ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৫ কার্তিক ১৪২৬, ২১ সফর ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চবি ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ : আহত ২৭ ব্যাপক ভাঙচুর

চবি সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৫ জানুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালিতে আগে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে গতকাল (বৃহস্পতিবার) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ২৭ জন আহত হয়েছেন। এর জের ধরে দু’টি আবাসিক হলে ১০টি কক্ষ ও দু’টি মোটর সাইকেল ভাঙচুর করেছে দুই পক্ষের কর্মীরা।
দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ^বিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে বিকাল তিনটা পর্যন্ত। এসময় পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা সাড়ে ১১টায় ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টে জড় হয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসময় সামনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয় এবং পরবর্তীতে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি মোঃ আলমগীর টিপু ও উপ-দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুলের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এ দু’টি গ্রুপই চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী। ক্যাম্পাসে তারা যথাক্রমে ভিএক্স ও সিক্সটি নাইন গ্রুপ নামে পরিচিত।
আহতরা হলেন- সিক্সটি নাইন গ্রুপের রয়েল চাকমা, মুগ্ধ, জয় বিশ^াস, আশিক, জিসান গাজী, মিল্টন, নাজমুল, আলিম, মিঠু, ফোরকান, আবীর, সায়ীদ, শাকিব, আবিরুল, শুভ ও ওবাইদুল। ভিএক্স গ্রুপের আহতরা হলেন- তানবীর আহম্মেদ রাজিব, নাজমুল সামির, খায়রুল আলম, রাহাত, ইমরান। সংঘর্ষের বিষয়ে চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতা মনসুর আলম বলেন, ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর র‌্যালিতে তাদের এক জুনিয়র আমাদের এক সিনিয়রের গায়ে হাত তোলে। আমরা প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের উপর ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। তারা নাছির ভাইয়ের অনুসারী হিসেবে পরিচিত থাকলেও তার আর্দশ ও শেখ হাসিনার আর্দশ লালন করেনা। আজকের এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বানচাল করার জন্য তারা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়। এ সময় তিনি বিশ^বিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নিয়াজ মোরশেদ রিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন নিয়াজ মোরশেদ রিপন ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশ দিয়ে আমাদের গ্রুপের কর্মীদের উপর নগ্ন হামলা চালায়।
অন্যদিকে চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির উপ-দপ্তর সম্পাদক ও ভিএক্স গ্রুপের নেতা মিজানুর রহমান বিপুল বলেন, সিক্সটি নাইন গ্রুপের কর্মীরা র‌্যালীতে দাঁড়ানো নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে আমাদের এক জুনিয়র কর্মীকে মারধর করে। মারধর করার পরে আমাদের মধ্যে হাতাহাতি হয় এবং আমরা হলে চলে আসি। পরে মনসুর, ইকবাল টিপুর নেতৃত্বে সোহরাওয়ার্দী হলের ৪টি কক্ষ ও শাহজালাল হলের ছয়টি কক্ষ ভাঙচুর করে তারা। নাজমুল নামের এক জুনিয়র কর্মীকে দায়ের উল্টা পিঠ দিয়ে বেধড়ক মারধর করে।
বিশ^বিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারের অফিসার ড. আবু তৈয়ব বলেন, কিছু শিক্ষার্থী আহত অবস্থায় এসেছিল তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নাজমুল সামি নামের একজন মাথায় আঘাত পায়, তার অবস্থা গুরুতর দেখে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ^বিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র বলেন, পুলিশ ও প্রক্টররিয়াল বডির উপস্থিতি বর্তমানে পডিরস্থিতি শান্ত আছে। যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, র‌্যালীতে দাঁড়ানো নিয়ে কথাকাটাকাটি নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।
সিলেটে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ গোলাগুলি
সিলেট অফিস জানায়, সিলেটে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে। এতে গোলাগুলি এবং ককটেল বিস্ফোরিত হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় সিলেট এম সি কলেজ ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নিতে টিলাগড়স্থ দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেখা দেয়। এরপর দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি করে বলে জানিয়েছেন শাহপরাণ থানার ওসি আখতার হোসেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ পর্যন্ত কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও গুরুতর আহত নয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দু’পক্ষই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এসময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। উল্লেখ্য, সুত্র জানায়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে টিলাগড়ের এমসি কলেজ ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ কলেজের ভিতরে অবস্থান করেছিল এবং অপর একটি গ্রুপ মিছিল সহকারে এমসি কলেজে ঢুকার চেষ্টা চালালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুশফিক জায়গীরদারের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একটি মিছিল এমসি কলেজে ঢুকার চেষ্টা করলে পুলিশী বাধায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তখন মিছিল সহ নেতাকর্মীরা ফিরে গেলেও কিছুক্ষণ পরে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আবার এমসি কলেজে ঢোকার চেষ্টা করলে ভিতরে থাকা অন্য গ্রুপের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে সংঘর্ষ শুরু হয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন