চড়ানো, উপদেশ বা তিরস্কার কিংবা ধমকদান, অপমান করা, বয়কট, আদালতে তলব, চাকরিচ্যুতকরণ, সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে রেদয়া, কাজ কারবারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, উপায় উপকরণ ও সম্পদ নষ্ট করা, সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং আর্থিক দ-ারোপ করা। “আল-কুরআন, ২ : ১৮৮” আল্লাহ বলেছেন, “আর তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের সম্পদ অবৈধ পদ্ধতিতে ভক্ষণ করো না এবং শাসকদের সামনেও এগুলোকে এমন কোন উদ্দেশ্যে পেশ করো না যার ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে তোমরা অন্যের সম্পদের কিছু অংশ খাওয়ার সুযোগ পেয়ে যাও।”
বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে গোটা বিশ্বকে একটি এষড়নধষ ঠরষষধমব মনে করা হয়। যার ফলশ্রুতিতে অপেক্ষাকৃত কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলো অধিক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর সংস্পর্শে এসে প্রতিযোগিতামূলক ভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। ওগঋ, ডড়ৎষফ ইধহশ, টঝঅ পলিসি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পাশাপাশি অনেক ঘএঙ দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন শুরু করেছে।
দুর্নীতিদমনে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়িত্ব-কর্তব্য, ভূমিকা ও আইনগত বাধ্যবাধকতা অনেক বেশি। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডা. মাহাথির মোহাম্মদ বলেছিলেন, “ঘুষ যদি টেবিলের উপরে উঠে যায় তা হলে আমার করণীয় কিছুই নেই, আর যদি নিচে থাকে তাহলে এক্ষুণি প্রতিরোধ করা সম্ভব”। বর্তমানে আমাদের জাতীয় জীবনে ঘুষ, দুর্নীতির অবস্থান কোথায় তা সহজেই অনুমেয়। দুর্নীতিমুক্ত পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ধর্মীয় আদর্শ ও মূল্যবোধ এবং তাকওয়ার (আল্লাহভীতি) ব্যাপক অনুশীলন হওয়া প্রয়োজন; ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনে দুর্নীতির ভয়াবহ পরিণতি ও কুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলা প্রয়োজন; রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন, এ ক্ষেত্রে সৎ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরির জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে সম্পূরক অধ্যায় চালু করা যেতে পারে; সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার মানদ- রক্ষা করা উচিত; এ বিষয়ে লিখিত অঙ্গিকারনামা ও মৌখিক শপথ নেয়া উচিত যে, তিনি কোন পর্যায়ে নিজেকে দুর্নীতির সাথে জড়াবেন না; রাজনৈতিক পক্ষপাত ও স্বজনপ্রীতি মুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা প্রয়োজন; সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পদমর্যাদা ও দ্রব্যমূল্য সামনে রেখে সম্মানজনক জীবন-জীবিকার উপযোগী বেতনভাতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন;
উল্লেখ্য সুইডেন, আর্জেটিনা, পেরু, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা জীবন-জীবিকার উপযোগী বলে সেখানে দুর্নীতি অনেক কম; সকল ক্ষেত্রে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন; সৎ, যোগ্য ও দক্ষ প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ অডিট ব্যবস্থা, স্বচ্ছ মনিটরিং পদ্ধতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চতকরণ এবং সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও তথ্য সংরক্ষণ; দুর্নীতি দমন কমিশনকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে এবং দুদককে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির ক্ষমতা দিতে হবে; জনপ্রতিনিধিদের ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মানসিকতার উন্নতি করতে হবে, যাতে দুর্নীতির মত ঘৃণ্য কাজকে ঘৃণার চোখেই দেখে এবং দুর্নীতি থেকে বিরত থেকে নিজেদেরকে মডেল হিসাবে উপস্থাপন করতে হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে; দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র ও প্রশাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা। জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাইভেট চাকরিজীবী ও সাধারণ জনগণকে এ পরিকল্পনার অধীনে নিয়ে আসতে হবে এবং সকলকে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সততা ও নৈতিকতার আদর্শে উজ্জীবিত করতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রণীত কর্মসূচির সাথে আলেম-ওলামা, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং মসজিদের ইমাম ও খতবীগণকে সম্পৃক্ত করা এবং তাঁদের মাধ্যমে সমন্বিত উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি চালু করা; দুর্নীতি প্রবণতার কারণসমূহ উদঘাটন করে সে আলোকে প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা; সংবাদপত্রের আদর্শিক স্বাধীনতা দিতে হবে; প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে; ইসলামের শাস্তি বিধান (ইসলামী ফৌজদারী আইন) চালু করা; কুরআনে বর্ণিত দুর্নীতি প্রতিরোধের আয়াতসমূহের ব্যাপক প্রচার করা; দুর্নীতির ভয়াবহতা ও পরিণাম সম্বলিত হাদীসের ব্যাপক প্রচার করা; সর্বোপরি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় দুর্নীতি বিরোধী ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে আরো গণসচেতনতা ও জনমত সৃষ্টি করতে হবে।
নানা কারণে দুর্নীতি হতে পারে, কোন একক উপাদানকে দুর্নীতির কারণ বলে উল্লেখ করা যায় না। নিম্নে এর কারণগুলো বর্ণনা করা হলো- মানুষ ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক পরিবেশ থেকে নৈতিক মূল্যবোধের প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকে। যে জাতি ইসলামী শিক্ষায় তথা ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, যাদের তাকওয়া ও আখিরাতে জবাবদিহিতার বালাই নেই সে সমাজে দুর্নীতি সহজেই প্রবেশ করে। তার সাথে বাড়তে থাকে অনৈতিক কর্ম, দেখা দেয় হানাহানি, মারামারি ইত্যাকার বিষয়।
সমাজ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। সামাজিক অবস্থা পরিবর্তনের কারণে সামাজিক মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটছে। সময় সময় সামাজিক অবস্থার প্রচ- পরিবর্তনের চাপে মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তার ভাব জন্মায়। এরূপ অনিশ্চয়তা হতে রক্ষার জন্য মানুষ বৈধ বা অবৈধ যে কোন উপায়েই হোক না কেন টাকা-পয়সা ও ধন-সম্পদ অর্জন করতে চায়। ফলে দুর্নীতির জন্ম হয়।
অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতা জনগণের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা লাভের পরই নিঃসংকোচে অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেরা অবৈধ উপায়ে সুবিধা লাভে লিপ্ত হয় এবং কখনো কখনো একে দূষণীয় মনে না করে যেন অধিকার মনে করে।

হানাহানি, মারামারি ইত্যাকার বিষয়।
সমাজ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। সামাজিক অবস্থা পরিবর্তনের কারণে সামাজিক মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটছে। সময় সময় সামাজিক অবস্থার প্রচ- পরিবর্তনের চাপে মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তার ভাব জন্মায়। এরূপ অনিশ্চয়তা হতে রক্ষার জন্য মানুষ বৈধ বা অবৈধ যে কোন উপায়েই হোক না কেন টাকা-পয়সা ও ধন-সম্পদ অর্জন করতে চায়। ফলে দুর্নীতির জন্ম হয়।
অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতা জনগণের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা লাভের পরই নিঃসংকোচে অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেরা অবৈধ উপায়ে সুবিধা লাভে লিপ্ত হয় এবং কখনো কখনো একে দূষণীয় মনে না করে যেন অধিকার মনে করে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন