শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

পর্যটন শিল্প বিকাশে ধীরগতি

খুলনা-নলিয়ান-সুন্দরবনের সড়ক ব্যবস্থা অনুন্নত

আবু হেনা মুক্তি | প্রকাশের সময় : ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের অনিন্দ্য সুন্দর প্রাকৃতিক রূপ পিপাসুদের পিপাসা মিটছে না। সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্রে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত থাকায় সরকারও হারাচ্ছে রাজস্ব। আর সম্ভাবনাময় খাতটি পড়ছে হুমকির মুখে। যে কারণে সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প বিকাশে ধীর গতিতে অসন্তোষ ক্রমেই দানা বেঁধে উঠছে। সরকারের কাছে চাওয়া-পাওয়ার টানাপোড়নে অভিমানী হয়ে উঠছে এ অঞ্চলের মানুষ। নাগরিক কমিটির ব্যানারে নানা কর্মসূচিতে সোচ্চার সামজিক সংগঠনগুলো। অথচ খুলনা-নলিয়ান হয়ে সুন্দরবন পর্যাটন শিল্প বিকাশের সম্ভাবনাময় প্রকল্পটি এখনো পূর্ণাঙ্গতা পায়নি। প্রকল্পটি চলছে শম্ভুক গতিতে।
গত ৮ বছরে এ অঞ্চলের আমজনতা যে ভরসা করেছিল তার ছিঁটেফোটাও বাস্তবায়িত হয়নি। গত ১০ বছরে ঝপঝপিয়া নদীর ওপর পানখালি সেতু এবং দাকোপ সেতুর কোনটাই এখনও কাজ শুরু হয়নি। অথচ ৯৬ সালে এ আসন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তখনই নির্বাচনী ওয়াদায় ব্রিজ দুটি নির্মাণের কথা ছিল। যে কারণে সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প বিকাশের অমিত সম্ভাবনার পথটি একেবারেই রুদ্ধ হয়ে আছে। সুন্দরবনের পর্যটন শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সমন্বয় সংগ্রাম কমিটি অব্যাহত কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। কর্মবিরতিও চলেছে খুলনাজুড়ে। অথচ গত ৮ বছরে নগরীর গল্ল­ামারী থেকে দাকোপের নলিয়ান পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার সড়কের মাত্র সাড়ে ২৫ কিলোমিটার নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সুন্দরবনের পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি হাতে নেয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও তা কোন কাজে আসেনি। সুন্দরবন রক্ষা কমিটি এবং বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি বিভিন্ন সময় সরকার প্রধানসহ সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টি নিয়ে স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন করে। বাংলাদেশ পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটি এ ব্যাপারে নানামুখী কর্মসূচি হাতে নেয়। গতকাল বাপমাবাসো এর বটিয়াঘাটা উপজেলা কমিটি এক বিশেষ সভার আয়োজন করে। অধ্যাপক এনায়েত আলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাপমাবাসো’র সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শেখ আব্দুল হামিদ, রতন কুমার সাহা, নগেন্দ্রনাথ মন্ডল, বিবেক বিশ্বাস, সওদা বেগম, সুফিয়া বেগম ও তানিয়া বিশ্বাস প্রমুখ। বক্তরা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কৃত্রিম উপায় পর্যটন শিল্প গড়ে তুলে এগিয়ে চলেছে। সেখানে আমাদের দেশের এত বড় প্রাকৃতিক সম্পদ অবহেলায় ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে। একটু সুনজর দিলেই এই সুন্দরবন হয়ে উঠবে পর্যটনের অন্যতম খাত।
সূত্রমতে, দীর্ঘ ৭ বছর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ফাইল চালাচালির পর লাল ফিতার দৌরাত্ম থেকে মুক্তি মেলে প্রকল্পটির। তবে ৫৪ কি:মি: সড়কের মাত্র ২৫ কি:মি: অনুমোদন মেলে। এ ছাড়া খুলনা-নলিয়ানের মাঝে ঝপঝপিয়া ও দাকোপ ব্রিজের নির্মাণ সংক্রান্ত কোন অগ্রগতি হয়নি। এই ব্রিজ দু’টির নির্মাণ কাজ কবে শুরু হবে তারও কোন হদিস নেই। তবে অনুমোদনকৃত ২৫ কি.মি. কাজের জন্য ৭টি প্যাকেজে ৮২ কোটি টাকায় এ নির্মাণ কাজসম্পন্ন হবে। প্রকল্পটি এখন শেষের দিকে। কিন্তু পুরো সড়কটি নির্মাণ না হলে এলাকার পর্যটন শিল্প বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সড়কটি নির্মিত হলে দাকোপসহ খুলনার অর্থনীতির চাকা সচলে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের দাবি, সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের বিকাশের ক্ষেত্রে দাকোপ উপজেলার নলিয়ান একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখান থেকে সরাসরি সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এত অল্প সময়ে খুলনা থেকে সুন্দরবনের যাওয়ার অন্যকোন পথ নেই। নদীপথে খুলনা থেকে সুন্দরবনে যেতে সময় লাগে প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা। এ রোডটি নির্মাণ হলে সময় ও অর্থ বাঁচবে। এছাড়া নলিয়ান ও দাকোপে গড়ে উঠবে নতুন নতুন হোটেল ও রেস্টুরন্ট। স্থানীয় জনগণের আয়ের উৎস সৃষ্টি হবে। সরকারি সহায়তায় ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে উঠবে পর্যটন কেন্দ্র। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হলে খুব সহজেই আকৃষ্ট হবে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা।
সওজের সূত্র মতে, সওজ খুলনা দপ্তরের পাঠানো প্রথম প্রতিবেদনে গল্লামারী থেকে বটিয়াঘাটা হয়ে দাকোপের নলিয়ান পর্যন্ত মোট ৫৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও মেরামতে ১১৮ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাবনা এনে নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর পাঠানো হয়। তবে সেটির ত্রæটি উত্থাপন করে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর আরও একবার একই কারণে ফেরত আসে। তৃতীয়বারে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি টিম এসে ৫৪ কিলোমিটার রাস্তাটি ছাঁটাই করে মাত্র সাড়ে ২৫ কিলোমিটার করার পরামর্শ দেন। বাকি সাড়ে ২৮ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ ও মেরামত করা থেকে বাদ দেয়ার কারণ হিসেবে ওই টিম উল্লে­খ করেন, ঢাকি ও ঝপঝপিয়া নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ না হলে প্রস্তাবিত রাস্তা নির্মাণ ও মেরামত করা সম্ভব নয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন